০১:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোনা-২ আসনে মাঠে সরব সম্ভাব্য প্রার্থীরা

 

জাতীয় সংসদের ১৫৮, নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষনা না হলেও এলাকায় বইছে আগাম নির্বাচনী ভোটের হাওয়া। জেলার ৫টি আসনের মধ্যে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ন জেলা সদর কেন্দ্রিক এ আসনে আগামী নির্বাচন নিয়ে ইতিমধ্যে সরব আলোচনা হচ্ছে। সকল রাজনৈতিক দলের কর্মসূচী জেলা সদর থেকে পরিচালিত হওয়ায় এ আসনটি সকলের কাছেই খুব তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এ আসনে ইতিমধ্যে একক প্রার্থী ঘোষনা করলেও বিএনপি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির একাধিক প্রার্থী ভোটের মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। আসনটিতে বিএনপির পক্ষ থেকে কে পাবেন দলীয় মনোনয়ন এনিয়ে চলছে দলের অভ্যন্তরে তীব্র প্রতিযোগিতা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যার্শী প্রার্থীরা হলেন, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আশরাফ উদ্দিন খান, জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এটিএম আব্দুল বারী ড্যানি, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ড. আরিফা জেসমিন নাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ডা. দেলোয়ার হোসেন টিটো। এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর একক প্রার্থী হলেন, সাবেক জেলা আমীর ও ময়মনসিংহ অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যাপক মাওলানা এনামূল হক। বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সহকারী মহাসচিব মাওলানা গাজী মোহাম্মদ আব্দুর রহিম রুহী একক প্রার্থী হিসেবে এলাকায় প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ আসনে গণঅধিকার পরিষদের একক প্রার্থী হাসান আল মামুন। আসনটিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির মনোনয়ন প্রত্যার্শী হিসেবে মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় রয়েছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ফাহিম রহমান খান পাঠান এবং কেন্দ্রীয় সংগঠক প্রীতম সোহাগ।

এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যার্শী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ মো. আশরাফ উদ্দিন খান। মো. আশরাফ উদ্দিন খান ১৯৪৬ সালে নেত্রকোনার চকপাড়াস্থ এক প্রাচীন মুসলিম জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতামহ সমসের খান ছিলেন বর্তমান নেত্রকোনা শহরের এক বিরাট অংশের জমিদার। তিনি শুধু জমিদার ছিলেন না, ছিলেন একজন মানবপ্রেমী জনহিতৈষী। নেত্রকোনা পৌরসভা, নেত্রকোনা মডেল থানা থেকে শুরু করে আঞ্জুমান আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, নিউটাউনের বড়পুকুর, বড়বাজার, কোর্ট স্টেশন, বড় স্টেশনের জায়গাসহ অসংখ্য জমি তিনি জনসেবার উদ্দেশ্যে দান করেছেন। জেলা শহরের আধুনিক রূপরেখার ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।

