০৪:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছয় মাস পর কয়লা পেয়ে প্রাণ ফিরলো গোবরাকুড়া ও কড়াইতলী স্থলবন্দরে

 

দীর্ঘ ছয় মাসের স্থবিরতা শেষে আবারও কর্মচাঞ্চল্যে ভরে উঠেছে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার গোবরাকুড়া ও কড়ইতলী স্থলবন্দর। গত ২৯ নভেম্বর শনিবার বিকেলে ভারত থেকে ২০টি ট্রাকে প্রায় ২৪০ টন কয়লা প্রবেশের মধ্য দিয়ে এই দুটি স্থলবন্দরের কার্যক্রম নতুন করে শুরু হয়। কয়লাবাহী ট্রাক বন্দরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই বদলে যেতে থাকে চিত্র। ফিরে আসে মানুষের আনাগোনা, শ্রমিকদের ব্যস্ততা এবং ব্যবসায়ীদের তৎপরতা।

 

চলতি বছরের ৮ মে সর্বশেষ কয়লা আমদানির পর গোবরাকুড়া ও কড়াইতলী স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় বন্দর অচল থাকায় পুরো সীমান্ত এলাকা কার্যত নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে। এ সময় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন বন্দরের ওপর নির্ভরশীল শ্রমিকরা। কাজ না থাকায় অনেকের সংসারে নেমে আসে চরম অনিশ্চয়তা। শনিবার বিকেলে কয়লা আসার খবরে সেই নীরবতা ভেঙে যায়, ফিরে আসে কর্মের গতি।

 

কয়লা আমদানির ফলে সবচেয়ে স্বস্তি ফিরেছে শ্রমিকদের জীবনে। বন্দরে কাজ করা এক শ্রমিক বলেন, দীর্ঘদিন কাজ না থাকায় পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে থাকতে হয়েছে। এখন আবার কয়লা আসায় কাজ শুরু হয়েছে, এতে সংসার চালানো সহজ হবে। তার মতো অনেক শ্রমিকই আশা করছেন, সারা বছর যদি বন্দর চালু থাকে, তাহলে তাদের জীবনে আর এমন দুর্দশা নেমে আসবে না।

 

ব্যবসায়ীদের মধ্যেও নতুন করে আশাবাদ দেখা দিয়েছে। গোবরাকুড়া কয়লা ব্যাবসায়ী সমিতির আহবায়ক মোঃ বুরহান উদ্দীন ঢালী জানান, কয়লা আমদানির মাধ্যমে ইটভাটাগুলো চালু রাখা সহজ হবে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে। নিয়মিত আমদানি হলে ব্যবসায়ীরা লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবেন এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে বলেও তিনি মনে করেন।

 

গোবরাকুড়া আমদানি ও রপ্তানি কারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অশোক সরকার অপু বলেন, ইটভাটা চালু থাকায় বর্তমানে কয়লার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ভারত থেকে নিয়মিত কয়লা আমদানির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কয়লার পাশাপাশি পাথর আমদানির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং জাতীয় নির্বাচনের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে পাথর আমদানি শুরু করা যেতে পারে। এতে গোবরাকুড়া ও কড়ইতলী স্থলবন্দর সারা বছর সচল থাকবে।

 

গোবরাকুড়া-কড়াইতলী স্থলবন্দর ঘিরে যে সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে, তা কাজে লাগাতে এখন প্রয়োজন সুসমন্বিত পদক্ষেপ। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সরকারি সদিচ্ছা ও নীতিগত সহায়তা অব্যাহত থাকলে এই দুটি স্থলবন্দর সীমান্ত অঞ্চলের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে এবং দেশের বাণিজ্যিক মানচিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করবে।

 

কড়াইতলী-গোবরাকুড়া স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা মুজাহিদ হোসেন মাতব্বর জানান, দীর্ঘ ছয় মাস পর ভারত থেকে ২০ ট্রকে কয়লা প্রবেশ করেছে। এতে বন্দরের কার্যক্রম আবারও সচল হয়েছে এবং শ্রমিকদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। নিয়মিত আমদানি অব্যাহত থাকলে বন্দরকেন্দ্রিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং সরকারও বিপুল পরিমান রাজস্ব পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

