০৫:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অব্যবহৃত ছাদেই জ্বালানি বিপ্লব: রুফটপ সোলারে জাতীয় অগ্রাধিকারের জোর দাবি

 

টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং বিদ্যুৎ খাতে কাঙ্ক্ষিত রূপান্তর নিশ্চিত করতে রুফটপ সোলারকে (ছাদ সৌরবিদ্যুৎ) দ্রুত জাতীয় অগ্রাধিকার ঘোষণার দাবি জানিয়েছে নাগরিক সমাজ ও কমিউনিটি প্রতিনিধিরা।

 

রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে নেত্রকোণা পৌর ভবন প্রাঙ্গণে অন্যচিত্র ফাউন্ডেশন ও প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-নেত্রকোণা (FED-Netrokona)-এর উদ্যোগে, ক্লিন, বিডাব্লিউজিইডি এবং স্থানীয় কমিউনিটি প্ল্যাটফর্মসমূহের যৌথ আয়োজনে এক বিশাল মোবিলাইজেশন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় সাংবাদিক, যুব প্রতিনিধি, নারী নেত্রী ও পরিবেশকর্মীরা অংশ নিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির পক্ষে সংহতি প্রকাশ করেন।

 

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যয়বহুল ও আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা অর্থনীতির ওপর বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর বিপরীতে রুফটপ সোলার একটি পরিচ্ছন্ন, সহজলভ্য ও কম ব্যয়বহুল সমাধান হলেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তা যথাযথ অগ্রাধিকার পাচ্ছে না।

 

বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, রুফটপ সোলার কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি নয়–এটি ‘জ্বালানি গণতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার কার্যকর মাধ্যম। ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও গ্রামীণ বাজারের অব্যবহৃত ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায় থেকেই জ্বালানি বিপ্লবের সূচনা সম্ভব। এতে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে, লোডশেডিং হ্রাস পাবে এবং আমদানিকৃত জ্বালানির নির্ভরতা কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

 

সমাবেশে আরও বলা হয়, পরিকল্পিতভাবে রুফটপ সোলার সম্প্রসারণ করলে স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ টেকনিশিয়ান ও উদ্যোক্তা তৈরি হবে, সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থান। বিশেষ করে নারী ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য কমিউনিটি ভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা একটি ন্যায্য ও টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে।

 

কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনের কাছে পাঁচ দফা দাবি পেশ করেন– ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি কর্পোরেশন পর্যন্ত রুফটপ সোলার সম্প্রসারণে সুনির্দিষ্ট নীতিগত ও আর্থিক বরাদ্দ নিশ্চিত করা, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ভবনে বাধ্যতামূলক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন, সাধারণ মানুষের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, ভর্তুকি ও কারিগরি সহায়তা প্রদান, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা এবং জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর মেগা প্রকল্পের পরিবর্তে স্থানীয়ভাবে বাস্তবায়নযোগ্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির রোডম্যাপ প্রণয়ন।

 

বক্তারা সতর্ক করে বলেন, স্থানীয় সরকারকে সম্পৃক্ত না করে কেবল কেন্দ্রভিত্তিক পরিকল্পনা টেকসই হবে না। এখনই রুফটপ সোলারকে জাতীয় অগ্রাধিকার না দিলে দেশ পুনরায় ব্যয়বহুল ও পরিবেশঝুঁকিপূর্ণ জ্বালানি সংকটে নিমজ্জিত হতে পারে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

ফিলিস্তিনকে সমর্থন করা সমগ্র মানবজাতির দায়িত্ব: এরদোয়ান

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সৌরশক্তি: বাংলাদেশে রয়েছে অপার সম্ভাবনা

12 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

অব্যবহৃত ছাদেই জ্বালানি বিপ্লব: রুফটপ সোলারে জাতীয় অগ্রাধিকারের জোর দাবি

পোষ্টের সময় : ০৫:৪১:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং বিদ্যুৎ খাতে কাঙ্ক্ষিত রূপান্তর নিশ্চিত করতে রুফটপ সোলারকে (ছাদ সৌরবিদ্যুৎ) দ্রুত জাতীয় অগ্রাধিকার ঘোষণার দাবি জানিয়েছে নাগরিক সমাজ ও কমিউনিটি প্রতিনিধিরা।

 

রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে নেত্রকোণা পৌর ভবন প্রাঙ্গণে অন্যচিত্র ফাউন্ডেশন ও প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-নেত্রকোণা (FED-Netrokona)-এর উদ্যোগে, ক্লিন, বিডাব্লিউজিইডি এবং স্থানীয় কমিউনিটি প্ল্যাটফর্মসমূহের যৌথ আয়োজনে এক বিশাল মোবিলাইজেশন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় সাংবাদিক, যুব প্রতিনিধি, নারী নেত্রী ও পরিবেশকর্মীরা অংশ নিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির পক্ষে সংহতি প্রকাশ করেন।

 

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যয়বহুল ও আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা অর্থনীতির ওপর বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর বিপরীতে রুফটপ সোলার একটি পরিচ্ছন্ন, সহজলভ্য ও কম ব্যয়বহুল সমাধান হলেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তা যথাযথ অগ্রাধিকার পাচ্ছে না।

 

বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, রুফটপ সোলার কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি নয়–এটি ‘জ্বালানি গণতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার কার্যকর মাধ্যম। ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও গ্রামীণ বাজারের অব্যবহৃত ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায় থেকেই জ্বালানি বিপ্লবের সূচনা সম্ভব। এতে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে, লোডশেডিং হ্রাস পাবে এবং আমদানিকৃত জ্বালানির নির্ভরতা কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

 

সমাবেশে আরও বলা হয়, পরিকল্পিতভাবে রুফটপ সোলার সম্প্রসারণ করলে স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ টেকনিশিয়ান ও উদ্যোক্তা তৈরি হবে, সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থান। বিশেষ করে নারী ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য কমিউনিটি ভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা একটি ন্যায্য ও টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে।

 

কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনের কাছে পাঁচ দফা দাবি পেশ করেন– ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি কর্পোরেশন পর্যন্ত রুফটপ সোলার সম্প্রসারণে সুনির্দিষ্ট নীতিগত ও আর্থিক বরাদ্দ নিশ্চিত করা, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ভবনে বাধ্যতামূলক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন, সাধারণ মানুষের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, ভর্তুকি ও কারিগরি সহায়তা প্রদান, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা এবং জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর মেগা প্রকল্পের পরিবর্তে স্থানীয়ভাবে বাস্তবায়নযোগ্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির রোডম্যাপ প্রণয়ন।

 

বক্তারা সতর্ক করে বলেন, স্থানীয় সরকারকে সম্পৃক্ত না করে কেবল কেন্দ্রভিত্তিক পরিকল্পনা টেকসই হবে না। এখনই রুফটপ সোলারকে জাতীয় অগ্রাধিকার না দিলে দেশ পুনরায় ব্যয়বহুল ও পরিবেশঝুঁকিপূর্ণ জ্বালানি সংকটে নিমজ্জিত হতে পারে।

 

Share this news as a Photo Card