পাবনার ঈশ্বরদীতে সদ্যজাত আটটি কুকুরছানাকে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে হত্যার ঘটনা দেশের মানুষকে স্তম্ভিত করেছে। মা কুকুরের আর্তনাদ ও ছানাদের খুঁজে বেড়ানোর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
ঘটনা রবিবার (১ ডিসেম্বর) উপজেলার কোয়ার্টার কমপ্লেক্সের সামনের এলাকায় ঘটে। মা কুকুর ছানাদের খুঁজতে দুধে ভরা ওলান নিয়ে ছুটছিল। মাত্র এক সপ্তাহ আগে ছানাদের জন্ম হয়েছিল।
উপজেলা প্রশাসন দুই দিনের খোঁজখবরের পর জানতে পারে, একজন সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রী আটটি ছানাকে বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে দেন। পরে স্থানীয়রা পার্শ্ববর্তী পুকুর থেকে ছানাগুলো উদ্ধার করে, কিন্তু তখন তারা মৃত। অভিযুক্তের বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে।
মা কুকুরটি বর্তমানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। মা কুকুরের দুধের সমস্যা ও ব্যথা কমানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং প্রাণি কল্যাণ সংস্থাগুলো এই ঘটনায় পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়েছে।
এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়; এই মাসের শুরুতে বগুড়ায় একটি বিড়ালকে জবাই ও পোড়ানোর ঘটনা ঘটে। ঢাকার মোহাম্মদপুরে গত বছরের শেষ দিকে কুকুর ও বিড়ালকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করার অভিযোগ ওঠে।
আইনগত দিক থেকে, ২০১৯ সালের প্রাণি কল্যাণ আইন অনুসারে মালিকবিহীন কুকুর বা বিড়াল হত্যা করা অপরাধ। তবে সাধারণ নাগরিক সরাসরি মামলা করতে পারেন না; প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের লিখিত অভিযোগ প্রয়োজন। প্রথমবার অপরাধ করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা, পুনরাবৃত্তিতে দুই বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে।
আইনজীবীরা জানান, পথকুকুর বা বিড়ালের মালিক না থাকার কারণে প্রমাণ করা কঠিন। তবে অঙ্গহানি, বিষ প্রয়োগ এবং নিষ্ঠুর আচরণে হত্যাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। বিচার ভ্রাম্যমাণ আদালত বা মোবাইল কোর্টও করতে পারে। সর্বোচ্চ সাজা দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড।
প্রাণি অধিকার সংস্থাগুলো এই ধরনের নৃশংসতা রোধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ দাবি করছে।
স্টাফ রিপোর্টার 




