সমসের খানের দুই পুত্র আজিম খান এবং আশরাফ উদ্দিন খানের পিতা মুজাফর খান দুজনই ছিলেন এলাকার সুপরিচিত দানবীর এবং সমাজসেবক। আশরাফ উদ্দিন খান পড়াশোনা করেন আঞ্জুমান আদর্শ সরকারি বিদ্যালয় ও নেত্রকোনা সরকারি কলেজে। কলেজ জীবনেই তিনি ছাত্র ইউনিয়নের বিপুল ভোটে ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ক্রীড়াঙ্গনে নেতৃত্ব দেন। তিনি ওই সময়ে জেলার সেরা ফুটবলার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ডাক আসলে মো. আশরাফ উদ্দিন খান সরাসরি ভারতে গমন করে প্রশিক্ষণ নেন এবং জেড ফোর্সের সদস্য হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১১ নম্বর সেক্টরে ঐতিহাসিক ধানুয়া কামালপুর যুদ্ধে সম্মুখসমরে তিনি নেতৃত্ব দেন। এক অভিযানে এলএমজি দিয়ে একাই ১৯জন পাকিস্থানী সেনাকে জীবিত বন্দি করে দেশের প্রতি নিজের অশেষ সাহস ও দায়বদ্ধতা প্রমান করেন। তিনি নেত্রকোনা মহকুমা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং পরবর্তীতে ইউনিট কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ১৯৮১ সালে নেত্রকোনার প্রথম জেলা পরিষদে উপ-মন্ত্রীর পদমর্যাদায় সফলভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি সংসদ সদস্য থাকাকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নেত্রকোনার তিলকখালি খান খনন কর্মসূচীর উদ্ধোধন করেন। ওই অনুষ্ঠানের সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আশরাফ উদ্দিন খান। তিনি দায়িত্বে থাকাকালে জেলা শহরের ডিসি অফিস, জজকোট, এসপি অফিস, ব্রিজ-কালভার্ট, মসজিদ-মন্দির, বিদ্যুতায়নসহ অসংখ্য উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাব, গণগ্রস্থাগার, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রাইফেলস ক্লাবসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পেছনে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আশরাফ উদ্দিন খানের মেধা ও নেতৃত্ব কাজ করেছে। নেত্রকোনায় বিএনপির শিকড় গড়া, বিস্তার ও রক্ষনাবেক্ষণের সঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আশরাফ উদ্দিন খান ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আশরাফ উদ্দিন খান ১৯৯৭ সালে নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সভাপতি, ২০০৯ সালে জেলা বিএনপির আহবায়ক এবং ২০১৪ সালের ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় জেলা বিএনপির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি পদে ১৫২৫ ভোটের মধ্যে ১১৬৮ ভোট পেয়ে পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০৬ সালের বাতিল হওয়া জাতীয় সংসদ এবং ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারদলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে মো. আশরাফ উদ্দিন খান প্রতিদ্বন্ধিতা করেছেন। জেলা বিএনপির দুঃসময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের একজন পরীক্ষিত সৈনিকের ভুমিকা রেখেছেন তিনি। এজন্য তাকে নেত্রকোনার রাজপথে মাথার রক্ত ঝড়াতে হয়েছে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দেড়দশকে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আশরাফ উদ্দিন খানের চকপাড়াস্থ বাসভবন গভীররাতে সবচাইতে বেশী পুলিশী তল্লাশীর শিকারে পরিনত হয়। তিনি ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুথানে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাবার পর জেলা শহরের প্রতিটি পূজামন্ডপসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের সুরক্ষায় পরিবারের সদস্যদের সমন্বয়ে রাতজেগে পাহাড়া দেয়ার ব্যবস্থা করেন। এ আসনের বিশাল হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে মো. আশরাফ উদ্দিন খানের পারিবারিক ভাবে সুসম্পর্ক দীর্ঘদিনের। নেত্রকোনা সদর এবং বারহাট্টা উপজেলায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আশরাফ উদ্দিন খান একডাকে ‘“আশরাফ ভাই” হিসেবে পরিচিত। তিনি জেলা বিএনপির দুঃসময়ের একজন পরীক্ষিত নেতা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যার্শী হিসেবে তিনি ব্যাপক আলোচনায় রয়েছেন।

এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যার্শী জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হকের বিরুদ্ধে ১২টি মামলাসহ শহরের আধুনিক সদর হাসপাতাল রোডস্থ বাসভবনে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা ককটেল বিষ্ফোরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। বিগত সময়ে জনগনের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জেলা থেকে শুরু করে প্রতিটি বিভাগীয় কর্মসূচীতে ডা. মো. আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা অংশগ্রহন করেন। তিনি বিএনপির চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বিএনপির মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ দলের সকল নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবীতে আন্দোলন কর্মসূচীগুলো বাস্তবায়নে ছিলেন নেতৃর্ত্বের অগ্রভাবে।

বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হকের ক্লীন ইমেজ রয়েছে। তিনি বিগত ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে দলের আহত নেতাকর্মীদের পাশে থেকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যার্শী জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক সদর ও বারহাট্টা উপজেলায় ঘন ঘন গনসংযোগ করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি ২৭ জুন সদর উপজেলার মদনপুর শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী (রঃ) মাজার জিয়ারত করে নির্বাচনী গনসংযোগ এবং পথসভা শুরু করেন। পথসভায় আগামী নির্বাচনে সকলকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিএনপিকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আনার জন্য আহবান জানিয়ে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যার্শী অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক বলেন, বিএনপি জনগনের ভোটের অধিকার এবং গনতন্ত্র পুনঃরুদ্ধারের লক্ষ্যে আন্দোলন করেছে। পরবর্তীতে ৪ জুলাই বারহাট্টা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যার্শী ডা. মো. আনোয়ারুল হক ৩১ দফার লিফলেট বিতরন এবং কয়েকটি পথসভা করেন।

এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যার্শী কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এটিএম আব্দুল বারী ড্যানি এলাকায় জনপ্রিয়তার কারনে আওয়ামীলীগের রোষানলে পড়ে ব্যাপক হয়রানির শিকার হয়েছেন। কেন্দ্রীয় এই নেতার ওপর একাধিকবার হামলাসহ অসংখ্য মামলায় জড়িয়ে তাকে হয়রানি করা হয়। তিনি জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি নেত্রকোনা-বারহাট্টার স্থানীয় রাজনীতিতেও বেশ সরব রয়েছেন। দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার লক্ষে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সভা সমাবেশে তিনি নিয়মিত উপস্থিত হয়ে নেতাকর্মীদের ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষে দিকনির্দেশনা প্রদান করে যাচ্ছেন। তিনি নির্বাচনী এলাকার দুই উপজেলায় নেতা কর্মী এবং সাধারন ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক গ্রহণযোগ্য। তিনি কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচীতে অংশ গ্রহন করছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি এলাকায় ঘন ঘন গনসংযোগ করছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিয়মিত গনসংযোগ কর্মসূচীর অংশ হিসেবে তিনি ২৭ জুন বারহাট্টা উপজেলার সিংধা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি বাজারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফার লিফলেট বিতরন এবং গনসংযোগ করেন।

এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যার্শী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. আরিফা জেসমিন নাহীন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় কর্মসূচী বাস্তবায়নের আন্দোলনে সামনের সাড়িতে নেতৃত্ব দেয়ায় রাজধানীসহ শহরের রাজপথ থেকে একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে করাবরণ করেছেন। শহরের মোক্তারপাড়াস্থ বাসভবন সরকার দলীয় মিছিলের প্রতিদিন ইট পাটকেল নিক্ষেপসহ হামলার শিকারে পরিনত হওয়াসহ তিনি অসংখ্য মামলার আসামী। তিনি এ আসনে বিএনপির একমাত্র নারী প্রার্থী। জেলা শহরের বিগত দেড়দশক রাজনৈতিক নেতৃত্বের কারনে বিএনপির হয়রানির শিকার নেতাদের মধ্যে ড. আরিফা জেসমিন নাহীন অন্যতম। ব্যাপক হামলা মামলার পরে ও তিনি কোন ধরনের আপোষ করেননি। বিগত সময়ে নেত্রকোনার রাজপথে বিএনপির আন্দোলন কর্মসূচী বাস্তবায়নে তিনি সামনের সাড়িতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। নেত্রকোনা-বারহাট্টা নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে বার বার কারানির্যাতিত ড. আরিফা জেসমিন নাহীনের ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। তিনি বিগত কয়েকটি নির্বাচনে এ আসনে দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। ২৪ জুন তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা কর্মসূচী তুলে ধরে পৌর শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে লিফলেট বিতরন ও জনসংযোগ করেন। ড. আরিফা জেমিন নাহীন মহিলা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক মানবাধিকার সম্পাদক, নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি, নেত্রকোনা জেলা মহিলা দলের সাবেক সভাপতি, সাবেক আহবায়ক, নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের সাবেক সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাড়ি থেকে উচ্ছেদের পর হরতালে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তিনি এ আসনে একক নারী প্রার্থী হিসেবে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।

এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যার্শী জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ডা. মো. দেলোয়ার হোসেন টিটো। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকার অসহায় মানুষকে বিনামুল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় তিনি এলাকার অসহায়দের পাশে থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রেখেছেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে সর্বমহলে পরিছন্ন ইমেজের অধিকারী সাবেক জেলা বিএনপি নেতা ডা. দেলোয়ার হোসেন টিটো এলাকায় ঘন ঘন যাতায়াত শুরু করেছেন। পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে তিনি বারহাট্টায় জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে বিশাল ঈদপূর্নমিলণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর একক প্রার্থী হিসেবে সাবেক জেলা আমীর ও ময়মনসিংহ অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যাপক মাওলানা এনামূল হক নেত্রকোনা সদর ও বারহাট্টা উপজেলাসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়মিত জনসংযোগ করছেন।

