সরকারি ভবনগুলোতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ (রুফটপ সোলার) ব্যবস্থা দ্রুত সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছে পরিবেশবাদী ও নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলো। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ৫ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জাতীয় লক্ষ্য বাস্তবায়নে কার্যকর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) ময়মনসিংহে অন্যচিত্র ফাউন্ডেশন, ক্লিন (কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক) এবং বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিডব্লিউজিইডি)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত প্রচারাভিযান ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচিতে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, সরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও প্রশাসনিক ভবনের অব্যবহৃত ছাদকে কাজে লাগিয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। এতে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে, বিদ্যুৎ ব্যয় হ্রাস পাবে এবং আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা যাবে।
অন্যচিত্র ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রেবেকা সুলতানা বলেন, সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় দেশের সব জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আগামী তিন মাসের মধ্যে রুফটপ সোলার ব্যবস্থা স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছে, যা সময়োপযোগী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও চলমান জলবায়ু সংকটের প্রেক্ষাপটে সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ এখন পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ময়মনসিংহ ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সম্পাদক খায়রুল আলম তুহিন বলেন, জ্বালানি সংকট ও আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দেশের অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। সরকারি ভবনের ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো গেলে টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু অভিযোজনের লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।
পরিবেশ ও সামাজিক আন্দোলনকর্মী ইমন সরকার বলেন, রুফটপ সোলার ব্যবস্থার সম্প্রসারণ স্থানীয় পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। সৌরপ্যানেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, স্থাপনকারী কোম্পানি, রক্ষণাবেক্ষণ সেবাদাতা ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি সরবরাহকারীদের জন্য নতুন বাজার তৈরি হবে, যা সবুজ অর্থনীতি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
বক্তারা আরও বলেন, বিকেন্দ্রীভূত বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে এবং সঞ্চালন ক্ষতি কমাতে সরকারি ভবনের ছাদগুলো কার্যকরভাবে ব্যবহার করা জরুরি। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় রুফটপ সোলার নির্ভরযোগ্য সহায়ক জ্বালানি উৎস হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ সময় নেট মিটারিং ব্যবস্থা আরও সহজ ও ব্যবহারবান্ধব করার দাবি জানানো হয়, যাতে অতিরিক্ত উৎপাদিত বিদ্যুৎ সহজেই জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যায়। পাশাপাশি প্রশাসনিক সহায়তা বৃদ্ধি ও নীতিগত প্রণোদনা দেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।
ময়মনসিংহ ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান সেলিমা বেগম বলেন, এ উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আঞ্চলিকভাবে একটি অনুকরণীয় উদাহরণ তৈরি করতে পারবে। পরিচ্ছন্ন, সাশ্রয়ী ও টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
শাহ্ নাফিউল্লাহ সৈকত 
























