সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের তিন দফা দাবির পক্ষে চলমান কর্মবিরতি আজও অব্যাহত রয়েছে। গত ২৭ নভেম্বর থেকে ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’সহ বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের অংশগ্রহণে এই আন্দোলন শুরু হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা গতকাল নির্ধারিত বার্ষিক পরীক্ষাও বর্জন করেন, এবং আজও একই কর্মসূচি চলবে বলে আন্দোলনকারী শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ প্রাইমারি স্কুল সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি মোহাম্মদ শামসুদ্দীন তার ফেসবুক পোস্টে ঘোষণা দেন যে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানাতে আজও দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি এবং ৩য় প্রান্তিক মূল্যায়ন বর্জন অব্যাহত থাকবে।
তিনি লেখেন, বিকেল ৪টায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার কাছে জরুরি স্মারকলিপি প্রদান করা হবে, যাতে শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি দ্রুত নিষ্পত্তি করে তারা যেন শ্রেণিকক্ষে ফিরতে পারেন। এই স্মারকলিপি পেশকে কেন্দ্র করে প্রতিটি জেলার সদর উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের সব সহকারী শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি যেসব উপজেলা সদর নয়, সেখান থেকেও কমপক্ষে ১০০ জন শিক্ষককে উপস্থিত হতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এর আগে গত রবিবার রাতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষক সমাজকে চলমান কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়। সেখানে বলা হয়, প্রধান শিক্ষককে ১০ম গ্রেড এবং সহকারী শিক্ষককে ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার দাবি ‘যৌক্তিক’ হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই অর্থ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং পে-কমিশনের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল উন্নীতকরণ নিয়ে পে-কমিশনে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কমিশনের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে তাদের শ্রেণিকক্ষে ফেরার অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
স্টাফ রিপোর্টার 






















