০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিন দিন পর নিখোঁজ অটো চালকের বস্তা বন্দি লাশ উদ্ধার

 

নেত্রকোনার মদন উপজেলার আরগিলা গ্রামের হতদরিদ্র আবুল মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়া (২৫)। গত সোমবার নিজ উপজেলা মদনে অটো চালাতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। তিন দিন পর বৃহস্পতিবার কেন্দুয়া উপজেলার কাঞ্জারখালে প্লাস্টিকের বস্তা বন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এমন খবরে গ্রামের বাড়ি আরগিলায় শোকের মাতম বইছে। রাসেলের এমন খবরে তার স্ত্রী ইমা আক্তার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন, মা নিস্তব রাহেলা আক্তার। বাবা আবুল মিয়া এমন খবরে শোকে কাতর।

 

তবে খুন হওয়া রাসেল ছিল পরিবারটির একমাত্র আয় রোজগারের শেষ সম্বল। প্রায় দুই লাখ টাকা ঋন করে এ অটোটি ক্রয় করেছিল নিহত রাসেল মিয়া। রাসেলের মৃত্যুর সংবাদে নিজ গ্রাম আরগিলায় চলছে শোকের মাতম।

 

মা রাহেলা আক্তার জানান, আমার পুতের একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে। গত ছয়দিন হয় আমার ছেলেটির একটি মেয়ে সন্তান জন্ম দিয়েছে। আমার ছেলে রাসেলেই ছিল একমাত্র আয় রোজগারের শেষ সম্বল। আমাদের ভিটাবাড়ি বাড়ি আর কিছুই নেই। আমার দুই ছেলে। ওই আমাদের বুড়াবুড়িকে খাওয়াত। এখন আমাদের ভিক্ষা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। কি করব নিজে খাইয়াম না তার বউ ছেলে মেয়েরে খাওয়াম কিছুই বুঝে উঠতে ছিনা। ছেলে যে অটো কিনতে দুই লাখ টাকা ঋন লাগাইছে এই টাকা কেমনে সুদ করব তাও বুঝে উঠতেছি না। তিনি আরও জানান, আমার রাসেলের কোন শূত্রæ ছিল না। কেন মারল আমার পুতরে ? যারা আমার পুতরে মারছে হত্যা করছে তাদের আমি ফাঁসি চাই।

 

বাবা আবুল মিয়া জানান, গত সোমবার আমার পুত অটো নিয়ে মদন বাজারের দিকে যায়। এই সময় দশটা বাজে। দিনের আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে আমার পুতের মোবাইল ফোন বন্ধ পাই। এর পর থেকেই আমার সন্দেহ সৃষ্টি হয়। মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বিভিন্ন জায়াগায় খোঁজাখুজি করি। আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে যাই কোথাও আর পুতরে পাইনা। অবশেষে মঙ্গলবার রাতে মদন থানায় একটি নিখোঁজের সাধারণ ডাইরি করি।

 

এহন আমার পুতের খবর পাইলাম লাশ পাওয়া গেছে কেন্দুয়া উপজেলায়। আমি খুব গরীব মানুষ দুই ছেলে থাকলেও রাসেল আমার ও আমার স্ত্রীর ভরণ পোষণ খাওয়া দাওয়া সব কিছু করত। এখন কোথায় খাব কি করব মাতায় ধরতেছে না।

 

এ নিয়ে মদন থানার ওসি নাঈম মুহাম্মদ নাহিদ হাসান জানান, মদন উপজেলার আরগিলা গ্রামের নিখোঁজ অটো চালকের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে কেন্দুয়া থানা পুলিশ। কেন্দুয়া উপজেলায় এ নিয়ে হত্যা মামলা রজু হবে।

 

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

প্রয়োজনে বিমান টিকিট দেব, তবুও দেশে আসুন: হাসিনাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় হিফজ প্রতিযোগিতায় দেশসেরা দুই হাফেজ, নকলায় রাজকীয় সংবর্ধনা

