০৬:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রেনযাত্রায় বাংলাদেশ

একটা সময় মানুষ পায়ে হেঁটেই পাড়ি দিতো দূর-দূরান্তের পথ। বড়জোর গরুর গাড়ি, অভিজাত সম্প্রদায়ের জন্য ঘোড়ার গাড়ি। পালকির জনপ্রিয়তা থাকলেও পালকি বইতে হতো মানুষকেই। সভ্যতার অগ্রযাত্রার সাথে সাথে আজ সারা বাংলাদেশে গড়ে উঠেছে প্রযুক্তিকেন্দ্রিক যোগাযোগব্যবস্থা। সড়কে বাস, মিনিবাস, মাইক্রোবাস, বিভিন্ন রকম থ্রি-হুইলার, নৌপথে নৌকা, ট্রলার, জাহাজ, আর আকাশপথে (যদিও নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্তের ধোয়ছোঁয়র বাইরে) বিমান, হেলিকপ্টারের মত বাহন বাংলাদেশের মানুষের একস্থান থেকে অন্যস্থানে যাত্রাকে সহজ করে দিয়েছে। আর ট্রেন বা রেলওয়ে বাংলাদেশের যোগাযোগব্যবস্থায় যুক্ত করেছে বহুমুখীতা। বিশ্বের এমন বহু দেশ রয়েছে যেখানে দুর্গমতার কারণে বহু অঞ্চলের সাথে সাধারণ যোগাযোগ স্থাপন করাই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। সেখানে বাংলাদেশের একটি বিরাট অংশের মানুষ সড়ক, নৌপথের পাশাপাশি রেলওয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার সুফল লাভ করছে।

রেলওয়ে বাংলাদেশ সরকারের গণপরিবহন মাধ্যমসমূহের মধ্যে সর্ববৃহৎ রাষ্ট্রীয় পরিবহন খাত। ১৮৬২ সালে চুয়ডাঙ্গার দর্শনা থেকে কুষ্টিয়র জগতি পর্যন্ত রেলপথ স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রথম রেলযুগে প্রবেশ করে। ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে নামক একটি কোম্পানির মাধ্যমে এই রেলপথ স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়। ১৯৪৭ সালের পূর্বে অবিভক্ত ভারতবর্ষে রেলওয়ে বোর্ডের মাধ্যমে তৎকালীন রেলওয়ে পরিচালিত হতো। ভারত বিভক্তির পর পাকিস্তান ইস্টার্ন রেলওয়ে এবং ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর বাংলাদেশ রেলওয়ের আত্মপ্রকাশ। পরবর্তীতে ১৯৮২ সালে রেলপথ বিভাগ এবং ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ে অথরিটি (বিআরএ) গঠন করা হয়। অতঃপর ২০১১ সালে বাংলাদেশ রেলপথ মন্ত্রণালয় গঠন ও তার কার্যক্রম শুরু হয়।

সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ রেলওয়ের মোট ২,৯৫৫.৫৩ কিলোমিটার রুট রয়েছে এবং নিয়মিত কর্মচারী রয়েছে ২৫ হাজার ৮৩ জন। পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল মূলত এই দুইটি অংশে বাংলাদেশ রেলওয়েকে ভাগ করা হয়। পূর্বাঞ্চলের অধীনে রয়েছে সিলেট, চট্টগ্রাম, ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চল; এবং পশ্চিমাঞ্চলের অধীনে রয়েছে রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও ফরিদপুর অঞ্চল। বাংলাদেশে বর্তমানে দুই ধরনের রেলপথ চালু আছে- ব্রডগেজ (৫ ফুট ৬ ইঞ্চি বা ১,৬৭৬ মি.মি.) এবং মিটারগেজ (১,০০০ মি.মি.)। এরমধ্যে পূর্বাঞ্চলে ব্রডগেজ ও মিটারগেজ উভয় ধরনের রেলপথ বিদ্যমান।

রেলওয়ে বাংলাদেশের সাধারণ জনমানুষের পরিবহন মাধ্যম। পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী টিকিটমূল্যের কারণে এর গ্রহণযোগ্যতাও অনেক। বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে রেলওয়েকে খুব সহজেই অন্যতম লাভজনক যোগাযোগ খাতে পরিণত করা যায়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও কার্যক্ষেত্রে বিষয়টি এখনো বাস্তবায়ন করা সম্ভবপর হয়ে ওঠেনি। বাংলাদেশ সরকার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিছু অব্যবস্থাপনা আর কিছু অসাধু তৎপরতা এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা। টিকিট কালোবাজারি, ট্রেনের টাইম সিডিউল ঠিক রাখতে না পারা, বিনা টিকিটে ভ্রমণ, রেলের পুরনো ইঞ্জিন ও বগি, আসন সংখ্যার অপ্রতুলতা প্রভৃতি নানা সমস্যা রেলওয়ের লাভজনক হয়ে ওঠার পথে প্রতিবন্ধক। সাধারণ জনসাধারণের কথা চিন্তা করে বাংলাদেশ সরকার উন্নয়নমূলক নানা কার্যক্রম গ্রহণের মধ্য দিয়ে জনসেবায় রেলওয়েকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে।

