০৭:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেন থমকে আছে ডেঙ্গু ভ্যাকসিন অনুমোদন?

 

ডেঙ্গু এখন পৃথিবীর অন্যতম মশাবাহিত প্রাণঘাতী রোগ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী বিশ্বজুড়ে প্রায় অর্ধেক মানুষ এই ভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছেন। প্রতিবছর প্রায় ১০০ দেশে ৪০ কোটিরও বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়, যার ২৫ শতাংশ রোগীর উপসর্গ দেখা যায় এবং মৃত্যুবরণ করেন প্রায় ১২ হাজার মানুষ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, বাংলাদেশের সব বিভাগেই এখন ডেঙ্গু স্থায়ীভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

 

এক দশক আগেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকা উদ্ভাবন করা হলেও বাংলাদেশে এখনো কোনো ভ্যাকসিন ব্যবহারের অনুমতি পায়নি। বিশ্বের বহু দেশে অনুমোদিত হলেও আমাদের দেশে কেন এই বিলম্ব—এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠছে। তাই ডেঙ্গুর প্রকৃতি, ভ্যাকসিনের ধরন ও বাংলাদেশে এর উপযোগিতা নিয়ে আলোচনা জরুরি।

 

ডেঙ্গু ভাইরাস এডিস ইজিপ্টি ও এডিস অ্যালবোপিক্টাস মশার মাধ্যমে মানুষের দেহে ছড়ায়। হঠাৎ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, পেশি–হাড়ে ব্যথা এবং কয়েকদিন পর শরীরে র‍্যাশ দেখা দেওয়াই প্রধান লক্ষণ। রক্তে প্লাটিলেট কমে যাওয়া ডেঙ্গুকে অন্যান্য জ্বর থেকে আলাদা করতে সাহায্য করে।

 

ডেঙ্গুর চারটি সেরোটাইপ—DENV-1, DENV-2, DENV-3 ও DENV-4—মানুষে ভিন্ন ভিন্ন ইমিউন প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। এক সেরোটাইপে আক্রান্ত হলে ওইটির বিরুদ্ধে আজীবন সুরক্ষা তৈরি হয়। কিন্তু অন্য সেরোটাইপে পুনরায় সংক্রমিত হলে মারাত্মক অবস্থায় পৌঁছানোর ঝুঁকি থাকে। বাংলাদেশে চার সেরোটাইপই পাওয়া যায়, যার মধ্যে DENV-2 ও DENV-3 বেশি ভয়ংকর।

 

বর্তমান পর্যন্ত তিনটি ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছে—স্যানোফির ডেংভ্যাক্সিয়া, তাকেদার কিউডেঙ্গা এবং ব্রাজিলের বুটানটান ডিভি। ডেংভ্যাক্সিয়া শুধুমাত্র আগে ডেঙ্গু আক্রান্তদের দেওয়া যায়, আর ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলার অভিযোগে অনেক দেশ এটি বন্ধ করে দিয়েছে। কিউডেঙ্গা তুলনামূলক নিরাপদ হলেও DENV-3 সেরোটাইপের বিরুদ্ধে কার্যকারিতা কম, যা বাংলাদেশের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে বুটানটান ডিভি এক ডোজেই চার সেরোটাইপের বিপরীতে শক্তিশালী প্রতিরোধ তৈরি করে।

 

বাংলাদেশে এই প্রযুক্তির TV005 ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ধাপের ট্রায়াল আইসিডিডিআরবি সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। তবুও অনুমোদন বিলম্বের কারণ—সব সেরোটাইপের বছরভেদে ওঠানামা এবং উপযুক্ত ভ্যাকসিন নির্বাচন নিয়ে সতর্কতা।

 

ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিবেচনায়, বাংলাদেশে কিউডেঙ্গা বা বুটানটান ডিভি দ্রুত অনুমোদন দেওয়া জরুরি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ১২–৩০ বছরের জনগোষ্ঠীকে সরকারিভাবে বিনামূল্যে টিকা দিলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসতে পারে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

জাতীয় হিফজ প্রতিযোগিতায় দেশসেরা দুই হাফেজ, নকলায় রাজকীয় সংবর্ধনা

হালুয়াঘাটে ইয়াবাসহ আটক ২

04 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

কেন থমকে আছে ডেঙ্গু ভ্যাকসিন অনুমোদন?

