০৭:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্যোগ মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসের গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • পোষ্টের সময় : ০৬:৩০:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৪২ ভিউ :

 

অগ্নিকাণ্ডসহ নানা ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণের উদ্দেশ্যে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর আয়োজিত ‘স্থায়ী বিশেষজ্ঞ প্যানেল’-এর সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার জানান, বুধবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে দেশের খ্যাতনামা প্রকৌশলী, স্থপতি, দুর্যোগ বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

 

সেমিনারের উদ্বোধন করেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল। এরপর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বিভিন্ন বিষয়কেন্দ্রিক কীনোট উপস্থাপন করেন। পরে মহাপরিচালকই মূল আলোচনার সঞ্চালনা করেন, যেখানে তিনি ফায়ার সার্ভিসের বর্তমান সক্ষমতা, ভূমিকম্প প্রস্তুতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। নগরায়ণ, শিল্পায়ন, উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ভবন, রাসায়নিক ব্যবস্থাপনা এবং সামগ্রিক দুর্যোগঝুঁকি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত তিনি আহ্বান জানান।

 

বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন— বাংলাদেশের ফায়ার স্টেশন সংখ্যা ও জনবল এশিয়ার তুলনায় এখনো কম। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নতুন স্টেশন স্থাপন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ওয়াসার পাম্প স্টেশনে ফায়ার ব্রিগেড সংযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারি দপ্তরের ভবনগুলো ভূমিকম্পে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকায় সব ফায়ার স্টেশনকে ভূমিকম্প-সহনীয় করে তোলার সুপারিশ করা হয়। শহরে জায়গার সংকট থাকলে সরকারি ভবনের নিচতলার দুই তলা ফায়ার স্টেশন হিসেবে ব্যবহার করার প্রস্তাব আসে।

 

ভলান্টিয়ার বৃদ্ধি, নিয়মিত রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ, মক ড্রিল, ফায়ার একাডেমি নির্মাণ এবং জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমে প্রচার জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুর্যোগ শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে নম্বর যুক্ত করার দাবিও ওঠে। এছাড়া আবাসিক এলাকা থেকে রাসায়নিক গুদাম সরানো ও নিয়মিত মহড়া চালু রাখার তাগিদ দেওয়া হয়।

 

সেমিনারে বক্তব্য দেন কুয়েটের উপাচার্য প্রফেসর ড. মাকসুদ হেলালী, ঢাবির প্রফেসর ড. জিল্লুর রহমান, স্থপতি ইকবাল হাবিবসহ খ্যাতনামা ব্যক্তিত্বরা। ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা অনলাইনেও যুক্ত ছিলেন।

 

সভায় সিদ্ধান্ত হয়— ‘স্থায়ী বিশেষজ্ঞ প্যানেল’ ভবিষ্যতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার গবেষণা, নীতিমালা ও পরামর্শপ্রদানে নিয়মিত ভূমিকা রাখবে। মহাপরিচালক জানান, এই প্যানেল দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পর্যায়ে নিয়ে যাবে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

জাতীয় হিফজ প্রতিযোগিতায় দেশসেরা দুই হাফেজ, নকলায় রাজকীয় সংবর্ধনা

হালুয়াঘাটে ইয়াবাসহ আটক ২

04 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

দুর্যোগ মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসের গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার

পোষ্টের সময় : ০৬:৩০:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫

 

অগ্নিকাণ্ডসহ নানা ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণের উদ্দেশ্যে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর আয়োজিত ‘স্থায়ী বিশেষজ্ঞ প্যানেল’-এর সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার জানান, বুধবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে দেশের খ্যাতনামা প্রকৌশলী, স্থপতি, দুর্যোগ বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

 

সেমিনারের উদ্বোধন করেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল। এরপর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বিভিন্ন বিষয়কেন্দ্রিক কীনোট উপস্থাপন করেন। পরে মহাপরিচালকই মূল আলোচনার সঞ্চালনা করেন, যেখানে তিনি ফায়ার সার্ভিসের বর্তমান সক্ষমতা, ভূমিকম্প প্রস্তুতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। নগরায়ণ, শিল্পায়ন, উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ভবন, রাসায়নিক ব্যবস্থাপনা এবং সামগ্রিক দুর্যোগঝুঁকি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত তিনি আহ্বান জানান।

 

বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন— বাংলাদেশের ফায়ার স্টেশন সংখ্যা ও জনবল এশিয়ার তুলনায় এখনো কম। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নতুন স্টেশন স্থাপন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ওয়াসার পাম্প স্টেশনে ফায়ার ব্রিগেড সংযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারি দপ্তরের ভবনগুলো ভূমিকম্পে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকায় সব ফায়ার স্টেশনকে ভূমিকম্প-সহনীয় করে তোলার সুপারিশ করা হয়। শহরে জায়গার সংকট থাকলে সরকারি ভবনের নিচতলার দুই তলা ফায়ার স্টেশন হিসেবে ব্যবহার করার প্রস্তাব আসে।

 

ভলান্টিয়ার বৃদ্ধি, নিয়মিত রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ, মক ড্রিল, ফায়ার একাডেমি নির্মাণ এবং জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমে প্রচার জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুর্যোগ শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে নম্বর যুক্ত করার দাবিও ওঠে। এছাড়া আবাসিক এলাকা থেকে রাসায়নিক গুদাম সরানো ও নিয়মিত মহড়া চালু রাখার তাগিদ দেওয়া হয়।

 

সেমিনারে বক্তব্য দেন কুয়েটের উপাচার্য প্রফেসর ড. মাকসুদ হেলালী, ঢাবির প্রফেসর ড. জিল্লুর রহমান, স্থপতি ইকবাল হাবিবসহ খ্যাতনামা ব্যক্তিত্বরা। ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা অনলাইনেও যুক্ত ছিলেন।

 

সভায় সিদ্ধান্ত হয়— ‘স্থায়ী বিশেষজ্ঞ প্যানেল’ ভবিষ্যতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার গবেষণা, নীতিমালা ও পরামর্শপ্রদানে নিয়মিত ভূমিকা রাখবে। মহাপরিচালক জানান, এই প্যানেল দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পর্যায়ে নিয়ে যাবে।

 

Share this news as a Photo Card