সরকার ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে রেলওয়ে খাতকে কেবল লাভজনক করে তোলাই নয়, বরং রাজস্ব আহরণের মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও যেন এ খাত বিরাট অবদান রাখতে পারে তার সফল বাস্তবায়ন সম্ভব। টিকিট কালোবাজারি রোধে বাংলাদেশ রেলওয়ে তার নিজস্ব অ্যাপ ‘রেলসেবা’র মাধ্যমে অনলাইনে ট্রেনের টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা করেছে। এক্ষেত্রে একটি এনআইডি নাম্বার ও কিছু তথ্য প্রদানের বিপরীতে একজন ব্যক্তি নির্দিষ্ট সংখ্যক টিকিট ক্রয় করতে পারছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-সেবা ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও সুনির্দিষ্ট তথ্যসমূহ প্রদান করে টিকিট ক্রয় করা যাচ্ছে। ফলে সশরীরে কাউন্টারে যাওয়র প্রয়োজন পড়ছে না। যাত্রীর পরিশ্রম কমছে, টিকিট কালোবাজারির সুযোগও অনেকটাই কমে আসছে। বিশেষ করে বিগত বছরগুলোতে ঈদের সময় যাত্রীভোগান্তি ও যানজট লাঘবে অনলাইন টিকেটিং ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

রেলওয়েকে এগিয়ে নিতে যাত্রীসাধারণের সচেতনতা ও নৈতিকতা কাম্য। বিনা টিকিটে রেলভ্রমণ করা যাবে না। বুঝতে হবে, ট্রেনের একটি পরিচালন ব্যয় রয়েছে। দেশের সম্পদ রক্ষায় নিজ জায়গা থেকে সবাইকে সচেষ্ট থাকতে হবে। ট্রেনের টাইম সিডিউল ঠিক রাখতে কর্তৃপক্ষ বর্তমানে অনেক বেশি উদ্যোগী। ট্রেনে গতি আনতে ও আসনস্বল্পতা কমাতে প্রয়োজনমাফিক নতুন রেলইঞ্জিন ও বগি ক্রয় করছে সরকার। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রেলসেতুসমূহ যেমন নিরবচ্ছিন্ন রেলসংযোগ বজায় রাখছে, তেমনি বিভিন্ন সময়ে এদের সংস্কার ও উন্নয়নে কার্যক্রম চলছে। দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথকে সঠিকভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হলে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক পর্যটনের বিকাশ আরো সমৃদ্ধ হবে।

সভ্যতা এগিয়ে চলেছে। কেবল মেট্রোরেল নয়, দ্রুতগতির রেলওয়ে ব্যবস্থা স্থাপনের মধ্য দিয়ে দেশের যোগাযোগখাতকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাওয় সম্ভব। রেলওয়ের আধুনিকায়নে বাংলাদেশ সরকারও পরিকল্পনামাফিক এগিয়ে যাচ্ছে।

তুলনামূলক নিরাপদ পরিবহন হলেও ট্রেন দুর্ঘটনার কথা শোনা যায় না, তা নয়। দায়িত্বে অবহেলাসহ বিভিন্ন কারণে ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটছে। রাজনৈতিক ও অন্যান্য দাবি-দাওয় নিয়ে আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে রেললাইন তুলে ফেলা হয়। ট্রেন দুর্ঘটনার পেছনে মানবসৃষ্ট এসব কারণ নিবারণে মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম থাকাটা জরুরী। আজও অর্থনৈতিকভাবে দেশের একেবারে দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য সবচেয়ে সহজ ও সাশ্রয়ী যোগাযোগমাধ্যম হচ্ছে ট্রেন। ট্রেনযাত্রার শারীরিক প্রভাবও অত্যন্ত সীমিত। দেশকে ভালবাসতে হবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণ পর্যন্ত সকলেই যদি দেশের সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণে নিজ অংশীদারিত্বের প্রতিফলন ঘটায়, তবে শুধু রেলওয়ে সেক্টর নয়, সকল সেক্টরে কাঙ্খিত উন্নয়নের মধ্য দিয়ে সোনার বাংলাদেশ তৈরি হবে নিশ্চয়ই।

লেখক: সহকারী তথ্য অফিসার, আঞ্চলিক তথ্য অফিস, ময়মনসিংহ।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

