ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় প্রেমের বিয়ের মেয়াদ ১৫ দিন পর দীর্ঘ ফেসবুক পোষ্ট দিয়ে রুবায়েত হাসান রাকিব (২৩) নামে এক ফাুসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে।
সোমবার (৪ মে) ভোররাতে ফুলবাড়িয়া পৌর শহরের পোস্ট অফিস রোডে একটিন বাসায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত রুবায়েত হাসান রাকিব ওই এলাকার লাল মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্র জানায়, রাতের খাবার খেয়ে রাকিব নিজের রুমে ঘুমাতে যায়। ভোররাতে রাকিবকে তার পরিবারের লোকজন তাকে অনেক ডাকাডাকি করেও তার কোন সাড়া পায়নি। পরে তার পাশের রুমে বসবাস করা তার ভাই দরজা ভেঙে রাকিবকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়।
পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাড়ে ১০ টার দিকে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি রাশেদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রাকিব মৃত্যুর আগে দীর্ঘ একটি ফেসবুক পোষ্টে কয়েকজনকে দায়ী করে গেছে। বিষয়টি তদন্ত চলছে, তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে। তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী কিনা। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।
রাকিবের দেয়া ফেসবুক পোষ্ট হুবুহু তুলে ধরা হলো, আমি রাকিব হোসেন, আমার বউ নুসরাত জাহান রীথি।আমরা দীর্ঘ চার বছর লিভিং রিলেশনশিপে ছিলাম এবং আমরা গত ১৯ এপ্রিল দু’জনের ইচ্ছাতে ময়মনসিংহ কোর্টের মাধ্যমে বিবাহ করি ।এখন আমাদের সম্পর্কটা রীথির ফ্যামিলি এবং রীথি মানে না।
আমার এই অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকবে প্রথমে রীথির বাবা মোহাম্মদ মাকসুদুল আলম (মাসুদ) এবং রীথির ছোট ভাই রিফাত এবং তার মামা। আর রীথির পুরো ফ্যামিলি আমার এই অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকবে।আমি আত্মহত্যা করি নাই আমারে খুন করা হয়েছে। এইটা করছে রীথি আর তার ফ্যামিলি। আমার আন্টি সীমা এবং আমার আঙ্কেল অ্যাডভোকেট রুমন হোসাইন এবং আমার বড় ভাই সফির উদ্দিন।
আপনার তো সবকিছুই জানতেন এবং রীথিকে যথেষ্ট পরিমাণ বুঝাইছেন আমার জব নাই আমি বেকার ছেলে আরো অনেক কিছু বোঝাইছে। রীথি সবকিছু বুঝে শুনে আমাকে বিয়ে করছে। এখন রীথি বলতেছে সে নাকি রাগের মাথায় আমার বিয়ে করছে। আমি নাকি তার সুযোগ নিছি। বিয়ের আগে এত কিছু করে এখন বিয়ে করে বলতাছে রাগের মাথায় করছে। এখন বলতেছে আমার সরকারি চাকরি না হইলে আমার সাথে থাকবে না। একটা কি ছেলে খেলা ??
এই সব কিছু আমি এখন মেনে নিতে পারতেছিনা এখন আমার আত্মহত্যা করা ছাড়া কোন উপায় নাই। এইটাকে আত্মহত্যা বলাটা ভুল হবে আমারে খুন করা হয়েছে।আর এই খুনটা করেছে রীথি ও তার ফ্যামিলি। আমার এই অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকবে রীথির পুরো ফ্যামিলি। আপনারা সবাই আমার খুনের সঠিক বিচারটা কইরেন।
আর প্রশাসনের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে আমার ফ্যামিলি যাতে এর সঠিক বিচারটা পায়। আর রীথি তোমারে আমি একটা কথাই বলতে চাই তুমি এখন যা করতেছ সবকিছু তোমার ফ্যামিলির চাপে। আমি জানি তুমি আমারে অনেক ভালোবাসো আমিও তোমারে অনেক ভালবাসি রীথি।হয়তো এখন তুমি তোমার ফ্যামিলি চাপের জন্য আমারে ভুল বুঝেছো। আমি তোমারে আমার জীবনের থেকেও বেশি ভালোবাসি তাই তুমি আমারে খুন করলা। তোমারে আমি কথা দিয়েছিলাম, কথা আমি রাখলাম। তুমি হয়তো এখন আমারে বোঝো নাই। বুঝবা যখন আমি আর এই দুনিয়াতে থাকবো না। তখন বুঝলেও আর কোন লাভ হবে না।
আব্বু আম্মু আমি তোমাদের জন্য কোন কিছু করতে পারলাম না। তোমরা আমারে মাফ কইরা দিও। তোমরা ভালো থাইকো, তোমরা নিজেদের খেয়াল রাইখো। তোমাদের ছেলেকে তারা বাঁচতে দিল না খুন কইরা ফেলছে। আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম, আমি সুন্দর সংসার করতে চেয়েছিলাম আমি রীথিকে অনেক ভালোবাসতে। চেয়েছিলাম দুনিয়ার মানুষের কাছে আমার একটাই প্রশ্ন এটা কি আমার অপরাধ ছিল?
স্টাফ রিপোর্টার 




