পোষ্টের সময় : ১১:২০:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

 

ডেঙ্গু এখন পৃথিবীর অন্যতম মশাবাহিত প্রাণঘাতী রোগ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী বিশ্বজুড়ে প্রায় অর্ধেক মানুষ এই ভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছেন। প্রতিবছর প্রায় ১০০ দেশে ৪০ কোটিরও বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়, যার ২৫ শতাংশ রোগীর উপসর্গ দেখা যায় এবং মৃত্যুবরণ করেন প্রায় ১২ হাজার মানুষ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, বাংলাদেশের সব বিভাগেই এখন ডেঙ্গু স্থায়ীভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

 

এক দশক আগেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকা উদ্ভাবন করা হলেও বাংলাদেশে এখনো কোনো ভ্যাকসিন ব্যবহারের অনুমতি পায়নি। বিশ্বের বহু দেশে অনুমোদিত হলেও আমাদের দেশে কেন এই বিলম্ব—এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠছে। তাই ডেঙ্গুর প্রকৃতি, ভ্যাকসিনের ধরন ও বাংলাদেশে এর উপযোগিতা নিয়ে আলোচনা জরুরি।

 

ডেঙ্গু ভাইরাস এডিস ইজিপ্টি ও এডিস অ্যালবোপিক্টাস মশার মাধ্যমে মানুষের দেহে ছড়ায়। হঠাৎ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, পেশি–হাড়ে ব্যথা এবং কয়েকদিন পর শরীরে র‍্যাশ দেখা দেওয়াই প্রধান লক্ষণ। রক্তে প্লাটিলেট কমে যাওয়া ডেঙ্গুকে অন্যান্য জ্বর থেকে আলাদা করতে সাহায্য করে।

 

ডেঙ্গুর চারটি সেরোটাইপ—DENV-1, DENV-2, DENV-3 ও DENV-4—মানুষে ভিন্ন ভিন্ন ইমিউন প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। এক সেরোটাইপে আক্রান্ত হলে ওইটির বিরুদ্ধে আজীবন সুরক্ষা তৈরি হয়। কিন্তু অন্য সেরোটাইপে পুনরায় সংক্রমিত হলে মারাত্মক অবস্থায় পৌঁছানোর ঝুঁকি থাকে। বাংলাদেশে চার সেরোটাইপই পাওয়া যায়, যার মধ্যে DENV-2 ও DENV-3 বেশি ভয়ংকর।

 

বর্তমান পর্যন্ত তিনটি ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছে—স্যানোফির ডেংভ্যাক্সিয়া, তাকেদার কিউডেঙ্গা এবং ব্রাজিলের বুটানটান ডিভি। ডেংভ্যাক্সিয়া শুধুমাত্র আগে ডেঙ্গু আক্রান্তদের দেওয়া যায়, আর ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলার অভিযোগে অনেক দেশ এটি বন্ধ করে দিয়েছে। কিউডেঙ্গা তুলনামূলক নিরাপদ হলেও DENV-3 সেরোটাইপের বিরুদ্ধে কার্যকারিতা কম, যা বাংলাদেশের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে বুটানটান ডিভি এক ডোজেই চার সেরোটাইপের বিপরীতে শক্তিশালী প্রতিরোধ তৈরি করে।

 

বাংলাদেশে এই প্রযুক্তির TV005 ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ধাপের ট্রায়াল আইসিডিডিআরবি সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। তবুও অনুমোদন বিলম্বের কারণ—সব সেরোটাইপের বছরভেদে ওঠানামা এবং উপযুক্ত ভ্যাকসিন নির্বাচন নিয়ে সতর্কতা।

 

ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিবেচনায়, বাংলাদেশে কিউডেঙ্গা বা বুটানটান ডিভি দ্রুত অনুমোদন দেওয়া জরুরি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ১২–৩০ বছরের জনগোষ্ঠীকে সরকারিভাবে বিনামূল্যে টিকা দিলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসতে পারে।

 

Share this news as a Photo Card