সংগীত উৎসবে মদ নিষিদ্ধ করল ফ্রান্স

অনৈতিকতার বিরুদ্ধে সামাজিক যুদ্ধ শুরুর আহবান প্রিন্সের

20 June 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ট্রেনযাত্রায় বাংলাদেশ

পোষ্টের সময় : ০১:৪৮:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ মে ২০২৫

একটা সময় মানুষ পায়ে হেঁটেই পাড়ি দিতো দূর-দূরান্তের পথ। বড়জোর গরুর গাড়ি, অভিজাত সম্প্রদায়ের জন্য ঘোড়ার গাড়ি। পালকির জনপ্রিয়তা থাকলেও পালকি বইতে হতো মানুষকেই। সভ্যতার অগ্রযাত্রার সাথে সাথে আজ সারা বাংলাদেশে গড়ে উঠেছে প্রযুক্তিকেন্দ্রিক যোগাযোগব্যবস্থা। সড়কে বাস, মিনিবাস, মাইক্রোবাস, বিভিন্ন রকম থ্রি-হুইলার, নৌপথে নৌকা, ট্রলার, জাহাজ, আর আকাশপথে (যদিও নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্তের ধোয়ছোঁয়র বাইরে) বিমান, হেলিকপ্টারের মত বাহন বাংলাদেশের মানুষের একস্থান থেকে অন্যস্থানে যাত্রাকে সহজ করে দিয়েছে। আর ট্রেন বা রেলওয়ে বাংলাদেশের যোগাযোগব্যবস্থায় যুক্ত করেছে বহুমুখীতা। বিশ্বের এমন বহু দেশ রয়েছে যেখানে দুর্গমতার কারণে বহু অঞ্চলের সাথে সাধারণ যোগাযোগ স্থাপন করাই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। সেখানে বাংলাদেশের একটি বিরাট অংশের মানুষ সড়ক, নৌপথের পাশাপাশি রেলওয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার সুফল লাভ করছে।

রেলওয়ে বাংলাদেশ সরকারের গণপরিবহন মাধ্যমসমূহের মধ্যে সর্ববৃহৎ রাষ্ট্রীয় পরিবহন খাত। ১৮৬২ সালে চুয়ডাঙ্গার দর্শনা থেকে কুষ্টিয়র জগতি পর্যন্ত রেলপথ স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রথম রেলযুগে প্রবেশ করে। ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে নামক একটি কোম্পানির মাধ্যমে এই রেলপথ স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়। ১৯৪৭ সালের পূর্বে অবিভক্ত ভারতবর্ষে রেলওয়ে বোর্ডের মাধ্যমে তৎকালীন রেলওয়ে পরিচালিত হতো। ভারত বিভক্তির পর পাকিস্তান ইস্টার্ন রেলওয়ে এবং ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর বাংলাদেশ রেলওয়ের আত্মপ্রকাশ। পরবর্তীতে ১৯৮২ সালে রেলপথ বিভাগ এবং ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ে অথরিটি (বিআরএ) গঠন করা হয়। অতঃপর ২০১১ সালে বাংলাদেশ রেলপথ মন্ত্রণালয় গঠন ও তার কার্যক্রম শুরু হয়।

সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ রেলওয়ের মোট ২,৯৫৫.৫৩ কিলোমিটার রুট রয়েছে এবং নিয়মিত কর্মচারী রয়েছে ২৫ হাজার ৮৩ জন। পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল মূলত এই দুইটি অংশে বাংলাদেশ রেলওয়েকে ভাগ করা হয়। পূর্বাঞ্চলের অধীনে রয়েছে সিলেট, চট্টগ্রাম, ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চল; এবং পশ্চিমাঞ্চলের অধীনে রয়েছে রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও ফরিদপুর অঞ্চল। বাংলাদেশে বর্তমানে দুই ধরনের রেলপথ চালু আছে- ব্রডগেজ (৫ ফুট ৬ ইঞ্চি বা ১,৬৭৬ মি.মি.) এবং মিটারগেজ (১,০০০ মি.মি.)। এরমধ্যে পূর্বাঞ্চলে ব্রডগেজ ও মিটারগেজ উভয় ধরনের রেলপথ বিদ্যমান।

রেলওয়ে বাংলাদেশের সাধারণ জনমানুষের পরিবহন মাধ্যম। পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী টিকিটমূল্যের কারণে এর গ্রহণযোগ্যতাও অনেক। বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে রেলওয়েকে খুব সহজেই অন্যতম লাভজনক যোগাযোগ খাতে পরিণত করা যায়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও কার্যক্ষেত্রে বিষয়টি এখনো বাস্তবায়ন করা সম্ভবপর হয়ে ওঠেনি। বাংলাদেশ সরকার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিছু অব্যবস্থাপনা আর কিছু অসাধু তৎপরতা এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা। টিকিট কালোবাজারি, ট্রেনের টাইম সিডিউল ঠিক রাখতে না পারা, বিনা টিকিটে ভ্রমণ, রেলের পুরনো ইঞ্জিন ও বগি, আসন সংখ্যার অপ্রতুলতা প্রভৃতি নানা সমস্যা রেলওয়ের লাভজনক হয়ে ওঠার পথে প্রতিবন্ধক। সাধারণ জনসাধারণের কথা চিন্তা করে বাংলাদেশ সরকার উন্নয়নমূলক নানা কার্যক্রম গ্রহণের মধ্য দিয়ে জনসেবায় রেলওয়েকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে।

