ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা ও জামালপুর জেলার গারো পাহাড়ের পাদদেশ ঘেরা ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বন্যহাতি প্রায়ই তান্ডব চালায়। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি প্রাণহানির ঘটনাও প্রায়ই ঘটে। অনেক সময় আবার হাতিকেও মানুষের রোষানলে পড়ে প্রাণ দিতে হয়। হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসে সীমান্ত গারো পাহাড় এলাকায় বন্য হাতির জন্য অভয়ারণ্য গড়ে তোলার দাবী দীর্ঘ দিনের। এবার সেই অভয়ারাণ্য গড়ে তোলা কথা বলেছেন অন্তবর্তীকালীন সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
তিনি বলেছেন, গারো পাহাড়ে হাতি-মানুষ দ্বন্দ্ব নিরসন করতে হাতির জন্য অভয়ারণ্য গড়ে তোলা হবে। সোমবার সকালে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার দাওধারা-কাটাবাড়ি এলাকায় প্রস্তাবিত পর্যটন কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘বিশ্বের অনেক জায়গায় মানুষ ও হাতি সহাবস্থান করে। কিন্তু আমাদের দেশে জায়গা ও খাবারের স্বল্পতা থাকায় হাতির জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য ও চলাচলের পরিবেশ তৈরি করা যাচ্ছে না। তাই কী করলে হাতি লোকালয়ে আসবে না, সে বিষয়ে আমরা কাজ করব।’
হাতি মৃত্যুর বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার দুই সপ্তাহেই ১২টি হাতি মারা গেছে। এটা মোটেও স্বাভাবিক বিষয় নয়। বহুদিনের অবহেলার কারণে সমস্যা এখন চরমে পৌঁছেছে। এর একমাত্র সমাধান হচ্ছে হাতি-মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করা।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, ‘কতটুকু জায়গা হাতির উপযোগী আছে এবং কতটুকু উপযোগী করা সম্ভব, সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি। হাতি বন ছেড়ে আর যেন লোকালয়ে না আসে, সে লক্ষ্যেই পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। হাতি মারা যাওয়া যেমন কাম্য নয়, তেমনি মানুষের মৃত্যুও কাম্য নয়।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান বন সংরক্ষক আমীর হোসাইন চৌধুরী, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মো. নুরুল কবীর, জেলা প্রশাসক তরফদার মো. মাহমুদুর রহমান, বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ রেজা খান ও নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার।





















