নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের পাতারিয়া গ্রামের কৃষক সুমন মিয়া চলতি মৌসুমে নানা রকম সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন। ৪৫ শতাংশ জমিতে কুমড়া, ১৫ শতাংশ জমিতে বেগুন এবং ২০ শতাংশ জমিতে ঝিঙা চাষ করেছিলেন তিনি। কুমড়া গাছে প্রচুর ফলনও হয়েছিল এবং তিনি প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার কুমড়া বিক্রি করছিলেন।
কিন্তু এই সাফল্য বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। গত শনিবার রাতে দুর্বৃত্তরা তার কুমড়া ক্ষেতের সব গাছ কেটে ফেলে দেয়। পরদিন সকালে ক্ষেতের এমন দৃশ্য দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন সুমন মিয়া। মাত্র এক সপ্তাহ বিক্রির পরই ক্ষেতটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়, ফলে তিনি প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েন বলে জানান।
সুমন বলেন, ‘আমি ধারদেনা করে এই চাষ করেছিলাম। আশা ছিল এই ক্ষেতের যে পরিমাণ কুমড়া ধরেছ তা বিক্রয় করে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা আয় হবে। এখন এই দেনা কীভাবে পরিশোধ করব, কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।’ তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, দুর্বৃত্তরা হয়তো তার বেগুন ও ঝিঙা ক্ষেতের দিকেও নজর দিতে পারে।
সুমনের ভাষ্যমতে এলাকায় তাঁর কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই। সারাবছর সবজি চাষ করেই তিনি পরিবারের খরচ চালান। তাকে নিঃস্ব করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলেই মনে করেন তিনি।
গ্রামের লোকজন জানান, সুমন একজন সৎ ও পরিশ্রমী কৃষক। তিনি বছরের পর বছর ধরে সবজি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। গ্রামের মানুষ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার হুমায়ূন দিলদার জানান, খবর পেয়ে অফিসার পাঠিয়েছি। ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। এই ক্ষতি পোষানো একজন কৃষকের জন্য খুবই কঠিন।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’





















