০৮:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছিলেন মমতার ঘনিষ্ঠ, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রীর আত্মহত্যা

 

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী ও ডেপুটি স্পিকার, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা আশীষ ব্যানার্জি আত্মহত্যা করেছেন। রোববার (১৬ আগস্ট) বীরভূম জেলার রামপুরহাট এলাকার একটি তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কার্যালয়টি তার বাড়ির কাছেই বলে জানা গেছে।

 

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পাঁচবার নির্বাচিত হয়েছিলেন আশীষ ব্যানার্জি। তৃণমূল কংগ্রেস সরকার গঠনের পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি তাকে বিভিন্ন দপ্তরের মন্ত্রীর দায়িত্ব দেন। পরে তিনি বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার ও চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

 

তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের পাশাপাশি নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, গত বিধানসভা নির্বাচনের পর দলটির নেতাকর্মীদের ওপর হুমকি ও চাপ প্রয়োগের ঘটনায় আশীষ ব্যানার্জি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন।

 

মরদেহের পাশ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সেখানে নিজের মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী করেননি আশীষ ব্যানার্জি।

 

মমতার শোক প্রকাশ

 

আশীষ ব্যানার্জির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি বলেন, আশীষের চলে যাওয়া তাকে ভীষণভাবে কষ্ট দিয়েছে। জীবনের বড় একটি সময় শিক্ষকতা ও মানুষের সেবায় কাটিয়েছেন তিনি। রামপুরহাট ও বীরভূমের সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক ছিল এবং বিনয়ী স্বভাবের কারণে তিনি সবার কাছে জনপ্রিয় ছিলেন।

 

মমতা আরও বলেন, জীবনের শেষ সময়ে আশীষ ব্যানার্জিকে যে মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, সেটিই সবচেয়ে কষ্টের বিষয়। পাঁচবারের বিধায়ক, সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি রামপুরহাটের উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের জন্য দীর্ঘদিন কাজ করেছেন।

 

তার অভিযোগ, দীর্ঘ জনসেবা জীবনের পরও আশীষকে বারবার খাটো করা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া এবং মানসিক চাপে রাখার ঘটনা ঘটেছে।

 

মমতা বলেন, বছরের পর বছর জনসেবা করার পর একজন মানুষকে যেভাবে হেনস্তা ও মানসিক যন্ত্রণার শিকার হতে হয়েছে, তা রাজনৈতিক শত্রুতার প্রভাব নিয়ে নতুন করে ভাবার বিষয়। তিনি আশীষ ব্যানার্জির পরিবার, স্বজন, সাবেক শিক্ষার্থী ও অসংখ্য গুণগ্রাহীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

 

আশীষ ব্যানার্জির মৃত্যুকে ঘিরে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

ভারতে আকস্মিক বন্যায় ৫ সেনা নিখোঁজ

16 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ছিলেন মমতার ঘনিষ্ঠ, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রীর আত্মহত্যা

পোষ্টের সময় : ০৭:০৮:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

 

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী ও ডেপুটি স্পিকার, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা আশীষ ব্যানার্জি আত্মহত্যা করেছেন। রোববার (১৬ আগস্ট) বীরভূম জেলার রামপুরহাট এলাকার একটি তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কার্যালয়টি তার বাড়ির কাছেই বলে জানা গেছে।

 

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পাঁচবার নির্বাচিত হয়েছিলেন আশীষ ব্যানার্জি। তৃণমূল কংগ্রেস সরকার গঠনের পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি তাকে বিভিন্ন দপ্তরের মন্ত্রীর দায়িত্ব দেন। পরে তিনি বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার ও চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

 

তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের পাশাপাশি নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, গত বিধানসভা নির্বাচনের পর দলটির নেতাকর্মীদের ওপর হুমকি ও চাপ প্রয়োগের ঘটনায় আশীষ ব্যানার্জি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন।

 

মরদেহের পাশ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সেখানে নিজের মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী করেননি আশীষ ব্যানার্জি।

 

মমতার শোক প্রকাশ

 

আশীষ ব্যানার্জির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি বলেন, আশীষের চলে যাওয়া তাকে ভীষণভাবে কষ্ট দিয়েছে। জীবনের বড় একটি সময় শিক্ষকতা ও মানুষের সেবায় কাটিয়েছেন তিনি। রামপুরহাট ও বীরভূমের সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক ছিল এবং বিনয়ী স্বভাবের কারণে তিনি সবার কাছে জনপ্রিয় ছিলেন।

 

মমতা আরও বলেন, জীবনের শেষ সময়ে আশীষ ব্যানার্জিকে যে মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, সেটিই সবচেয়ে কষ্টের বিষয়। পাঁচবারের বিধায়ক, সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি রামপুরহাটের উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের জন্য দীর্ঘদিন কাজ করেছেন।

 

তার অভিযোগ, দীর্ঘ জনসেবা জীবনের পরও আশীষকে বারবার খাটো করা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া এবং মানসিক চাপে রাখার ঘটনা ঘটেছে।

 

মমতা বলেন, বছরের পর বছর জনসেবা করার পর একজন মানুষকে যেভাবে হেনস্তা ও মানসিক যন্ত্রণার শিকার হতে হয়েছে, তা রাজনৈতিক শত্রুতার প্রভাব নিয়ে নতুন করে ভাবার বিষয়। তিনি আশীষ ব্যানার্জির পরিবার, স্বজন, সাবেক শিক্ষার্থী ও অসংখ্য গুণগ্রাহীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

 

আশীষ ব্যানার্জির মৃত্যুকে ঘিরে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

 

Share this news as a Photo Card