০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলমাকান্দায় ফসল রক্ষার বাঁধ পরিদর্শনে ডেপুটি স্পিকার

বৃষ্টির পানিতে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ও বড়খাপন ইউনিয়নের প্রায় ৯০০ হেক্টর জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। ফসল রক্ষায় গত দু’দিন ধরে স্বেচ্ছাশ্রমে স্থানীয় বাসিন্দারা বড়খাপন ইউনিয়নের গুড়াডুবা হাওরের কাউবাড়ি এলাকার খালে বাঁধ নির্মাণ করছেন।

 

বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্মাণাধীন বাঁধটি পরিদর্শন করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান, ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূইয়া ও মো. শফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সিদ্দিক হোসেন এবং ডেপুটি স্পিকারের একান্ত সচিব সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

পরিদর্শনকালে কায়সার কামাল বলেন, “এ অঞ্চলের মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষি। হাওরের কিছু অংশ হঠাৎ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কেউ হয়তো কিছু ফসল তুলতে পারবেন, কেউ পারবেন না—এটি দুঃখজনক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আপাতত বাঁধ নির্মাণ ও কৃষকদের জন্য অনুদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কৃষকদের স্বার্থে যা করণীয়, তা করা হবে।”

 

হাওর অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য পূর্ববর্তী সরকারের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকায় নদী ও খাল খনন না হওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের ফলে নদী-খালের স্বাভাবিক প্রবাহও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। নতুন পরিস্থিতিতে এসব অনিয়ম বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

তিনি আরও জানান, সরকার দেশব্যাপী খাল ও নদী খননের একটি বৃহৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর আওতায় হাওর অঞ্চলের খালগুলোও খনন করা হবে। পাশাপাশি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, এ বছর উপজেলায় ২১ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে রংছাতি ইউনিয়নের কবিল বিল, মাসুরিয়া বিলসহ তিনটি বিলে প্রায় ৪৮৭ হেক্টর এবং বড়খাপন ইউনিয়নের গুড়াডুবা হাওরে প্রায় সাড়ে ৪ শত হেক্টর জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। তবে রংছাতি ইউনিয়নের বিলগুলোর পানি ধীরে ধীরে নেমে যাওয়ায় ক্ষতি তুলনামূলক কম হয়েছে। অন্যদিকে গুড়াডুবা হাওরের পানিও কমতে শুরু করেছে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

প্রয়োজনে বিমান টিকিট দেব, তবুও দেশে আসুন: হাসিনাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় হিফজ প্রতিযোগিতায় দেশসেরা দুই হাফেজ, নকলায় রাজকীয় সংবর্ধনা

06 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

কলমাকান্দায় ফসল রক্ষার বাঁধ পরিদর্শনে ডেপুটি স্পিকার

পোষ্টের সময় : ০৯:৫০:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

বৃষ্টির পানিতে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ও বড়খাপন ইউনিয়নের প্রায় ৯০০ হেক্টর জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। ফসল রক্ষায় গত দু’দিন ধরে স্বেচ্ছাশ্রমে স্থানীয় বাসিন্দারা বড়খাপন ইউনিয়নের গুড়াডুবা হাওরের কাউবাড়ি এলাকার খালে বাঁধ নির্মাণ করছেন।

 

বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্মাণাধীন বাঁধটি পরিদর্শন করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান, ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূইয়া ও মো. শফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সিদ্দিক হোসেন এবং ডেপুটি স্পিকারের একান্ত সচিব সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

পরিদর্শনকালে কায়সার কামাল বলেন, “এ অঞ্চলের মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষি। হাওরের কিছু অংশ হঠাৎ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কেউ হয়তো কিছু ফসল তুলতে পারবেন, কেউ পারবেন না—এটি দুঃখজনক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আপাতত বাঁধ নির্মাণ ও কৃষকদের জন্য অনুদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কৃষকদের স্বার্থে যা করণীয়, তা করা হবে।”

 

হাওর অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য পূর্ববর্তী সরকারের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকায় নদী ও খাল খনন না হওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের ফলে নদী-খালের স্বাভাবিক প্রবাহও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। নতুন পরিস্থিতিতে এসব অনিয়ম বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

তিনি আরও জানান, সরকার দেশব্যাপী খাল ও নদী খননের একটি বৃহৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর আওতায় হাওর অঞ্চলের খালগুলোও খনন করা হবে। পাশাপাশি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, এ বছর উপজেলায় ২১ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে রংছাতি ইউনিয়নের কবিল বিল, মাসুরিয়া বিলসহ তিনটি বিলে প্রায় ৪৮৭ হেক্টর এবং বড়খাপন ইউনিয়নের গুড়াডুবা হাওরে প্রায় সাড়ে ৪ শত হেক্টর জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। তবে রংছাতি ইউনিয়নের বিলগুলোর পানি ধীরে ধীরে নেমে যাওয়ায় ক্ষতি তুলনামূলক কম হয়েছে। অন্যদিকে গুড়াডুবা হাওরের পানিও কমতে শুরু করেছে।

 

Share this news as a Photo Card