১১:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ ঐতিহাসিক তেলিখালী যুদ্ধ দিবস

 

আজ ৩রা নভেম্বর সোমবার ঐতিহাসিক তেলিখালী যুদ্ধ দিবস। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এ দিনটি এক গৌরবময় অধ্যায়, এক বীরত্বগাঁথা। এ দিনে স্বাধীনতার সেই সব বীর শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল এক সোনার বাংলাদেশ।

 

ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত “তেলিখালী” মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের এক ঐতিহাসিক রণাঙ্গণ হিসেবে আজও ইতিহাসের পাতায় অম্লান। ১৯৭১ সালের এই দিনে তেলিখালী রণাঙ্গণ পরিণত হয়েছিল রক্তে রঞ্জিত প্রান্তরে। ভারতীয় সীমান্তবর্তী তেলিখালী ক্যাম্প পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কাছ থেকে মুক্ত করার জন্য ভারতীয় মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধারা সম্মুখযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়।

 

টানা পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সেই যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের যৌথবাহিনী শত্রুপক্ষকে চরমভাবে পরাস্ত করে। পাকিস্তানি সেনাদের ১২৪ জন এবং তাদের শতাধিক সহযোগী রাজাকার-আলবদরসহ মোট ২৩৪ জনকে খতম করে তেলিখালীকে মুক্তাঞ্চল ঘোষণা করা হয়। তবে এই বিজয় এসেছিল রক্তের বিনিময়ে। এখানে শহীদ হন মিত্রবাহিনীর ২১ জন জওয়ান ও সাতজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধা।

 

শহীদ মুক্তিযোদ্ধারা হলেন-সরিষাবাড়ির শওকত আলী, হালুয়াঘাটের মোঃ আক্তার হোসেন, ফুলপুরের মোঃ হযরত আলী, ময়মনসিংহ সদরের মোঃ আলাউদ্দিন, মোঃ শাহজাহান, শ্রী রঞ্জিত গুপ্ত ও নোয়াখালীর মোঃ ওয়াজি উল্লাহ। তাঁদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাঞ্চলীয় ফ্রন্টে বিজয়ের নতুন অধ্যায় সূচিত হয়। এই ঐতিহাসিক যুদ্ধের মধ্য দিয়েই বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার মুক্তিকামী জনতার সংগ্রাম ও অগ্রযাত্রা আরও ত্বরান্বিত হয়।

 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলী নূর খান জানান, দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপন করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শহীদদের কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিল, ঐতিহাসিক তেলিখালী যুদ্ধ দিবসের তাৎপর্য শীর্ষক স্মৃতিচারণ সভা, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও অতিথিবৃন্দের আপ্যায়নসহ নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম, যিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, “তেলিখালী যুদ্ধ শুধু হালুয়াঘাটের নয়, এটি গোটা জাতির গর্ব ও অনুপ্রেরণার প্রতীক। এই দিবসের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে স্বাধীনতার জন্য কতো রক্ত ও ত্যাগের ইতিহাস লুকিয়ে আছে।”

 

স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও তেলিখালীর সেই রণাঙ্গণের মাটি আজও সাক্ষী হয়ে আছে বীরদের অমর গৌরবের। প্রতি বছর এই দিনে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয় সেই বীর সন্তানদের, যাঁদের আত্মত্যাগেই আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বাকৃবির শহীদ শামসুল হক হলে বৃক্ষরোপণ

প্রবাসে মৃত্যুর ২৭ দিন পর তথ্য প্রতিমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় মরদেহ ফিরল দেশে

07 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

আজ ঐতিহাসিক তেলিখালী যুদ্ধ দিবস

পোষ্টের সময় : ০৪:১৬:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫

 

আজ ৩রা নভেম্বর সোমবার ঐতিহাসিক তেলিখালী যুদ্ধ দিবস। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এ দিনটি এক গৌরবময় অধ্যায়, এক বীরত্বগাঁথা। এ দিনে স্বাধীনতার সেই সব বীর শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল এক সোনার বাংলাদেশ।

 

ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত “তেলিখালী” মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের এক ঐতিহাসিক রণাঙ্গণ হিসেবে আজও ইতিহাসের পাতায় অম্লান। ১৯৭১ সালের এই দিনে তেলিখালী রণাঙ্গণ পরিণত হয়েছিল রক্তে রঞ্জিত প্রান্তরে। ভারতীয় সীমান্তবর্তী তেলিখালী ক্যাম্প পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কাছ থেকে মুক্ত করার জন্য ভারতীয় মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধারা সম্মুখযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়।

 

টানা পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সেই যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের যৌথবাহিনী শত্রুপক্ষকে চরমভাবে পরাস্ত করে। পাকিস্তানি সেনাদের ১২৪ জন এবং তাদের শতাধিক সহযোগী রাজাকার-আলবদরসহ মোট ২৩৪ জনকে খতম করে তেলিখালীকে মুক্তাঞ্চল ঘোষণা করা হয়। তবে এই বিজয় এসেছিল রক্তের বিনিময়ে। এখানে শহীদ হন মিত্রবাহিনীর ২১ জন জওয়ান ও সাতজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধা।

 

শহীদ মুক্তিযোদ্ধারা হলেন-সরিষাবাড়ির শওকত আলী, হালুয়াঘাটের মোঃ আক্তার হোসেন, ফুলপুরের মোঃ হযরত আলী, ময়মনসিংহ সদরের মোঃ আলাউদ্দিন, মোঃ শাহজাহান, শ্রী রঞ্জিত গুপ্ত ও নোয়াখালীর মোঃ ওয়াজি উল্লাহ। তাঁদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাঞ্চলীয় ফ্রন্টে বিজয়ের নতুন অধ্যায় সূচিত হয়। এই ঐতিহাসিক যুদ্ধের মধ্য দিয়েই বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার মুক্তিকামী জনতার সংগ্রাম ও অগ্রযাত্রা আরও ত্বরান্বিত হয়।

 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলী নূর খান জানান, দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপন করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শহীদদের কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিল, ঐতিহাসিক তেলিখালী যুদ্ধ দিবসের তাৎপর্য শীর্ষক স্মৃতিচারণ সভা, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও অতিথিবৃন্দের আপ্যায়নসহ নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম, যিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, “তেলিখালী যুদ্ধ শুধু হালুয়াঘাটের নয়, এটি গোটা জাতির গর্ব ও অনুপ্রেরণার প্রতীক। এই দিবসের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে স্বাধীনতার জন্য কতো রক্ত ও ত্যাগের ইতিহাস লুকিয়ে আছে।”

 

স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও তেলিখালীর সেই রণাঙ্গণের মাটি আজও সাক্ষী হয়ে আছে বীরদের অমর গৌরবের। প্রতি বছর এই দিনে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয় সেই বীর সন্তানদের, যাঁদের আত্মত্যাগেই আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র।

 

Share this news as a Photo Card