ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলের গ্রামীণ চিত্রে নতুন সম্ভাবনার আলো ছড়িয়ে পড়েছে আনারস পাতার মাধ্যমে। দীর্ঘদিন ধরে আনারসের ফল ব্যবহৃত হলেও এর পাতা ফেলে দেওয়া হতো সম্পূর্ণ বর্জ্য ভেবে। কিন্তু এখন সেই পাতাই হয়ে উঠছে সোনার খনি। স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা ‘মেসার্স রনি এগ্রো ফাইবার প্রসেসিং ফার্ম’ আনারস পাতা থেকে সুতা তৈরি করে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে ইউরোপ ও আমেরিকার ফ্যাশন বাজারে রপ্তানি করছে।
এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের জীবনে এনেছে ইতিবাচক পরিবর্তন। আগে যেসব কৃষক আনারস পাতা অপচয় করতেন, এখন তারা তা বিক্রি করে অতিরিক্ত আয় করছেন। ফার্মের শ্রমিকরাও প্রতিদিন নির্দিষ্ট মজুরি পেয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। ফলে শুধু কৃষি নয়, একইসাথে শিল্প ও কর্মসংস্থান খাতেও তৈরি হচ্ছে নতুন দিগন্ত।
প্রক্রিয়াজাতকরণের ধাপও বেশ পরিশ্রমসাধ্য। আনারস পাতা সংগ্রহের পর সেগুলো থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তন্তু বের করা হয়। পরে তা ধুয়ে শুকানো হয় এবং মসৃণ করে সুতা বানানো হয়। এই সুতায় তৈরি হচ্ছে ব্যাগ, টেবিল ম্যাট, কাপড়সহ নানা ফ্যাশন সামগ্রী। ইউরোপ ও আমেরিকার নামকরা ফ্যাশন ব্র্যান্ড ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের তৈরি এই সুতায় আগ্রহ দেখিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির পথ সুগম করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু অর্থনৈতিক নয়, পরিবেশবান্ধবও বটে। কারণ আনারস পাতা পচে বর্জ্য হিসেবে জমে থাকার পরিবর্তে এখন তা কাজে লাগছে নতুন পণ্য তৈরিতে। টেকসই উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির জন্য এমন প্রকল্প ভবিষ্যতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশে আনারস চাষ উল্লেখযোগ্য হারে হয়, বিশেষত টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে। যদি এ উদ্যোগ বৃহৎ পরিসরে সম্প্রসারিত করা যায়, তবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে যুক্ত হবে এক নতুন খাত। পাশাপাশি কৃষকের আয়ের বৈচিত্র্য বাড়বে এবং দারিদ্র্য বিমোচনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
গ্রামবাংলার আনারস পাতা এখন শুধু কৃষকের খেতের বর্জ্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারের এক সম্ভাবনাময় সম্পদ। এই সাফল্যই প্রমাণ করে, সঠিক পরিকল্পনা ও প্রযুক্তি প্রয়োগ করলে বাংলাদেশি কৃষিপণ্য বৈশ্বিক মানচিত্রে জায়গা করে নিতে সক্ষম।
স্টাফ রিপোর্টার 
























