১০:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চলনবিলে শুঁটকির চাতাল জীবনের উৎসব

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • পোষ্টের সময় : ১০:১৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২২৯ ভিউ :

 

সিরাজগঞ্জের চলনবিলে শুঁটকি উৎপাদন বর্ষার পর থেকে শুরু হয়ে ভাদ্র মাস পর্যন্ত মহাযজ্ঞের মতো চলে। বর্ষার পানিতে ঘিরে হাজারো ছোট মাছ, যা স্থানীয় মৎস্যজীবীদের জীবিকা ও পেশার প্রধান উৎস। শুঁটকির চাতালগুলোতে নারী-পুরুষ শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে দেশীয় নানা প্রজাতির মাছ রোদে শুকিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত শুঁটকি তৈরি করেন। এই শিল্প বহু পরিবারের জীবনকে স্বাবলম্বী করেছে।

 

চলনবিল অঞ্চলের ৭০ থেকে ৮৫ জন মৎস্যজীবী এই মৌসুমে শুঁটকি উৎপাদনে অংশ নেন। পাবনার চাটমোহরের পলান প্রামাণিক ৬০ বছর ধরে শুঁটকির ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। তিনি যৌবনে নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে শিখেছিলেন এই শিল্প, যা তার জীবন বদলে দিয়েছে। তাঁর ছেলে মোফাজ্জল হোসেন প্রামাণিকও তিন দশক ধরে শুঁটকি তৈরিকে পেশা হিসেবে অবলম্বন করেছেন।

 

মৌসুম শুরু হয় আষাঢ় মাসে। বিলের উপযুক্ত স্থানে চাতাল বসানো হয়, মাছ ঘরে রাখা, লবণ মেশানো এবং রোদে শুকানো হয়। এক চাতাল থেকে একটি মৌসুমে ৩০০ থেকে ৩৫০ মণ শুঁটকি তৈরি হয়। মহিষলুটি, খলিশাগাড়ী, বিলসা, সলঙ্গা ও চারঘাট এলাকার বাজার থেকে শুঁটকির উপযোগী মাছ কেনা হয়। প্রতি মণ মাছ ৮–৯ ঘণ্টা লবণ মেশানো অবস্থায় রাখা হয়; ৪ কেজি কাঁচা মাছ শুকিয়ে হয় মাত্র ১ কেজি শুঁটকি।

 

গত কয়েক বছরের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তাড়াশ, উল্লাপাড়া, চাটমোহর ও গুরুদাসপুরে লাখ টন শুঁটকি উৎপাদন হয়। বর্তমান বাজারে পুঁটি, বোয়াল, টাকি, খলিশা, গুচি ও ইছা প্রজাতির শুঁটকির দাম যথাক্রমে ১২–১৪ হাজার থেকে ৯৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

 

শ্রমিকরা প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৬০০ টাকা পান, সঙ্গে খাবার ও যাতায়াত খরচ। বড় চাতালের জন্য ২০–২৫ লাখ টাকা পুঁজি লাগে, মৌসুম ভালো হলে ৪–৫ লাখ টাকা লাভ হয়। শুঁটকি শুধু ব্যবসা নয়, চলনবিলের মানুষের জীবন ও স্থানীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি দেশের সীমা পেরিয়ে ভারতেও পৌঁছে শুঁটকির খ্যাতি বহন করছে।

 

তাড়াশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোকারম আলী বলেন, শুঁটকি শিল্প পরিবারকে স্বাবলম্বী করছে এবং স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতিতে প্রাণ সঞ্চার করছে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বাকৃবির শামসুল হক হলে বৃক্ষরোপণ

প্রবাসে মৃত্যুর ২৭ দিন পর তথ্য প্রতিমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় মরদেহ ফিরল দেশে

07 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

চলনবিলে শুঁটকির চাতাল জীবনের উৎসব

পোষ্টের সময় : ১০:১৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫

 

সিরাজগঞ্জের চলনবিলে শুঁটকি উৎপাদন বর্ষার পর থেকে শুরু হয়ে ভাদ্র মাস পর্যন্ত মহাযজ্ঞের মতো চলে। বর্ষার পানিতে ঘিরে হাজারো ছোট মাছ, যা স্থানীয় মৎস্যজীবীদের জীবিকা ও পেশার প্রধান উৎস। শুঁটকির চাতালগুলোতে নারী-পুরুষ শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে দেশীয় নানা প্রজাতির মাছ রোদে শুকিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত শুঁটকি তৈরি করেন। এই শিল্প বহু পরিবারের জীবনকে স্বাবলম্বী করেছে।

 

চলনবিল অঞ্চলের ৭০ থেকে ৮৫ জন মৎস্যজীবী এই মৌসুমে শুঁটকি উৎপাদনে অংশ নেন। পাবনার চাটমোহরের পলান প্রামাণিক ৬০ বছর ধরে শুঁটকির ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। তিনি যৌবনে নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে শিখেছিলেন এই শিল্প, যা তার জীবন বদলে দিয়েছে। তাঁর ছেলে মোফাজ্জল হোসেন প্রামাণিকও তিন দশক ধরে শুঁটকি তৈরিকে পেশা হিসেবে অবলম্বন করেছেন।

 

মৌসুম শুরু হয় আষাঢ় মাসে। বিলের উপযুক্ত স্থানে চাতাল বসানো হয়, মাছ ঘরে রাখা, লবণ মেশানো এবং রোদে শুকানো হয়। এক চাতাল থেকে একটি মৌসুমে ৩০০ থেকে ৩৫০ মণ শুঁটকি তৈরি হয়। মহিষলুটি, খলিশাগাড়ী, বিলসা, সলঙ্গা ও চারঘাট এলাকার বাজার থেকে শুঁটকির উপযোগী মাছ কেনা হয়। প্রতি মণ মাছ ৮–৯ ঘণ্টা লবণ মেশানো অবস্থায় রাখা হয়; ৪ কেজি কাঁচা মাছ শুকিয়ে হয় মাত্র ১ কেজি শুঁটকি।

 

গত কয়েক বছরের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তাড়াশ, উল্লাপাড়া, চাটমোহর ও গুরুদাসপুরে লাখ টন শুঁটকি উৎপাদন হয়। বর্তমান বাজারে পুঁটি, বোয়াল, টাকি, খলিশা, গুচি ও ইছা প্রজাতির শুঁটকির দাম যথাক্রমে ১২–১৪ হাজার থেকে ৯৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

 

শ্রমিকরা প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৬০০ টাকা পান, সঙ্গে খাবার ও যাতায়াত খরচ। বড় চাতালের জন্য ২০–২৫ লাখ টাকা পুঁজি লাগে, মৌসুম ভালো হলে ৪–৫ লাখ টাকা লাভ হয়। শুঁটকি শুধু ব্যবসা নয়, চলনবিলের মানুষের জীবন ও স্থানীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি দেশের সীমা পেরিয়ে ভারতেও পৌঁছে শুঁটকির খ্যাতি বহন করছে।

 

তাড়াশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোকারম আলী বলেন, শুঁটকি শিল্প পরিবারকে স্বাবলম্বী করছে এবং স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতিতে প্রাণ সঞ্চার করছে।

 

Share this news as a Photo Card