কুড়িগ্রামের রৌমারীতে পল্লী বিদ্যুতের কাঠের খুঁটি চুরি করে বিক্রি ও নৌকা তৈরির অভিযোগ উঠেছে মিজানুর রহমান মিজানের বিরুদ্ধে। উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের খঞ্জনমারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অধীনে রৌমারী ও রাজীবপুরে ঠিকাদারি কাজের তদারকি করতেন মোফাজ্জল হোসেন। তার অধীনে ফোরম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন মিজানুর রহমান। দীর্ঘদিন ধরে নতুন ও পুরোনো বিদ্যুৎ লাইনের কাজের তদারকি করছিলেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, মিজান চুরি করা খুঁটির কাঠ স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম হোসেনকে বিক্রি করেছেন। এই কাঠ দিয়ে গোলাম হোসেন একটি ঘর তৈরি করেছেন। এছাড়া মিজান বিদ্যুতের খুঁটি ব্যবহার করে প্রায় ৪০ হাত লম্বা একটি নৌকা তৈরি করেছেন, যা বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র নদে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। এলাকাবাসী জানায়, মিজান আরও কয়েকজনের কাছে একইভাবে খুঁটি বিক্রি করেছেন।
গোলাম হোসেন স্বীকার করেছেন, তিনি খুঁটি কিনে ঘর তৈরি করেছেন। অভিযুক্ত ফোরম্যান মিজান বলেছেন, তিনি ডিজিএমের সঙ্গে কথা বলে খুঁটি দিয়ে নৌকা তৈরি করেছেন এবং কিছু খুঁটি গোলাম হোসেনের কাছে বিক্রি করেছেন।
রৌমারী জোনাল অফিসের ডিজিএম দেলোয়ার হোসেন জানান, এই ঘটনা তার যোগদানের আগে ঘটেছে। তবে বিষয়টি তিনি জেনেছেন এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা বলেন, এই ধরনের ঘটনা বিদ্যুতের নিরাপত্তা ও সরবরাহে ঝুঁকি তৈরি করছে। এছাড়া চুরি হওয়া খুঁটি দিয়ে তৈরি নৌকা এবং ঘর বানানো স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তারা আশা করছেন, দ্রুত তদন্ত শেষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনা রৌমারী ও আশেপাশের এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধিরও আহ্বান জানিয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
স্টাফ রিপোর্টার 




