সরকার ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে রেলওয়ে খাতকে কেবল লাভজনক করে তোলাই নয়, বরং রাজস্ব আহরণের মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও যেন এ খাত বিরাট অবদান রাখতে পারে তার সফল বাস্তবায়ন সম্ভব। টিকিট কালোবাজারি রোধে বাংলাদেশ রেলওয়ে তার নিজস্ব অ্যাপ ‘রেলসেবা’র মাধ্যমে অনলাইনে ট্রেনের টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা করেছে। এক্ষেত্রে একটি এনআইডি নাম্বার ও কিছু তথ্য প্রদানের বিপরীতে একজন ব্যক্তি নির্দিষ্ট সংখ্যক টিকিট ক্রয় করতে পারছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-সেবা ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও সুনির্দিষ্ট তথ্যসমূহ প্রদান করে টিকিট ক্রয় করা যাচ্ছে। ফলে সশরীরে কাউন্টারে যাওয়র প্রয়োজন পড়ছে না। যাত্রীর পরিশ্রম কমছে, টিকিট কালোবাজারির সুযোগও অনেকটাই কমে আসছে। বিশেষ করে বিগত বছরগুলোতে ঈদের সময় যাত্রীভোগান্তি ও যানজট লাঘবে অনলাইন টিকেটিং ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

রেলওয়েকে এগিয়ে নিতে যাত্রীসাধারণের সচেতনতা ও নৈতিকতা কাম্য। বিনা টিকিটে রেলভ্রমণ করা যাবে না। বুঝতে হবে, ট্রেনের একটি পরিচালন ব্যয় রয়েছে। দেশের সম্পদ রক্ষায় নিজ জায়গা থেকে সবাইকে সচেষ্ট থাকতে হবে। ট্রেনের টাইম সিডিউল ঠিক রাখতে কর্তৃপক্ষ বর্তমানে অনেক বেশি উদ্যোগী। ট্রেনে গতি আনতে ও আসনস্বল্পতা কমাতে প্রয়োজনমাফিক নতুন রেলইঞ্জিন ও বগি ক্রয় করছে সরকার। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রেলসেতুসমূহ যেমন নিরবচ্ছিন্ন রেলসংযোগ বজায় রাখছে, তেমনি বিভিন্ন সময়ে এদের সংস্কার ও উন্নয়নে কার্যক্রম চলছে। দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথকে সঠিকভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হলে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক পর্যটনের বিকাশ আরো সমৃদ্ধ হবে।

সভ্যতা এগিয়ে চলেছে। কেবল মেট্রোরেল নয়, দ্রুতগতির রেলওয়ে ব্যবস্থা স্থাপনের মধ্য দিয়ে দেশের যোগাযোগখাতকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাওয় সম্ভব। রেলওয়ের আধুনিকায়নে বাংলাদেশ সরকারও পরিকল্পনামাফিক এগিয়ে যাচ্ছে।

তুলনামূলক নিরাপদ পরিবহন হলেও ট্রেন দুর্ঘটনার কথা শোনা যায় না, তা নয়। দায়িত্বে অবহেলাসহ বিভিন্ন কারণে ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটছে। রাজনৈতিক ও অন্যান্য দাবি-দাওয় নিয়ে আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে রেললাইন তুলে ফেলা হয়। ট্রেন দুর্ঘটনার পেছনে মানবসৃষ্ট এসব কারণ নিবারণে মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম থাকাটা জরুরী। আজও অর্থনৈতিকভাবে দেশের একেবারে দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য সবচেয়ে সহজ ও সাশ্রয়ী যোগাযোগমাধ্যম হচ্ছে ট্রেন। ট্রেনযাত্রার শারীরিক প্রভাবও অত্যন্ত সীমিত। দেশকে ভালবাসতে হবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণ পর্যন্ত সকলেই যদি দেশের সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণে নিজ অংশীদারিত্বের প্রতিফলন ঘটায়, তবে শুধু রেলওয়ে সেক্টর নয়, সকল সেক্টরে কাঙ্খিত উন্নয়নের মধ্য দিয়ে সোনার বাংলাদেশ তৈরি হবে নিশ্চয়ই।

লেখক: সহকারী তথ্য অফিসার, আঞ্চলিক তথ্য অফিস, ময়মনসিংহ।

Share this news as a Photo Card