দীর্ঘ ছয় মাসের অচলাবস্থার পর কয়লা আমদানির মধ্য দিয়ে যে কর্মচাঞ্চল্য আবার ফিরে এসেছে, তা শুধু একটি স্থলবন্দরের পুনরায় চালু হওয়ার ঘটনা নয়; বরং গোবরাকুড়া-কড়াইতলী স্থলবন্দরের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের একটি সুস্পষ্ট বার্তা বহন করছে। দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে বন্দরের প্রতিটি প্রান্তে যে ব্যস্ততা, শ্রমিকদের মুখে যে স্বস্তির হাসি এবং ব্যবসায়ীদের চোখে যে নতুন আশার ঝিলিক দেখা যাচ্ছে, তা এই সীমান্ত বাণিজ্যকেন্দ্রের গুরুত্বকেই নতুন করে তুলে ধরছে।

 

সংশ্লিষ্ট শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও বন্দর সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা,এই কর্মচাঞ্চল্য যেন ক্ষণস্থায়ী না হয়। তারা মনে করেন, সরকারের সময়োপযোগী উদ্যোগ, কার্যকর সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে গোবরাকুড়া ও কড়াইতলী স্থলবন্দরকে সারা বছর বাণিজ্যিক কার্যক্রমের আওতায় আনা সম্ভব। কয়লার পাশাপাশি অন্যান্য পণ্য আমদানি ও রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হলে এই বন্দর দুটি আর মৌসুমি কর্মকান্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সারা বছর চলমান একটি কার্যকর বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হবে।

 

এতে একদিকে যেমন সীমান্ত এলাকার হাজারো শ্রমজীবী মানুষের জীবনে স্থায়িত্ব আসবে, তেমনি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি সঞ্চারিত হবে। নিয়মিত আমদানি রপ্তানি কার্যক্রমের ফলে পরিবহন, গুদামজাতকরণ ও সহায়ক ব্যবসা সম্প্রসারিত হবে, তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান। একইসঙ্গে সরকার পাবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব, যা জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

সরকারের ৬ মাস, ব্যক্তির বৃত্ত থেকে এখন জনগণের দোয়ারে

কেন্দুয়ায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‍্যালী

16 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ছয় মাস পর কয়লা পেয়ে প্রাণ ফিরলো গোবরাকুড়া ও কড়াইতলী স্থলবন্দরে

পোষ্টের সময় : ০৪:১৩:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

 

দীর্ঘ ছয় মাসের স্থবিরতা শেষে আবারও কর্মচাঞ্চল্যে ভরে উঠেছে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার গোবরাকুড়া ও কড়ইতলী স্থলবন্দর। গত ২৯ নভেম্বর শনিবার বিকেলে ভারত থেকে ২০টি ট্রাকে প্রায় ২৪০ টন কয়লা প্রবেশের মধ্য দিয়ে এই দুটি স্থলবন্দরের কার্যক্রম নতুন করে শুরু হয়। কয়লাবাহী ট্রাক বন্দরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই বদলে যেতে থাকে চিত্র। ফিরে আসে মানুষের আনাগোনা, শ্রমিকদের ব্যস্ততা এবং ব্যবসায়ীদের তৎপরতা।

 

চলতি বছরের ৮ মে সর্বশেষ কয়লা আমদানির পর গোবরাকুড়া ও কড়াইতলী স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় বন্দর অচল থাকায় পুরো সীমান্ত এলাকা কার্যত নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে। এ সময় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন বন্দরের ওপর নির্ভরশীল শ্রমিকরা। কাজ না থাকায় অনেকের সংসারে নেমে আসে চরম অনিশ্চয়তা। শনিবার বিকেলে কয়লা আসার খবরে সেই নীরবতা ভেঙে যায়, ফিরে আসে কর্মের গতি।

 

কয়লা আমদানির ফলে সবচেয়ে স্বস্তি ফিরেছে শ্রমিকদের জীবনে। বন্দরে কাজ করা এক শ্রমিক বলেন, দীর্ঘদিন কাজ না থাকায় পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে থাকতে হয়েছে। এখন আবার কয়লা আসায় কাজ শুরু হয়েছে, এতে সংসার চালানো সহজ হবে। তার মতো অনেক শ্রমিকই আশা করছেন, সারা বছর যদি বন্দর চালু থাকে, তাহলে তাদের জীবনে আর এমন দুর্দশা নেমে আসবে না।

