সাভারের রানা প্লাজা ধসের এক যুগ পূর্ণ হলো ২৪ এপ্রিল। ২০১৩ সালের এই দিনে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকার আটতলা ভবনটি ধসে পড়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনার জন্ম দেয়। এটি বিশ্বের ইতিহাসে তৃতীয় বৃহত্তম শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।
দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ১,১৩৬ জন শ্রমিক, আহত হন আরও প্রায় দুই হাজার। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ, আর যারা বেঁচে আছেন তাদের অনেকেই আজও সেই দুঃস্বপ্ন ভুলতে পারেননি।
দীর্ঘ ১২ বছরেও নিষ্পত্তি হয়নি মামলা, শেষ হয়নি বিচার। তিন বছর আগে শুরু হওয়া সাক্ষ্যর ৫ ভাগের একভাগও শেষ হয়নি।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের আইন সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, “এই ঘটনা দুর্ঘটনা নয়, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ১২ বছরেও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত হয়নি, আহতরা এখনও চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য সংগ্রাম করছেন।”
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, “আহত শ্রমিকরা চিকিৎসার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও জড়িতদের বিচার হয়নি, ক্ষতিপূরণও পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি।”
রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় মোট চারটি মামলা দায়ের হয়—এর মধ্যে একটি হত্যা মামলা, একটি ইমারত নির্মাণ আইনে, এবং দুটি দুর্নীতি দমন কমিশনের করা মামলা। তবে এ পর্যন্ত কেবল সম্পদের তথ্য গোপনের মামলাটি নিষ্পত্তি হয়েছে, বাকি মামলাগুলোর বিচার এখনও ঝুলে রয়েছে।
এক যুগ পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিচার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত না হওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন শ্রমিকরা। তারা বলছেন, এখনই সময় ন্যায়বিচার ও দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠার।





















