খুলনায় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার সময় আহত হওয়া যুবলীগ নেতা মিনারুল ইসলামকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে এক লাখ টাকার অনুদান প্রদান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৪ মে খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তিনি ‘সি ক্যাটাগরিতে’ এই অনুদান গ্রহণ করেন।
রোববার (১৮ মে) রাতে খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মণ্ডলকে আহ্বায়ক করে ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি, তেরখাদা উপজেলার ইউএনও, দুইজন ছাত্র প্রতিনিধি এবং সহকারী কমিশনার (সাধারণ শাখা) সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
জানা গেছে, মিনারুল ইসলাম তেরখাদা উপজেলার মধুপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। ২০২৩ সালের ৪ আগস্ট খুলনায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলিবর্ষণ ও হামলার ঘটনায় তিনি আহত হন। ঘটনার সময় পালাতে গিয়ে টিনের চালে ঝাঁপ দিলে তার পায়ে আঘাত লাগে।
তেরখাদা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এফ এম মফিজুর রহমান জানান, ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় মিনারুলকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় মিনারুল মধুপুরে ছিলেন এবং ৪ আগস্ট সমাবেশে যোগ দিতে খুলনায় যান।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী চেক বিতরণ করা হয়েছে। মিনারুল ইসলামের নামও মন্ত্রণালয় থেকে সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। তারা একজন বিতর্কিত নেতাকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে অনুদান প্রদানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।
উল্লেখ্য, খুলনায় আহত জুলাই যোদ্ধা ‘সি ক্যাটাগরিতে’ ৬৩ জনের নামে চেক এসেছে, যার মধ্যে ৫০ জন এক লাখ টাকার চেক গ্রহণ করেছেন।





















