রাজধানীর লালবাগে ব্যাংক কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দুই মাস পার হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট হয়নি। এটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা—এ দুই প্রশ্নেই পরিবার ও পুলিশ বিভক্ত। নজরুলের দুই ভাই দৃঢ়ভাবে দাবি করছেন, এটি নিছক মৃত্যু নয়, বরং নির্মম হত্যাকাণ্ড। তাদের অভিযোগ, নজরুলের স্ত্রী সায়মা শারমিন লুবা ও শাশুড়ি রহিমা খাতুন সরাসরি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। অপরদিকে, অভিযুক্তদের দাবি—নজরুল মানসিক চাপে ছিলেন এবং বঁটি দিয়ে নিজের গলা কেটে আত্মহত্যা করেন।
লালবাগ থানার ওসি মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল খান জানান, ঘটনাস্থলের প্রাথমিক তদন্তে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। পুলিশের অপেক্ষা এখন ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের, যেখানে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয় হবে। সে অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনা ঘটে ২৬ সেপ্টেম্বর। লালবাগের আরএনটি রোডের একটি ফ্ল্যাটে নজরুলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর মা নূরজাহান বেগম বাদী হয়ে ইউডি মামলা করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়—ঘটনার দিন নজরুলের স্ত্রী লুবা প্রথমে ফোনে জানান, নজরুলের গলা থেকে রক্ত পড়ছে। পরে আর যোগাযোগ করা যায়নি। শাশুড়ি ফোন ধরলেও হাসপাতালে নেওয়ার মতো কেউ নেই বলে জানায়। এরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
নজরুলের ভাইদের দাবি, তাঁর গলায় একাধিক কোপের চিহ্ন ছিল, শরীরেও ছিল আঘাতের দাগ। আত্মহত্যা হলে একজন ব্যক্তি এতগুলো কোপ নিজেই দিতে পারবেন না—এ দাবি তারা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। আরও বলেন, নজরুল ডানহাতি ছিলেন; তাই ডান হাতে কোপের দাগ থাকা আত্মহত্যার তত্ত্বকে সন্দেহজনক করে তোলে।
স্ত্রী সায়মা পুলিশের কাছে জানিয়েছেন—ঋণ এবং আর্থিক চাপে নজরুল মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তবে পরিবার বলছে, নজরুলের অগ্রিম টাকা, সঞ্চয়, বিনিয়োগসহ বেশ কিছু স্থাবর সম্পদ ছিল। তিন লাখ টাকার এফডিআর, শেয়ারবাজারে টাকাসহ তাঁর আর্থিক অবস্থা মোটেই এমন ছিল না যে আত্মহত্যা করবেন। সাম্প্রতিক সময়ে স্ত্রী-শাশুড়ির সঙ্গে পারিবারিক অশান্তিও বাড়ছিল।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শহীদুল ইসলাম জানান, সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণই শেষ পর্যন্ত সত্য প্রকাশ করবে।
স্টাফ রিপোর্টার 




