এ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের হেভিওয়েট প্রার্থী কেন্দ্রীয় সহকারি মহাসচিব মাওলানা গাজী মুহাম্মদ আব্দুর রহীম রুহী বিগত দেড়দশকে ৭ বার কারাবরণ এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের হামলায় নিজের একটি হাত হারিয়েছেন। মাওলানা গাজী মুহাম্মদ আবদুর রহীম রুহীকে একজন প্রতিবাদী মানুষ হিসেবে সকলেই চেনেন। বিভিন্ন, সামাজিক, মানবিক, ইসলামী কর্মকান্ডে সারা জেলায় তিনি সক্রিয় ভুমিকা পালন করে আসছেন। কোভিড-১৯ চলাকালে প্রশাসনকে সার্বিক সহযোগিতার পাশাপাশি করোনায় নিহতদের লাশ দাফনে গাজী মুহাম্মদ আব্দুর রহীম রুহী এগিয়ে আসে। নেত্রকোনা সদর ও বারহাট্টা উপজেলায় মাওলানা গাজী মুহাম্মদ আব্দুর রহীম রুহীর ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে।

এ আসনে গণঅধিকার পরিষদের মনোনয়ন প্রত্যার্শী ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হাসান আল মামুন ২০১৮ সালের ঐতিহাসিক কোটা সংস্কার আন্দোলনে আহবায়ক, গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) নেত্রকোনা জেলা শাখা, গণঅধিকার পরিষদ নির্বাহী সংসদের সিনিয়র যুগ্ম সাধারন সম্পাদক এবং গণঅধিকার পরিষদ নির্বাহী সংসদের রাজনৈতিক লিয়াজু প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। নেত্রকোনা সদর ও বারহাট্টা উপজেলায় গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা হাসান আল মামুনের পরিছন্ন ইমেজ এবং ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে।

এ আসনে এনসিপির মনোনয়ন প্রত্যার্শী জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য নেত্রকোনার ছেলে মো. ফাহিম রহমান খান পাঠান। এর আগে তিনি জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য ছিলেন। তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও বিভিন্ন সংস্কারমূলক কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন। ২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রতিষ্ঠাকালীন আহবায়ক হন তিনি। এরপর ছাত্র অধিকার পরিষদ ময়মনসিংহ বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন বিভাগীয় সমন্বয়ক ও ছাত্র অধিকার পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেন। নেত্রকোনা জেলা ও ময়মনসিংহ বিভাগে ধর্ষন, সন্ত্রাস বিরোধী, সাধারন শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন আন্দোলন, মোদী বিরোধী আন্দোলন, নারীকে অবমাননার বিরুদ্ধে আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন সংগ্রামে বিভিন্ন সময়ে তিনি নেতৃত্ব দেন। তিনি বিভিন্ন হত্যাকান্ডের বিচারের দাবীতে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করেন। ২০১৭ সাল থেকে তার ‘উজ্জীবন’ নামে সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী একটি সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে। যার মাধ্যমে ২০২২-২০২৪ সালের বন্যা, করোনা, বিভিন্ন দূর্যোগ ও অসহায় মানুষের চিকিৎসা সহযোগিতা করেছে তার সংগঠন । প্রতিমাসে অসংখ্য রক্ক ব্যবস্থা করে দেয়া হয় এই সংগঠন থেকে।