06 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

তিন দিন পর নিখোঁজ অটো চালকের বস্তা বন্দি লাশ উদ্ধার

পোষ্টের সময় : ০৯:২৮:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫

 

নেত্রকোনার মদন উপজেলার আরগিলা গ্রামের হতদরিদ্র আবুল মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়া (২৫)। গত সোমবার নিজ উপজেলা মদনে অটো চালাতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। তিন দিন পর বৃহস্পতিবার কেন্দুয়া উপজেলার কাঞ্জারখালে প্লাস্টিকের বস্তা বন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এমন খবরে গ্রামের বাড়ি আরগিলায় শোকের মাতম বইছে। রাসেলের এমন খবরে তার স্ত্রী ইমা আক্তার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন, মা নিস্তব রাহেলা আক্তার। বাবা আবুল মিয়া এমন খবরে শোকে কাতর।

 

তবে খুন হওয়া রাসেল ছিল পরিবারটির একমাত্র আয় রোজগারের শেষ সম্বল। প্রায় দুই লাখ টাকা ঋন করে এ অটোটি ক্রয় করেছিল নিহত রাসেল মিয়া। রাসেলের মৃত্যুর সংবাদে নিজ গ্রাম আরগিলায় চলছে শোকের মাতম।

 

মা রাহেলা আক্তার জানান, আমার পুতের একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে। গত ছয়দিন হয় আমার ছেলেটির একটি মেয়ে সন্তান জন্ম দিয়েছে। আমার ছেলে রাসেলেই ছিল একমাত্র আয় রোজগারের শেষ সম্বল। আমাদের ভিটাবাড়ি বাড়ি আর কিছুই নেই। আমার দুই ছেলে। ওই আমাদের বুড়াবুড়িকে খাওয়াত। এখন আমাদের ভিক্ষা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। কি করব নিজে খাইয়াম না তার বউ ছেলে মেয়েরে খাওয়াম কিছুই বুঝে উঠতে ছিনা। ছেলে যে অটো কিনতে দুই লাখ টাকা ঋন লাগাইছে এই টাকা কেমনে সুদ করব তাও বুঝে উঠতেছি না। তিনি আরও জানান, আমার রাসেলের কোন শূত্রæ ছিল না। কেন মারল আমার পুতরে ? যারা আমার পুতরে মারছে হত্যা করছে তাদের আমি ফাঁসি চাই।

 

বাবা আবুল মিয়া জানান, গত সোমবার আমার পুত অটো নিয়ে মদন বাজারের দিকে যায়। এই সময় দশটা বাজে। দিনের আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে আমার পুতের মোবাইল ফোন বন্ধ পাই। এর পর থেকেই আমার সন্দেহ সৃষ্টি হয়। মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বিভিন্ন জায়াগায় খোঁজাখুজি করি। আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে যাই কোথাও আর পুতরে পাইনা। অবশেষে মঙ্গলবার রাতে মদন থানায় একটি নিখোঁজের সাধারণ ডাইরি করি।

 

এহন আমার পুতের খবর পাইলাম লাশ পাওয়া গেছে কেন্দুয়া উপজেলায়। আমি খুব গরীব মানুষ দুই ছেলে থাকলেও রাসেল আমার ও আমার স্ত্রীর ভরণ পোষণ খাওয়া দাওয়া সব কিছু করত। এখন কোথায় খাব কি করব মাতায় ধরতেছে না।

 

এ নিয়ে মদন থানার ওসি নাঈম মুহাম্মদ নাহিদ হাসান জানান, মদন উপজেলার আরগিলা গ্রামের নিখোঁজ অটো চালকের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে কেন্দুয়া থানা পুলিশ। কেন্দুয়া উপজেলায় এ নিয়ে হত্যা মামলা রজু হবে।

 

 

Share this news as a Photo Card