২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) চূড়ান্ত করেছে পরিকল্পনা কমিশন। নতুন অর্থবছরের এডিপির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির চেয়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা বেশি। তবে মূল এডিপির তুলনায় এটি ৩৫ হাজার কোটি টাকা কম।
রোববার শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় এ বাজেট অনুমোদন দেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সভা শেষে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ এ তথ্য জানান।
চূড়ান্ত এডিপিতে এক হাজার ১৪২টি প্রকল্পের জন্য মোট ২ লাখ ১৫ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে ৮৬ হাজার কোটি টাকা আসবে।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবারও সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে—৫৮ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ২৫.৬৪ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ৩২ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে (১৪.০৮ শতাংশ)। এছাড়া শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ২৮ হাজার ৫৫৭ কোটি (১২.৪২ শতাংশ), গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধা খাতে ২২ হাজার ৭৭৬ কোটি (৯.৯০ শতাংশ) এবং স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৮ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা (৭.৮৯ শতাংশ)।
এছাড়া, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ১৩ হাজার ৪৭২ কোটি, কৃষি খাতে ১০ হাজার ৭৯৫ কোটি, পরিবেশ ও পানিসম্পদে ১০ হাজার ৬৪১ কোটি, শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবায় ৫ হাজার ৩৮ কোটি, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৩ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
ধর্ম, সংস্কৃতি ও বিনোদন খাতে বরাদ্দ ৩ হাজার ৬৭৫ কোটি, জনশৃঙ্খলা ও সুরক্ষায় ২ হাজার ৭৭৭ কোটি, সামাজিক সুরক্ষায় ২ হাজার ১৮ কোটি, সাধারণ সরকারি সেবায় ১ হাজার ৮৭৭ কোটি এবং প্রতিরক্ষা খাতে ৪৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের মূল এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা, যা পরবর্তীতে কমিয়ে ২ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা করা হয়। আগামি অর্থবছরের এডিপি কিছুটা সাশ্রয়ী হলেও মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর চাহিদা ছিল প্রায় ২ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা।





