 

ব্যবসায়ীদের মধ্যেও নতুন করে আশাবাদ দেখা দিয়েছে। গোবরাকুড়া কয়লা ব্যাবসায়ী সমিতির আহবায়ক মোঃ বুরহান উদ্দীন ঢালী জানান, কয়লা আমদানির মাধ্যমে ইটভাটাগুলো চালু রাখা সহজ হবে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে। নিয়মিত আমদানি হলে ব্যবসায়ীরা লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবেন এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে বলেও তিনি মনে করেন।

 

গোবরাকুড়া আমদানি ও রপ্তানি কারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অশোক সরকার অপু বলেন, ইটভাটা চালু থাকায় বর্তমানে কয়লার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ভারত থেকে নিয়মিত কয়লা আমদানির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কয়লার পাশাপাশি পাথর আমদানির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং জাতীয় নির্বাচনের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে পাথর আমদানি শুরু করা যেতে পারে। এতে গোবরাকুড়া ও কড়ইতলী স্থলবন্দর সারা বছর সচল থাকবে।

 

গোবরাকুড়া-কড়াইতলী স্থলবন্দর ঘিরে যে সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে, তা কাজে লাগাতে এখন প্রয়োজন সুসমন্বিত পদক্ষেপ। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সরকারি সদিচ্ছা ও নীতিগত সহায়তা অব্যাহত থাকলে এই দুটি স্থলবন্দর সীমান্ত অঞ্চলের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে এবং দেশের বাণিজ্যিক মানচিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করবে।

 

কড়াইতলী-গোবরাকুড়া স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা মুজাহিদ হোসেন মাতব্বর জানান, দীর্ঘ ছয় মাস পর ভারত থেকে ২০ ট্রকে কয়লা প্রবেশ করেছে। এতে বন্দরের কার্যক্রম আবারও সচল হয়েছে এবং শ্রমিকদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। নিয়মিত আমদানি অব্যাহত থাকলে বন্দরকেন্দ্রিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং সরকারও বিপুল পরিমান রাজস্ব পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

দীর্ঘ ছয় মাসের অচলাবস্থার পর কয়লা আমদানির মধ্য দিয়ে যে কর্মচাঞ্চল্য আবার ফিরে এসেছে, তা শুধু একটি স্থলবন্দরের পুনরায় চালু হওয়ার ঘটনা নয়; বরং গোবরাকুড়া-কড়াইতলী স্থলবন্দরের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের একটি সুস্পষ্ট বার্তা বহন করছে। দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে বন্দরের প্রতিটি প্রান্তে যে ব্যস্ততা, শ্রমিকদের মুখে যে স্বস্তির হাসি এবং ব্যবসায়ীদের চোখে যে নতুন আশার ঝিলিক দেখা যাচ্ছে, তা এই সীমান্ত বাণিজ্যকেন্দ্রের গুরুত্বকেই নতুন করে তুলে ধরছে।

 

সংশ্লিষ্ট শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও বন্দর সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা,এই কর্মচাঞ্চল্য যেন ক্ষণস্থায়ী না হয়। তারা মনে করেন, সরকারের সময়োপযোগী উদ্যোগ, কার্যকর সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে গোবরাকুড়া ও কড়াইতলী স্থলবন্দরকে সারা বছর বাণিজ্যিক কার্যক্রমের আওতায় আনা সম্ভব। কয়লার পাশাপাশি অন্যান্য পণ্য আমদানি ও রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হলে এই বন্দর দুটি আর মৌসুমি কর্মকান্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সারা বছর চলমান একটি কার্যকর বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হবে।

 

এতে একদিকে যেমন সীমান্ত এলাকার হাজারো শ্রমজীবী মানুষের জীবনে স্থায়িত্ব আসবে, তেমনি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি সঞ্চারিত হবে। নিয়মিত আমদানি রপ্তানি কার্যক্রমের ফলে পরিবহন, গুদামজাতকরণ ও সহায়ক ব্যবসা সম্প্রসারিত হবে, তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান। একইসঙ্গে সরকার পাবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব, যা জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 

 

Share this news as a Photo Card