ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা বোকাইনগর ইউনিয়নের কবিরাজপাড়া গ্রামে বুধবার (২ জুলাই) দুপুরে কচুক্ষেত থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে গৌরীপুর থানার পুলিশ। তাঁর গলায় কলাগাছের মরা ডাটা দিয়ে শক্ত করে প্যাঁচানো ছিলো। এক শিশু বাড়ির পাশে ঘুড়ি উড়াতে গিয়ে কচুক্ষেতে মরদেহটি দেখতে পায়। পুলিশের ধারণা, ধর্ষণের পর তাকে শ্বাসরুদ্ধকরে হত্যা করেছে দূর্বৃত্তরা।
নিহত নারী পার্শ্ববর্তী কাওলাটিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল গণির মেয়ে হোসনে আরা বেগম (৩৫)। ঘটনাস্থল থেকে তাঁর বাড়ি এক কিলোমিটার দুরে। তিনি স্বামী পরিত্যাক্ত ছিলেন। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। নিঃসন্তান হোসনে আরা তার মায়ের সাথে থাকতেন।
নিহতের মা রাবেয়া বেগম জানান, ফজরের আজানের আগে বোরকা পড়ে ঘর থেকে বের হয়ে যায় হোসনে আরা, তারপর আর ফিরে আসেনি।
হোসনে আরা বেগমের চাচী রোজিনা আক্তার জানান, প্রায় ১২ বছর আগে খালাতো ভাইয়ের সাথে হোসনে আরা বেগমের বিয়ে হয়েছিল। স্বামী অন্য নারীতে আসক্ত হওয়ায় বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন তিনি। সেই থেকে নিঃসন্তান এই নারী মায়ের কাছেই থাকেন। কয়েক বছর যাবত তাঁর মানসিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। তিনি প্রায়ই রাতে একা একা ঘর থেকে বের হয়ে যেতেন। ধারণা করা হচ্ছে, রাতে কোন একসময় একা পেয়ে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে দূর্বৃত্তরা।
এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
প্রতিবেশি মাওলানা আবু ইউসুফ জানান, ছোটবেলায় হোসনে আরার বাবা মারা গেছেন। বিয়ের পর সংসার বেশিদিন ঠিকেনি, তাই মানসিকভাবে কিছুটা অপ্রকৃস্থ ছিলেন তিনি। কিন্তু হোসনে আরা সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি হয়ে থাকতেন। কোন শত্রুতা নয়, ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে, এমনটাই মনে হচ্ছে আমাদের।
বোকাইনগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ হাবিবুল ইসলাম খান শহীদ বলেন- হোসনে আরার সাথে কারও কোন বিরোধ ছিলো না, সে অনেকটা প্রতিবন্ধীর মতো। আমাদের ধারণা, রাতে একা পেয়ে ধর্ষণের পর তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।
গৌরীপুর থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ দিদারুল ইসলাম বলেন, হোসনে আরাকে শ্বাসরুদ্ধকরে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর গলায় কলাগাছের শুঁকনো ডাটা শক্ত করে প্যাঁচানো ছিল। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।ও





















