১১:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুন্দরবনে জেলের মৃত্যু, ছয় মাসে তিনজন

 

পশ্চিম সুন্দরবনে আবারও এক পেশাদার জেলের মৃত্যু সংবাদ শোকের ছায়া ফেলেছে। মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের সিংহড়তলী গ্রামের আব্দুস সাত্তার গাজী (৫৫) সোমবার দুপুরে কুকোমারি খালের মাঝনদীতে জাল ফেলতে গিয়ে হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন এবং মুহূর্তের মধ্যেই তার জীবনাবসান ঘটে। স্থানীয় জেলে ও বনজীবীদের মধ্যে এই খবর গভীর শোক সৃষ্টি করেছে।

 

নিহত সাত্তার গাজী দীর্ঘদিন ধরে পেশাদার জেলে হিসেবে কাজ করছিলেন। তিনি তার তিনজন সহযোগীর সঙ্গে কদমতলা স্টেশন থেকে পাশ কেটে সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিলেন। সহকর্মী জেলে খানজাহান আলী জানান, জাল ফেলতে গিয়ে হঠাৎ তিনি চিৎকার করে বুক ধরেন এবং নৌকার ভেতরে লুটিয়ে পড়েন। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রাণ হারান সাত্তার।

 

মরদেহ মঙ্গলবার গভীর রাতে বাড়িতে ফেরানো হয়। নিহতের দুই ছেলে, রাহুল ও বাবুল, কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানিয়েছেন, বাবার মৃত্যু হৃদরোগজনিত কারণে হয়েছে। তারা অভিযোগ করেছেন যে বনাঞ্চলে কোনো প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় এমন ঘটনা বারবার ঘটছে। টহলফাঁড়িতে জরুরি ওষুধ রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে তারা মনে করেন।

 

বনবিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে সাতক্ষীরা রেঞ্জে হৃদরোগজনিত কারণে তিনজন জেলের মৃত্যু ঘটেছে। মার্চে মারা গেছেন হরিপদ গাইন, সেপ্টেম্বরে খলিলুর রহমান, আর সর্বশেষ আব্দুস সাত্তার গাজী। কদমতলা স্টেশনের কর্মকর্তা সুলতান আহমেদ প্রাথমিকভাবে মৃত্যুকে হৃদরোগজনিত বলে উল্লেখ করেছেন। তবে বনবিভাগের কোনো আর্থিক সহায়তা বিধান নেই এমন মৃত্যুর জন্য।

 

সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে যাওয়া জেলেদের ঝুঁকি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। জরুরি চিকিৎসা সুবিধা ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকায় প্রতিটি মৃত্যু যেন শুধু পরিসংখ্যানে রূপান্তরিত হচ্ছে।

 

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বাকৃবির শহীদ শামসুল হক হলে বৃক্ষরোপণ

প্রবাসে মৃত্যুর ২৭ দিন পর তথ্য প্রতিমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় মরদেহ ফিরল দেশে

07 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

সুন্দরবনে জেলের মৃত্যু, ছয় মাসে তিনজন

পোষ্টের সময় : ১১:৪৭:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

 

পশ্চিম সুন্দরবনে আবারও এক পেশাদার জেলের মৃত্যু সংবাদ শোকের ছায়া ফেলেছে। মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের সিংহড়তলী গ্রামের আব্দুস সাত্তার গাজী (৫৫) সোমবার দুপুরে কুকোমারি খালের মাঝনদীতে জাল ফেলতে গিয়ে হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন এবং মুহূর্তের মধ্যেই তার জীবনাবসান ঘটে। স্থানীয় জেলে ও বনজীবীদের মধ্যে এই খবর গভীর শোক সৃষ্টি করেছে।

 

নিহত সাত্তার গাজী দীর্ঘদিন ধরে পেশাদার জেলে হিসেবে কাজ করছিলেন। তিনি তার তিনজন সহযোগীর সঙ্গে কদমতলা স্টেশন থেকে পাশ কেটে সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিলেন। সহকর্মী জেলে খানজাহান আলী জানান, জাল ফেলতে গিয়ে হঠাৎ তিনি চিৎকার করে বুক ধরেন এবং নৌকার ভেতরে লুটিয়ে পড়েন। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রাণ হারান সাত্তার।

 

মরদেহ মঙ্গলবার গভীর রাতে বাড়িতে ফেরানো হয়। নিহতের দুই ছেলে, রাহুল ও বাবুল, কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানিয়েছেন, বাবার মৃত্যু হৃদরোগজনিত কারণে হয়েছে। তারা অভিযোগ করেছেন যে বনাঞ্চলে কোনো প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় এমন ঘটনা বারবার ঘটছে। টহলফাঁড়িতে জরুরি ওষুধ রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে তারা মনে করেন।

 

বনবিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে সাতক্ষীরা রেঞ্জে হৃদরোগজনিত কারণে তিনজন জেলের মৃত্যু ঘটেছে। মার্চে মারা গেছেন হরিপদ গাইন, সেপ্টেম্বরে খলিলুর রহমান, আর সর্বশেষ আব্দুস সাত্তার গাজী। কদমতলা স্টেশনের কর্মকর্তা সুলতান আহমেদ প্রাথমিকভাবে মৃত্যুকে হৃদরোগজনিত বলে উল্লেখ করেছেন। তবে বনবিভাগের কোনো আর্থিক সহায়তা বিধান নেই এমন মৃত্যুর জন্য।

 

সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে যাওয়া জেলেদের ঝুঁকি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। জরুরি চিকিৎসা সুবিধা ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকায় প্রতিটি মৃত্যু যেন শুধু পরিসংখ্যানে রূপান্তরিত হচ্ছে।

 

 

Share this news as a Photo Card