ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ফুচকার অর্ডার দেওয়া নিয়ে দুই গ্রামের তরুণদেন বিরোধে সংঘাতে শিপন মিয়া (১৮) নামে এক তরুণ হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত করে। মামলায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন বিকেলে উচাখিলা ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ের মরিচারচর বটতলা গ্রামের তুহিন মিয়া নামের এক তরুণ তাঁর বোনকে নিয়ে ঘুরতে যান। তিনি ফুচকার দোকানে অর্ডার দেন। এ সময় চর আলগী গ্রামের কয়েক তরুণ ওই দোকানে ফুচকার অর্ডার দেন। ফুচকা আগে–পরে দেওয়া নিয়ে ওই দুই পক্ষের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে চরআলগী ও মরিচারচর গ্রামের তরুণদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে স্থানীয় লোকজন দুই পক্ষকে সরিয়ে দেন। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়।
এর মধ্যেই গত শনিবার রাত ৯টার দিকে ইব্রাহিম খলিল নামের এক ব্যবসায়ীকে ডেকে চরআলগী গ্রামে নিয়ে মারধর করেন সেখানকার বাসিন্দারা। এর জের ধরে আজ মরিচারচর গ্রামের কয়েক শ বাসিন্দা দেশি অস্ত্র নিয়ে চরআলগী গ্রামে হামলা করেন। তারা ১৫-২০টি বাড়ি ভাঙচুর ও ৩০-৪০টি খড়ের গাদায় অগ্নিসংযোগ করেন। এসময় দুপক্ষের কয়েকজন আহত হন। এ সময় পেটে ছুরিকাঘাত করা মরিচারচর গ্রামের শিপন মিয়াকে প্রথমে ঈশ্বরগঞ্জ পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে গত সোমবার দুপুর ২ টার দিকে মৃত্যু হয়।
শিপন হত্যার ঘটনায় তার বাবা মো. রমজান আলী বাদি হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ আজ বৃহস্পতিবার সেটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে। সে মামলায় উচাখিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হাসান খানকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে।
এর আগে চরআলগী গ্রামে বাড়িঘর ভাংচুরের ঘটনায় মো. কানন মিয়া বাদি হয়ে ২ জুন একটি মামলা করেন। ওই মামলায় ইউনিয়নটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলামসহ ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরও ১৩০-১৫০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। ওই মামলায় আরমান, আরাফাত ও ইমন নামে তিন ভাইকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মো. রবিউল আজম বলেন, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে মারামারিতে আহত এক তরুণ নিহতের ঘটনায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে হুকুমের আসামি করে মামলা হয়েছে। এ মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। আসামিদের ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার 




















