দেশের বাজারে আবারও অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে পেঁয়াজের দাম। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ৩০–৩৫ টাকা পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধি হওয়ায় ক্রেতা–বিক্রেতা উভয়ের মধ্যে দেখা দিয়েছে চাপ। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজ পাইকারিতে ১৩৮ থেকে ১৪৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, আর খুচরা বাজারে দাম পৌঁছেছে ১৬০ টাকায়।
রায়ের বাজার সাদেক খান কৃষি বাজার থেকে শুরু করে ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেট—সব জায়গায় একই চিত্র। আড়তদার রফিক মিয়া জানান, এতো কম সময়ে এমন উল্লম্ফন আগে দেখা যায়নি। তার ভাষায়, দুই দিন আগেও যে পেঁয়াজ ১১০-১১৫ টাকা ছিল, সেটাই এখন প্রায় ৩০ টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।
একই বাজারের আরেক আড়তদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আগামীকাল দাম আরও বাড়তে পারে। তিনি বলেন, যে পাইকারি হাট থেকে তারা পেঁয়াজ সংগ্রহ করেন, সেখানে মণপ্রতি দাম ইতোমধ্যে ৫৮০০ থেকে ৬০০০ টাকায় পৌঁছেছে। ফলে খুচরা বাজারেও দাম চড়ছে।
বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের দাবি, সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণেই পুরোনো দেশি পেঁয়াজের বাজার অস্বাভাবিকভাবে অস্থির হয়েছে। নতুন পেঁয়াজ এখনো বাজারে পর্যাপ্ত আসেনি, আর যে সামান্য নতুন পেঁয়াজ এসেছে—তা পাতাসহ ৭০–৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এবং মানও তেমন ভালো নয়।
অনেকে মনে করছেন, ভারত থেকে আমদানির অনুমতি মিললেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে। আড়তদারদের ভাষ্য, ভারত সীমান্তে পেঁয়াজ প্রস্তুত রেখেছে, শুধু অনুমতি পেলেই দেশের বাজারে দাম কিছুটা কমে আসবে। তবে কৃষি মন্ত্রণালয় আগে বলেছিল, নভেম্বরের মাঝামাঝি নতুন দেশি পেঁয়াজ বাজারে আসবে—এ কারণে ৫০০ টন আমদানির প্রস্তাব শুধু বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দিলেও তা অনুমোদন পায়নি। কিন্তু সেই অনুমান বাস্তবে সফল হয়নি, ফলে সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটের খুচরা বিক্রেতা আমজাদ হোসেন বলেন, কয়েক দিন ধরে দাম লাফিয়ে বাড়ছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, নতুন পেঁয়াজ ব্যাপকহারে বাজারে না আসা পর্যন্ত মূল্য কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।
রাজধানীর ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষও স্পষ্ট। খুচরা ক্রেতা মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, “এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৪০ টাকা বেশি দিয়ে পেঁয়াজ কিনছি। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
স্টাফ রিপোর্টার 






















