আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের নির্বাচনী আমেজ এখন তুঙ্গে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে প্রতীক বরাদ্দের পর ময়মনসিংহের প্রতিটি আসনেই প্রার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। বিকেলে ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু তাঁর কাঙ্ক্ষিত ‘ধানের শীষ’ প্রতীক গ্রহণ করেছেন।
প্রতীক পাওয়ার পরপরই ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন এই বিএনপি নেতা। এ সময় তিনি তাঁর নির্বাচনী পরিকল্পনা এবং এলাকার উন্নয়নে তাঁর স্বপ্নের কথা ব্যক্ত করেন।
উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু বলেন, “আমার কাছে রাজনীতি কোনো ক্ষমতার মোহ নয়, বরং এটি একটি পবিত্র দায়িত্ব। আমি পরিবার ও বাবা-মায়ের কাছে শপথ করে রাজনীতিতে এসেছি সাধারণ মানুষের সেবা করার জন্য। গত ১৬ বছর এই এলাকার মানুষ যে দুঃশাসনের মধ্য দিয়ে গেছে, আমি তাদের সেই দুঃখ মুছে দিতে চাই। আমার লক্ষ্য—একটি শিক্ষিত সমাজ গঠন করে ঈশ্বরগঞ্জকে আধুনিক ও সমৃদ্ধশালী মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ধানের শীষ বিজয়ী হওয়া মানেই দেশের উন্নয়নের চাকা সচল হওয়া। ঈশ্বরগঞ্জের উন্নয়নের প্রশ্নে কোনো দল-মত বা বিভাজন নেই। এখানে প্রয়োজন শুধু ঐক্য ও সম্প্রীতি। আমি এই মাটির সন্তান হিসেবে আপনাদের কাছে ভালোবাসা নিতে এসেছি এবং বিনিময়ে এই অঞ্চলের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চাই।”
বিজয় নিশ্চিতে তৃণমূলের প্রস্তুতি:
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির এই সদস্য প্রতীক পাওয়ার আগে থেকেই নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। এর আগে তিনি উপজেলার তারুন্দিয়া এবং জাটিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা সংবলিত লিফলেট বিতরণ ও উঠান বৈঠক সম্পন্ন করেছেন। প্রতিটি রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচিতে তিনি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ধানের শীষের সালাম পৌঁছে দেওয়ার জন্য নেতাকর্মীদের অনুরোধ জানিয়েছেন।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ভূঁইয়া মনির বলেন, “বাংলাদেশ এখন নির্বাচনের ট্রেনে উঠে গেছে। প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছাতে হবে, মানুষের ভোট নিশ্চিত করতে হবে। আর বসে থাকার সময় নেই। এই আসনটি তারেক রহমানকে উপহার দিতে হবে। ”
ত্যাগের প্রতিচ্ছবি মাজেদ বাবু:
দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু বিএনপির দুর্দিনের এক কান্ডারি। ওয়ান ইলেভেনের সময় রাজনীতিতে আসার পর দীর্ঘ ১৯ বছরের পথচলায় তিনি বহুবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। আওয়ামীলীগ সরকারের শাসনামলে অসংখ্য মামলা-হামলার মুখেও তিনি নেতাকর্মীদের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। বিশেষ করে সর্বশেষ ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে গুলশানের বাসা থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে ‘আয়নাঘরে’ অকথ্য নির্যাতন করা হয়েছিল। দীর্ঘ কারাবাস ও নির্যাতনের পর গত ৬ আগস্ট তিনি মুক্তি পান।
ঈশ্বরগঞ্জের সাধারণ ভোটারদের কাছেও তিনি একজন মানবিক মানুষ ও ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ হিসেবে পরিচিত। ব্যক্তিগত অর্থায়নে অসহায় পরিবারকে ঘর তৈরি করে দেওয়া, মেধাবী শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব নেওয়া এবং ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় বহন করার মতো বহু মানবিক কাজের মাধ্যমে তিনি এলাকার মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।
ভোটারদের প্রত্যাশা:
সরেজমিন উপজেলার সোহাগী, সরিষা, আঠারবাড়ী, জাটিয়া, মাইজবাগ, মগটুলা, রাজিবপুর, উচাখিলা, তারুন্দিয়া ও বড়হিত ইউনিয়নের সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা একজন সৎ, যোগ্য ও উচ্চশিক্ষিত জনপ্রতিনিধি খুঁজছেন। আবুল হোসেন ও এনামুল হক নামের দুই কৃষক জানান, মাজেদ বাবু যেভাবে বিপদে-আপদে সাধারণ মানুষের পাশে থাকেন, তাতে তাঁরা মনে করেন তিনিই সংসদে ঈশ্বরগঞ্জের গণমানুষের সঠিক কণ্ঠস্বর হতে পারবেন।
রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে জানা গেছে, প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত ময়মনসিংহ-৮ আসন থেকে খেলাফত মজলিসের আহাম্মদ হোসেন ভূঞা ও জামায়াতে ইসলামীর মনজুরুল হক হাসান নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ফলে এখন লড়াই অনেকটাই সহজ হয়ে গিয়েছে মাজেদ বাবুর জন্য । ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে মাজেদ বাবুর পক্ষে যে জোয়ার তৈরি হয়েছে, তা আগামী নির্বাচনে ঈশ্বরগঞ্জের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আনিসুর রহমান ফারুক 





















