চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ৯০,৮২৫ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে, যা এ পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের একই সময়ে আদায় ছিল ৭৫,৫৫৫ কোটি টাকা, ২০২৩-২০২৪ সালে ৭৬,০৬৮ কোটি এবং ২০২২-২০২৩ সালে ৬৮,৬৩৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে গত বছরের তুলনায় ২০.২১ শতাংশ বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
স্থানীয় পর্যায়ের মুসক খাত থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩৪,৮১৯ কোটি টাকা, যা গত বছরের ২৬,৮৩৮ কোটি টাকার তুলনায় ২৯.৭৪ শতাংশ বেশি। আয়কর ও ভ্রমণ কর খাতেও ২৮,৪৭৮ কোটি টাকা আদায় হয়েছে, যা গত তিন বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এই খাতে প্রবৃদ্ধির হার ১৮.২৬ শতাংশ।
অন্যদিকে, আমদানি ও রপ্তানি খাতে আদায় হয়েছে ২৭,৫২৮ কোটি টাকা, যা গত বছরের ২৪,৬২৫ কোটি টাকার তুলনায় ১১.৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি। অর্থাৎ প্রথম প্রান্তিকের তিনটি প্রধান খাত—মুসক, আয়কর ও ভ্রমণ কর, আমদানি-রপ্তানি—সবখাতেই নতুন রেকর্ড স্থাপন হয়েছে।
এনবিআরের বরাতে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের এই প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণ এবং কর আদায়ে কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপের ফল। বিশেষত স্থানীয় পর্যায়ের মুসক খাতের রেকর্ড সংগ্রহ স্থানীয় প্রশাসনের সক্রিয় উদ্যোগের পরিচায়ক।
এদিকে, অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই প্রবৃদ্ধি দেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক পরিবেশকে উৎসাহিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে, কর ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাসের মাধ্যমে এ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা জরুরি।
চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের এই রেকর্ড রাজস্ব আদায় দেশের অর্থনীতিতে নতুন ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা যাচ্ছে। এনবিআর জানিয়েছে, তারা আগামী প্রান্তিকেও এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার লক্ষ্য নিয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার 
























