গত ৫ আগস্টের পর জামালপুরের মাদারগঞ্জ মডেল থানায় ১০ মাসে চার বার ওসি বদল হয়েছে। চতুর্থ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হয়েছেন সাইফুল্লাহ সাইফ। গত রোববার (১৫ জুন) খুলনায় বিএনপি নেতাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় মাদারগঞ্জ মডেল থানার ওসি হাসান আল মামুনকে কারাগারে প্রেরণ করে আদালত। সেদিনই এক অফিস আদেশে জেলার ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল্লাহ সাইফকে মাদারগঞ্জ মডলে থানার নতুন ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়।
কয়েক মাস পর পর ওসি বদলের এ ঘটনাগুলো ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বত্র চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
প্রতিটি ওসির মেয়াদকাল ছিল তুলনামূলকভাবে কম, কেউ কেউ মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই বদলি হয়ে যান। থানায় দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বে না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থায়ী কৌশল গ্রহণে প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এ নিয়ে জনমনেও তৈরি হচ্ছে নানা জল্পনা-কল্পনা, তৈরি হচ্ছে নানাবিধ প্রশ্ন!
থানা সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই জামালপুরের নরুন্দি তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ নূর মোহাম্মদকে বদলি করে মাদারগঞ্জ মডেল থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর দুই মাস সাত দিন পর নূর মোহাম্মদকে বদলি করে ২৩ সেপ্টেম্বর শাহীনুর আলমকে নতুন ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়।
দুই মাস ৫দিন দায়িত্ব পালনের পর তিনি গত বছরের ২৮ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলায় বদলি হয়ে যান। পরদিন ২৯ নভেম্বর খুলনা সদর থানার সাবেক ওসি হাসান আল মামুন এই থানায় নতুন ওসি হিসেবে যোগ দেন। ছয় মাস ১৭দিন দায়িত্ব পালনের পর গতকাল রোববার (১৫ জুন) তাকে একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়। সর্বশেষ হাসান আল মামুনের স্থলে নতুন ওসি হিসেবে সাইফুল্লাহ সাইফকে পদায়ন করা হয়। এ নিয়ে গত ১০ মাসে চার ওসিকে মাদারগঞ্জ মডেল থানা থেকে বদল করা হলো।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি খুলনা নগরীর কে ডি ঘোষ রোডে বিএনপির কর্মসূচিতে হামলা চালিয়ে মহানগর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ফখরুল আলমকে পিটিয়ে জখম করেন ওসি হাসান আল মামুন। এতে ফখরুল আলমের একটি চোখ নষ্ট হয়ে যায়। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট হাসান আল মামুনের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা করেন ফখরুল আলম। আদালতের নির্দেশে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে।
তিন দফা সমন জারির পরও আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ২৩ মার্চ খুলনার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালত তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন। পরে পুলিশের এই কর্মকর্তা উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেন। গতকাল রোববার খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে জেল হাজাতে পাঠানো হয়।





















