ময়মনসিংহের নান্দাইলে একখণ্ড জমির মালিকানা নিয়ে দুজনের মধ্যে বিবাদ চলছিল। সেই বিবাদের জের ধরে দুই ব্যক্তির সমর্থক দুই গ্রামের বাসিন্দারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় খারুয়া বাজারে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, দোকানপাঠ ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও র্যাবের উপস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসন বাজার ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল ১০ টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত নান্দাইল উপজেলার খারুয়া বাজার ও আশেপাশে এলাকায় এ ঘটনা ঘটে| বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত বাজারের অনতিদূরে দুই পক্ষের লোকজকে অবস্থান করতে দেখা গেছে।
সুত্র জানায়, প্রায় ২০-২২ বছর আগে খারুয়া গ্রামে একখণ্ড জমি ক্রয় করেন আবদুর রউফ ভুঁইয়া ও শওকত আলী। সেই জমির চৌহদ্দি নিয়ে দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। দুজনের দ্বন্দ্ব মেটানোর জন্য এলাকায় একাধিক সালিস অনুষ্ঠিত হলেও তা নিরসন হয়নি।
গতকাল বুধবার পুরোনো দ্বন্দ্বের জের ধরে শওকত আলী তাঁর লোকজনকে নিয়ে বিতর্কিত জমিতে গিয়ে খুঁটি পুঁতে দেওয়ার পাশপাশি রউফের বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। হামলার পর রউফের লোকজন শওকত আলীর জমিতে পুঁতে রাখা খুঁটি উঁপড়ে ফেলে দেয়। এ ঘটনায় শওকতসহ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে নান্দাইল মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন আবদুর রউফ। হামলা ও মামলার ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে বুধবার রাত থেকে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়।
সকালে আবুদর রউফের সমর্থকরা শওকত আলীর ভাই লিয়াকত আলীর রড ও সিমেন্ট বিক্রির দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। হামলাকারীরা দোকানের ভেতরে থাকা মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। এই ঘটনার জের ধরে শওকত আলী সমর্থকরা খারুয়া বাজারে গিয়ে আবুদর রউফের মুদি দোকান ভাঙচুর করে ও মালামাল লুটপাট করে।
সংঘর্ষের সময় নান্দাইল মডেল থানা থেকে বিপুল পরিমাণ পুলিশ খারুয়া বাজারে গিয়ে অবস্থান নেয়। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ খারুয়া বাজারে বিভিন্ন স্পটে অবস্থান নিয়ে আট রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে। খবর পেয়ে র্যাব ১৪ এর একটি দল ময়মনসিংহ থেকে এসে খারুয়া বাজারে যায়। দুই বাহিনীর সদস্যরা মুহুর্মুহু বাঁশি ফুঁকিয়ে বাজারের অলিগলিতে প্রবেশ করে দাঙ্গাবাজদের ধাওয়া করে।
এ দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাতেমা জান্নাত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ১৪৪ ধারা জারির ঘোষণা দেন। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী খারুয়া বাজার জনশুন্য করে সংঘর্ষ থামায়। সংঘর্ষ চলার সময় আবুদর রউফ ভূঁইয়ার দোকানসহ কয়েকটি ছোটবড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল লুটপাট হয়।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য আবদুর রউফের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর ছেলে মাহফুজুর রহমান বলেন, বিনা কারণে শওকত আলী ও তাঁর লোকজন আমাদের বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা করেছে। আমরা তাঁর শাস্তি চাই।
অন্যদিকে শওকত আলীকে না পাওয়ায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি। তাঁর বাড়ি বাজারের পাশে নরেন্দ্রপুর গ্রামে। শওকত আলীর পক্ষের লোকজনের দাবি যে জমি নিয়ে বিতর্ক চলছে তার মালিক শওকত আলী। দুজন একই মালিকের কাছ থেকে জমি ক্রয় করেছেন। ক্রয়কৃত জমিতে শওকতের নিজস্ব স্থাপনা রয়েছে। রউফের লোকজন সেই স্থাপনাটি ভেঙে ফেলেছে।
স্টাফ রিপোর্টার 























