১০:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলমাকান্দায় সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতি অব্যাহত, বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন

 

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন ও কর্মবিরতি অব্যাহত রেখেছেন। এতে বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ের পরীক্ষা স্থবির হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও প্রধান শিক্ষকের একক উদ্যোগে পরীক্ষা চললেও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বাড়তি চাপ ও দুশ্চিন্তা।

 

উপজেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্র জানায়, কলমাকান্দার ১৭২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ২৮ হাজার ৭৫৩ শিক্ষার্থী পাঠ গ্রহণ করে। তাদের পাঠদানে রয়েছেন ৯১৬ জন শিক্ষক। মঙ্গলবার বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকরা পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ায় নির্ধারিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে অনেক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকরা উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সহযোগিতায় পরীক্ষা পরিচালনা করছেন।

 

সহকারী শিক্ষকরা জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে। দাবি বাস্তবায়িত হলে তারা নিজ উদ্যোগে নতুন করে প্রশ্নপত্র তৈরি করে পুনরায় পরীক্ষা নিতে প্রস্তুত।

 

কলমাকান্দা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম শাহজাহান কবীর বলেন, ‘সহকারী শিক্ষকরা কর্মবিরতিতে থাকায় চাপ বেড়েছে। তবে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও অভিভাবকদের সহায়তায় পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।’

 

চৈতননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল কাদির বলেন, ‘দাবি আদায়ে আমরা পরীক্ষা বর্জন করেছি। ফলে আমাদের বিদ্যালয়ে পরীক্ষা হয়নি। দাবি মানলে নিজেরাই প্রশ্নপত্র তৈরি করব।’

 

সহকারী শিক্ষক কামরুল হাসান বলেন, ‘যেসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকরা পরীক্ষা নিচ্ছেন, খাতা মূল্যায়নও তারাই করবেন। দাবি পূরণ না হলে কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।’

 

এদিকে অভিভাবকদের অনেকে মনে করেন, আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হচ্ছে। শিক্ষার্থী অভিভাবক প্রান্ত সাহা বিভাস বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে আন্দোলন কাম্য নয়। এতে বাচ্চারা মানসিক চাপে পড়ছে।’

 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক এমদাদুল হক বলেন, ‘আমার জানা মতে বেশিরভাগ বিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলছে। তবে সহকারী শিক্ষকরা কর্মবিরতিতে আছেন।’

 

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসেন খান বলেন, ‘বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শন করছি। অধিকাংশ বিদ্যালয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতির কারণে কিছু সমস্যার মুখে পড়লেও পরীক্ষা অব্যাহত রয়েছে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বাকৃবির শহীদ শামসুল হক হলে বৃক্ষরোপণ

প্রবাসে মৃত্যুর ২৭ দিন পর তথ্য প্রতিমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় মরদেহ ফিরল দেশে

07 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

কলমাকান্দায় সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতি অব্যাহত, বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন

পোষ্টের সময় : ০৫:৪৩:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

 

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন ও কর্মবিরতি অব্যাহত রেখেছেন। এতে বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ের পরীক্ষা স্থবির হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও প্রধান শিক্ষকের একক উদ্যোগে পরীক্ষা চললেও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বাড়তি চাপ ও দুশ্চিন্তা।

 

উপজেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্র জানায়, কলমাকান্দার ১৭২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ২৮ হাজার ৭৫৩ শিক্ষার্থী পাঠ গ্রহণ করে। তাদের পাঠদানে রয়েছেন ৯১৬ জন শিক্ষক। মঙ্গলবার বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকরা পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ায় নির্ধারিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে অনেক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকরা উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সহযোগিতায় পরীক্ষা পরিচালনা করছেন।

 

সহকারী শিক্ষকরা জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে। দাবি বাস্তবায়িত হলে তারা নিজ উদ্যোগে নতুন করে প্রশ্নপত্র তৈরি করে পুনরায় পরীক্ষা নিতে প্রস্তুত।

 

কলমাকান্দা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম শাহজাহান কবীর বলেন, ‘সহকারী শিক্ষকরা কর্মবিরতিতে থাকায় চাপ বেড়েছে। তবে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও অভিভাবকদের সহায়তায় পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।’

 

চৈতননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল কাদির বলেন, ‘দাবি আদায়ে আমরা পরীক্ষা বর্জন করেছি। ফলে আমাদের বিদ্যালয়ে পরীক্ষা হয়নি। দাবি মানলে নিজেরাই প্রশ্নপত্র তৈরি করব।’

 

সহকারী শিক্ষক কামরুল হাসান বলেন, ‘যেসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকরা পরীক্ষা নিচ্ছেন, খাতা মূল্যায়নও তারাই করবেন। দাবি পূরণ না হলে কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।’

 

এদিকে অভিভাবকদের অনেকে মনে করেন, আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হচ্ছে। শিক্ষার্থী অভিভাবক প্রান্ত সাহা বিভাস বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে আন্দোলন কাম্য নয়। এতে বাচ্চারা মানসিক চাপে পড়ছে।’

 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক এমদাদুল হক বলেন, ‘আমার জানা মতে বেশিরভাগ বিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলছে। তবে সহকারী শিক্ষকরা কর্মবিরতিতে আছেন।’

 

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসেন খান বলেন, ‘বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শন করছি। অধিকাংশ বিদ্যালয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতির কারণে কিছু সমস্যার মুখে পড়লেও পরীক্ষা অব্যাহত রয়েছে।

 

Share this news as a Photo Card