০৬:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গেজেটেও অনুপস্থিত শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন

 

আজ ১৪ ডিসেম্বর, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। মহান মুক্তিযুদ্ধের শেষ প্রান্তে ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগী রাজাকার, আল-বদর ও আল-শামস বাহিনী পরিকল্পিতভাবে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করে। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা চূড়ান্ত হয়নি। সেই অসম্পূর্ণতার মধ্যেই রয়ে গেছে ফেনীর সন্তান, কবি ও সাংবাদিক শহীদ সেলিনা পারভীনের নাম।

 

সরকার ইতোমধ্যে দুই দফায় মোট ৩৩৪ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর নাম গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে ফেনী জেলার ১০ জন বুদ্ধিজীবীর নাম অন্তর্ভুক্ত হলেও সেলিনা পারভীনের নাম এখনো সরকারি গেজেটে স্থান পায়নি। বিষয়টি ফেনীবাসীসহ সচেতন মহলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে হতাশা ও প্রশ্নের জন্ম দিয়ে আসছে।

 

প্রথম দফায় প্রকাশিত গেজেটে ১৯১ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়, যেখানে ফেনীর আটজনের নাম রয়েছে। দ্বিতীয় দফায় আরও কয়েকজন যুক্ত হলেও তালিকায় সেলিনা পারভীনের নাম যুক্ত হয়নি। যদিও বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে স্বীকৃতি রয়েছে, তবুও রাষ্ট্রীয় গেজেটে তার অনুপস্থিতি বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে।

 

১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর ঢাকায় নিজ বাসা থেকে আল-বদর বাহিনীর সদস্যরা সেলিনা পারভীনকে তুলে নিয়ে যায়। কয়েক দিন পর ১৮ ডিসেম্বর রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সাদা শাড়ি, জুতা ও মোজা দেখে পরিবার স্বজনরা তাকে শনাক্ত করেন। রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে পাওয়া একমাত্র নারী শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবেও তিনি ইতিহাসে স্মরণীয়।

 

শহীদ সেলিনা পারভীনের নাম জাতীয় প্রেসক্লাবের শহীদ সাংবাদিকদের নামফলকে রয়েছে। তার নামে ডাকটিকিট প্রকাশ, পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তি, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই ও গবেষণায় আলোচনা, এমনকি সড়ক নামকরণও করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি তথ্যচিত্রেও উঠে এসেছে তার বীরত্বগাঁথা। তবুও সরকারি গেজেটে তার নাম না থাকাকে অনেকেই রাষ্ট্রীয় অবহেলা হিসেবে দেখছেন।

 

ফেনীর সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ যেন শুধু দিবসভিত্তিক আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে। তাদের অবদান রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণ ও প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ জরুরি। বিশেষ করে শহীদ সেলিনা পারভীনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের নাম গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

জাতীয় হিফজ প্রতিযোগিতায় দেশসেরা দুই হাফেজ, নকলায় রাজকীয় সংবর্ধনা

হালুয়াঘাটে ইয়াবাসহ আটক ২

04 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

গেজেটেও অনুপস্থিত শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন

পোষ্টের সময় : ১০:৫০:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

 

আজ ১৪ ডিসেম্বর, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। মহান মুক্তিযুদ্ধের শেষ প্রান্তে ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগী রাজাকার, আল-বদর ও আল-শামস বাহিনী পরিকল্পিতভাবে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করে। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা চূড়ান্ত হয়নি। সেই অসম্পূর্ণতার মধ্যেই রয়ে গেছে ফেনীর সন্তান, কবি ও সাংবাদিক শহীদ সেলিনা পারভীনের নাম।

 

সরকার ইতোমধ্যে দুই দফায় মোট ৩৩৪ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর নাম গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে ফেনী জেলার ১০ জন বুদ্ধিজীবীর নাম অন্তর্ভুক্ত হলেও সেলিনা পারভীনের নাম এখনো সরকারি গেজেটে স্থান পায়নি। বিষয়টি ফেনীবাসীসহ সচেতন মহলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে হতাশা ও প্রশ্নের জন্ম দিয়ে আসছে।

 

প্রথম দফায় প্রকাশিত গেজেটে ১৯১ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়, যেখানে ফেনীর আটজনের নাম রয়েছে। দ্বিতীয় দফায় আরও কয়েকজন যুক্ত হলেও তালিকায় সেলিনা পারভীনের নাম যুক্ত হয়নি। যদিও বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে স্বীকৃতি রয়েছে, তবুও রাষ্ট্রীয় গেজেটে তার অনুপস্থিতি বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে।

 

১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর ঢাকায় নিজ বাসা থেকে আল-বদর বাহিনীর সদস্যরা সেলিনা পারভীনকে তুলে নিয়ে যায়। কয়েক দিন পর ১৮ ডিসেম্বর রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সাদা শাড়ি, জুতা ও মোজা দেখে পরিবার স্বজনরা তাকে শনাক্ত করেন। রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে পাওয়া একমাত্র নারী শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবেও তিনি ইতিহাসে স্মরণীয়।

 

শহীদ সেলিনা পারভীনের নাম জাতীয় প্রেসক্লাবের শহীদ সাংবাদিকদের নামফলকে রয়েছে। তার নামে ডাকটিকিট প্রকাশ, পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তি, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই ও গবেষণায় আলোচনা, এমনকি সড়ক নামকরণও করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি তথ্যচিত্রেও উঠে এসেছে তার বীরত্বগাঁথা। তবুও সরকারি গেজেটে তার নাম না থাকাকে অনেকেই রাষ্ট্রীয় অবহেলা হিসেবে দেখছেন।

 

ফেনীর সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ যেন শুধু দিবসভিত্তিক আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে। তাদের অবদান রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণ ও প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ জরুরি। বিশেষ করে শহীদ সেলিনা পারভীনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের নাম গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি।

 

Share this news as a Photo Card