বান্দরবানের অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা পাহাড়ি অঞ্চল আবারো পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের কারণে রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলার অনেক পর্যটনকেন্দ্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। তবে ধাপে ধাপে কিছু পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেয়া হলেও রুমার কেওক্রাডং—বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ—পর্যটকদের জন্য বন্ধই ছিল।
২৮ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব পরিবেশ দিবসের অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি ঘোষণা করেন, ১ অক্টোবর থেকে কেওক্রাডং পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হবে। পরবর্তীতে দুর্গাপূজার পর বিস্তারিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সুবিধা বিবেচনা করে পর্যটকদের জন্য পুরোপুরি খোলার সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
২৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে জেলা প্রশাসন একটি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষণা করে যে, নির্দিষ্ট ছয়টি শর্ত পূরণের পর কেওক্রাডং পর্যটনকেন্দ্রে যাত্রা অনুমোদিত হবে। এই শর্তগুলো হলো—
১. রুমার যে কোনো পর্যটন কেন্দ্র ব্যতীত অন্য স্থানে প্রবেশ নিষিদ্ধ।
২. পর্যটকদের অবশ্যই নিবন্ধিত স্থানীয় গাইড সঙ্গে থাকতে হবে।
৩. নির্ধারিত চেকপোস্ট ও তথ্যকেন্দ্রে সব প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করতে হবে।
৪. নিয়ম লঙ্ঘন হলে তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।
৫. শুধুমাত্র নির্ধারিত, সড়কযোগ্য যানবাহন ব্যবহার করা যাবে।
৬. যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং প্রয়োজনে পুনরায় ভ্রমণে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হবে।
২০২২ সালের অক্টোবর থেকে কেওক্রাডং পর্যটকদের জন্য বন্ধ ছিল, কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (KNF) সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্রিয়তার কারণে। বর্তমানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত হওয়ায় প্রশাসন পর্যটকদের জন্য পাহাড় খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে ধরা হচ্ছে।

স্টাফ রিপোর্টার 

























