১১:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভুটানগামী পণ্য আটকে, বুড়িমারী বন্দরে অচলাবস্থা

 

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভুটানের ট্রানশিপমেন্ট পণ্য ভারতে প্রবেশ করতে না পারায় বন্দরে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। সড়কপথ ব্যবহার করে ভুটানে পরীক্ষামূলকভাবে পণ্য পরিবহনের বিষয়টি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এখনো অনুমোদন না দেওয়ায় থাইল্যান্ড থেকে পাঠানো একটি কনটেইনার বন্দরেই আটকে আছে। ফলে তিন দেশের সমন্বয়ে পরিকল্পিত এ বিশেষ ট্রানজিট ব্যবস্থার প্রথম চালান শুরুতেই জটিলতায় পড়ে গেছে।

 

সূত্র জানায়, থাইল্যান্ডের ব্যাংককের ‘আবিত ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড’ ৮ সেপ্টেম্বর ভুটানের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘আবিত ট্রেডিং’-এর জন্য ছয় ধরনের পণ্য—তাজা ফল, জুস, জেলি, শুকনো ফল, লিচু-স্বাদের ক্যান্ডি ও শ্যাম্পু—কনটেইনারে পাঠায়। থাইল্যান্ডের ল্যাম চ্যাবাং বন্দর থেকে ছাড়ানো এসব পণ্য ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে এসে পৌঁছায়। পরে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এনএম ট্রেডিং করপোরেশন ২৮ নভেম্বর বিকেল ৪টার দিকে কনটেইনারটি বুড়িমারী স্থলবন্দরে নিয়ে আসে।

 

বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে ২০২৩ সালের ২২ মার্চ স্বাক্ষরিত প্রটোকল অনুযায়ী, বাংলাদেশি সমুদ্রবন্দর ও সড়কপথ এবং ভারতের সড়কপথ ব্যবহার করে ভুটানে পরীক্ষামূলকভাবে দুটি ট্রানশিপমেন্ট চালান পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। গত বছরের এপ্রিলে ভুটানে অনুষ্ঠিত দুই দেশের বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ হিসেবে কনটেইনারটি বুড়িমারীতে আনা হলেও ২৮ ও ২৯ নভেম্বর ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দরে একাধিকবার চেষ্টা সত্ত্বেও প্রবেশ অনুমতি মেলেনি।

 

বুড়িমারীর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ‘বেনকো লিমিটেড’-এর কর্মকর্তারা জানান, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি। ফলে ব্যবসায়ীরা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ এই ত্রিদেশীয় ট্রানজিট উদ্যোগের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভুটানমুখী পণ্য আটকে থাকায় পরিবহন খরচ বাড়ছে এবং নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

 

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ভারত দ্রুত অনুমতি না দিলে এ উদ্যোগ ভেস্তে যেতে পারে। তারা তিন দেশের সমন্বিত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সমস্যার দ্রুত সমাধান চান।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বাকৃবির শহীদ শামসুল হক হলে বৃক্ষরোপণ

প্রবাসে মৃত্যুর ২৭ দিন পর তথ্য প্রতিমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় মরদেহ ফিরল দেশে

07 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ভুটানগামী পণ্য আটকে, বুড়িমারী বন্দরে অচলাবস্থা

পোষ্টের সময় : ১২:৩৪:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

 

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভুটানের ট্রানশিপমেন্ট পণ্য ভারতে প্রবেশ করতে না পারায় বন্দরে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। সড়কপথ ব্যবহার করে ভুটানে পরীক্ষামূলকভাবে পণ্য পরিবহনের বিষয়টি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এখনো অনুমোদন না দেওয়ায় থাইল্যান্ড থেকে পাঠানো একটি কনটেইনার বন্দরেই আটকে আছে। ফলে তিন দেশের সমন্বয়ে পরিকল্পিত এ বিশেষ ট্রানজিট ব্যবস্থার প্রথম চালান শুরুতেই জটিলতায় পড়ে গেছে।

 

সূত্র জানায়, থাইল্যান্ডের ব্যাংককের ‘আবিত ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড’ ৮ সেপ্টেম্বর ভুটানের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘আবিত ট্রেডিং’-এর জন্য ছয় ধরনের পণ্য—তাজা ফল, জুস, জেলি, শুকনো ফল, লিচু-স্বাদের ক্যান্ডি ও শ্যাম্পু—কনটেইনারে পাঠায়। থাইল্যান্ডের ল্যাম চ্যাবাং বন্দর থেকে ছাড়ানো এসব পণ্য ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে এসে পৌঁছায়। পরে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এনএম ট্রেডিং করপোরেশন ২৮ নভেম্বর বিকেল ৪টার দিকে কনটেইনারটি বুড়িমারী স্থলবন্দরে নিয়ে আসে।

 

বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে ২০২৩ সালের ২২ মার্চ স্বাক্ষরিত প্রটোকল অনুযায়ী, বাংলাদেশি সমুদ্রবন্দর ও সড়কপথ এবং ভারতের সড়কপথ ব্যবহার করে ভুটানে পরীক্ষামূলকভাবে দুটি ট্রানশিপমেন্ট চালান পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। গত বছরের এপ্রিলে ভুটানে অনুষ্ঠিত দুই দেশের বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ হিসেবে কনটেইনারটি বুড়িমারীতে আনা হলেও ২৮ ও ২৯ নভেম্বর ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দরে একাধিকবার চেষ্টা সত্ত্বেও প্রবেশ অনুমতি মেলেনি।

 

বুড়িমারীর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ‘বেনকো লিমিটেড’-এর কর্মকর্তারা জানান, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি। ফলে ব্যবসায়ীরা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ এই ত্রিদেশীয় ট্রানজিট উদ্যোগের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভুটানমুখী পণ্য আটকে থাকায় পরিবহন খরচ বাড়ছে এবং নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

 

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ভারত দ্রুত অনুমতি না দিলে এ উদ্যোগ ভেস্তে যেতে পারে। তারা তিন দেশের সমন্বিত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সমস্যার দ্রুত সমাধান চান।

 

Share this news as a Photo Card