হুইল চেয়ার, ক্র্যাচ, বাজার থেকে শুরু করে অনেক মাদ্রাসা, এতিম খানায় ঈদের কাপড়, সামাজিক কর্মকান্ডে মানুষের পাশে থাকে এই সংগঠন ও প্রতিষ্ঠাতা মো. ফাহিম রহমান খান পাঠান। ২০২০ সাল থেকে ‘নেত্রকোনা ক্যাট এন্ড ডগ সোসাইটি’ সংগঠনের মাধ্যমে তিনি ৫০০ কুকুর বিড়াল সম্পুর্ন বিনামূল্যে এডপশন দিয়েছেন ও নিজ খরচে চিকিৎসা দিয়েছেন। গণঅভূর্থানের পর দেশের জনগনকে এবং মুসলিম মানুষদের দ্বীনের দিকে ধাবিত করার লক্ষ্যে তিনি সামাজিক সংগঠন এডুকেশনাল প্লাটফর্ম স্কলার একাডেমি থেকে বিনামূল্যে কুরআন শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছেন।

এছাড়াও তিনি সকল দরিদ্র শিক্ষার্থীদের এবং বয়োবৃদ্ধ মানুষ যাদের পড়াশোনার আগ্রহ আছে তাদের বিনামূল্যে পড়াতে চান। ছাত্র জীবনে তিনি ২০০৭ থেকে স্কাউটিংয়ের সাথে জড়িত ছিলেন। করেছেন সামাজিক ও মানবিক অসংখ্য কাজ। ২০১০ সালে বয়েজ স্কাউটদের মহাসম্মেলনে ‘জাম্বুরি’ করেন। ২০১৩ সালে রোভার মুটে অংশগ্রহণ করেন। ২০১৭ তিনি ময়মনসিংহ সিটি আইডিয়াথনে সেরা আইডিয়া দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হন। বিগত স্বৈরাচারের আমলে ১৬ বছরে বিভিন্ন সময় তিনি হুমকি ধামকী হয়রানির শিকার হয়ে মানুষের জন্য কাজ চালিয়ে যান। সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামের জন্য বাড়ি ছাড়া, ঘর ছাড়া হয়েছেন অসংখ্যবার। তিনি তৃনমূলের আন্দোলনে জেলায় সর্বোচ্চ নিপীড়িত, নির্যাতিত, হামলা ও জুলুমের শিকার হয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি নেত্রকোনা সদর ও বারহাট্টা উপজেলায় নিয়মিত গণসংযোগ করছেন।

এ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থী এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক প্রীতম সোহাগ। তিনি নেত্রকোনা সদর ও বারহাট্টা উপজেলাবাসীকে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছন। জেলা প্রশাসনের কর্মসূচীসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে তিনি নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। তিনি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের একজন সাবেক মেধাবী ছাত্র। এলাকায় প্রীতম সোহাগ বেশ পরিচিতি লাভ করেছেন।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

নান্দাইলে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

ময়মনসিংহ রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ এএসআই ঈশ্বরগঞ্জের শাহ আলম

21 September 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

নেত্রকোনা-২ আসনে মাঠে সরব সম্ভাব্য প্রার্থীরা

পোষ্টের সময় : ০৫:১২:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫

 

জাতীয় সংসদের ১৫৮, নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষনা না হলেও এলাকায় বইছে আগাম নির্বাচনী ভোটের হাওয়া। জেলার ৫টি আসনের মধ্যে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ন জেলা সদর কেন্দ্রিক এ আসনে আগামী নির্বাচন নিয়ে ইতিমধ্যে সরব আলোচনা হচ্ছে। সকল রাজনৈতিক দলের কর্মসূচী জেলা সদর থেকে পরিচালিত হওয়ায় এ আসনটি সকলের কাছেই খুব তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এ আসনে ইতিমধ্যে একক প্রার্থী ঘোষনা করলেও বিএনপি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির একাধিক প্রার্থী ভোটের মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। আসনটিতে বিএনপির পক্ষ থেকে কে পাবেন দলীয় মনোনয়ন এনিয়ে চলছে দলের অভ্যন্তরে তীব্র প্রতিযোগিতা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যার্শী প্রার্থীরা হলেন, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আশরাফ উদ্দিন খান, জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এটিএম আব্দুল বারী ড্যানি, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ড. আরিফা জেসমিন নাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ডা. দেলোয়ার হোসেন টিটো। এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর একক প্রার্থী হলেন, সাবেক জেলা আমীর ও ময়মনসিংহ অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যাপক মাওলানা এনামূল হক। বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সহকারী মহাসচিব মাওলানা গাজী মোহাম্মদ আব্দুর রহিম রুহী একক প্রার্থী হিসেবে এলাকায় প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ আসনে গণঅধিকার পরিষদের একক প্রার্থী হাসান আল মামুন। আসনটিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির মনোনয়ন প্রত্যার্শী হিসেবে মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় রয়েছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ফাহিম রহমান খান পাঠান এবং কেন্দ্রীয় সংগঠক প্রীতম সোহাগ।

এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যার্শী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ মো. আশরাফ উদ্দিন খান। মো. আশরাফ উদ্দিন খান ১৯৪৬ সালে নেত্রকোনার চকপাড়াস্থ এক প্রাচীন মুসলিম জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতামহ সমসের খান ছিলেন বর্তমান নেত্রকোনা শহরের এক বিরাট অংশের জমিদার। তিনি শুধু জমিদার ছিলেন না, ছিলেন একজন মানবপ্রেমী জনহিতৈষী। নেত্রকোনা পৌরসভা, নেত্রকোনা মডেল থানা থেকে শুরু করে আঞ্জুমান আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, নিউটাউনের বড়পুকুর, বড়বাজার, কোর্ট স্টেশন, বড় স্টেশনের জায়গাসহ অসংখ্য জমি তিনি জনসেবার উদ্দেশ্যে দান করেছেন। জেলা শহরের আধুনিক রূপরেখার ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।

সমসের খানের দুই পুত্র আজিম খান এবং আশরাফ উদ্দিন খানের পিতা মুজাফর খান দুজনই ছিলেন এলাকার সুপরিচিত দানবীর এবং সমাজসেবক। আশরাফ উদ্দিন খান পড়াশোনা করেন আঞ্জুমান আদর্শ সরকারি বিদ্যালয় ও নেত্রকোনা সরকারি কলেজে। কলেজ জীবনেই তিনি ছাত্র ইউনিয়নের বিপুল ভোটে ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ক্রীড়াঙ্গনে নেতৃত্ব দেন। তিনি ওই সময়ে জেলার সেরা ফুটবলার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ডাক আসলে মো. আশরাফ উদ্দিন খান সরাসরি ভারতে গমন করে প্রশিক্ষণ নেন এবং জেড ফোর্সের সদস্য হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১১ নম্বর সেক্টরে ঐতিহাসিক ধানুয়া কামালপুর যুদ্ধে সম্মুখসমরে তিনি নেতৃত্ব দেন। এক অভিযানে এলএমজি দিয়ে একাই ১৯জন পাকিস্থানী সেনাকে জীবিত বন্দি করে দেশের প্রতি নিজের অশেষ সাহস ও দায়বদ্ধতা প্রমান করেন। তিনি নেত্রকোনা মহকুমা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং পরবর্তীতে ইউনিট কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ১৯৮১ সালে নেত্রকোনার প্রথম জেলা পরিষদে উপ-মন্ত্রীর পদমর্যাদায় সফলভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি সংসদ সদস্য থাকাকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নেত্রকোনার তিলকখালি খান খনন কর্মসূচীর উদ্ধোধন করেন। ওই অনুষ্ঠানের সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আশরাফ উদ্দিন খান। তিনি দায়িত্বে থাকাকালে জেলা শহরের ডিসি অফিস, জজকোট, এসপি অফিস, ব্রিজ-কালভার্ট, মসজিদ-মন্দির, বিদ্যুতায়নসহ অসংখ্য উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাব, গণগ্রস্থাগার, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রাইফেলস ক্লাবসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পেছনে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আশরাফ উদ্দিন খানের মেধা ও নেতৃত্ব কাজ করেছে। নেত্রকোনায় বিএনপির শিকড় গড়া, বিস্তার ও রক্ষনাবেক্ষণের সঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আশরাফ উদ্দিন খান ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আশরাফ উদ্দিন খান ১৯৯৭ সালে নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সভাপতি, ২০০৯ সালে জেলা বিএনপির আহবায়ক এবং ২০১৪ সালের ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় জেলা বিএনপির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি পদে ১৫২৫ ভোটের মধ্যে ১১৬৮ ভোট পেয়ে পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০৬ সালের বাতিল হওয়া জাতীয় সংসদ এবং ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারদলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে মো. আশরাফ উদ্দিন খান প্রতিদ্বন্ধিতা করেছেন। জেলা বিএনপির দুঃসময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের একজন পরীক্ষিত সৈনিকের ভুমিকা রেখেছেন তিনি। এজন্য তাকে নেত্রকোনার রাজপথে মাথার রক্ত ঝড়াতে হয়েছে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দেড়দশকে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আশরাফ উদ্দিন খানের চকপাড়াস্থ বাসভবন গভীররাতে সবচাইতে বেশী পুলিশী তল্লাশীর শিকারে পরিনত হয়। তিনি ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুথানে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাবার পর জেলা শহরের প্রতিটি পূজামন্ডপসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের সুরক্ষায় পরিবারের সদস্যদের সমন্বয়ে রাতজেগে পাহাড়া দেয়ার ব্যবস্থা করেন। এ আসনের বিশাল হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে মো. আশরাফ উদ্দিন খানের পারিবারিক ভাবে সুসম্পর্ক দীর্ঘদিনের। নেত্রকোনা সদর এবং বারহাট্টা উপজেলায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আশরাফ উদ্দিন খান একডাকে ‘“আশরাফ ভাই” হিসেবে পরিচিত। তিনি জেলা বিএনপির দুঃসময়ের একজন পরীক্ষিত নেতা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যার্শী হিসেবে তিনি ব্যাপক আলোচনায় রয়েছেন।

এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যার্শী জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হকের বিরুদ্ধে ১২টি মামলাসহ শহরের আধুনিক সদর হাসপাতাল রোডস্থ বাসভবনে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা ককটেল বিষ্ফোরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। বিগত সময়ে জনগনের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জেলা থেকে শুরু করে প্রতিটি বিভাগীয় কর্মসূচীতে ডা. মো. আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা অংশগ্রহন করেন। তিনি বিএনপির চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বিএনপির মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ দলের সকল নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবীতে আন্দোলন কর্মসূচীগুলো বাস্তবায়নে ছিলেন নেতৃর্ত্বের অগ্রভাবে।

বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হকের ক্লীন ইমেজ রয়েছে। তিনি বিগত ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে দলের আহত নেতাকর্মীদের পাশে থেকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যার্শী জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক সদর ও বারহাট্টা উপজেলায় ঘন ঘন গনসংযোগ করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি ২৭ জুন সদর উপজেলার মদনপুর শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী (রঃ) মাজার জিয়ারত করে নির্বাচনী গনসংযোগ এবং পথসভা শুরু করেন। পথসভায় আগামী নির্বাচনে সকলকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিএনপিকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আনার জন্য আহবান জানিয়ে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যার্শী অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক বলেন, বিএনপি জনগনের ভোটের অধিকার এবং গনতন্ত্র পুনঃরুদ্ধারের লক্ষ্যে আন্দোলন করেছে। পরবর্তীতে ৪ জুলাই বারহাট্টা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যার্শী ডা. মো. আনোয়ারুল হক ৩১ দফার লিফলেট বিতরন এবং কয়েকটি পথসভা করেন।

এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যার্শী কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এটিএম আব্দুল বারী ড্যানি এলাকায় জনপ্রিয়তার কারনে আওয়ামীলীগের রোষানলে পড়ে ব্যাপক হয়রানির শিকার হয়েছেন। কেন্দ্রীয় এই নেতার ওপর একাধিকবার হামলাসহ অসংখ্য মামলায় জড়িয়ে তাকে হয়রানি করা হয়। তিনি জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি নেত্রকোনা-বারহাট্টার স্থানীয় রাজনীতিতেও বেশ সরব রয়েছেন। দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার লক্ষে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সভা সমাবেশে তিনি নিয়মিত উপস্থিত হয়ে নেতাকর্মীদের ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষে দিকনির্দেশনা প্রদান করে যাচ্ছেন। তিনি নির্বাচনী এলাকার দুই উপজেলায় নেতা কর্মী এবং সাধারন ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক গ্রহণযোগ্য। তিনি কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচীতে অংশ গ্রহন করছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি এলাকায় ঘন ঘন গনসংযোগ করছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিয়মিত গনসংযোগ কর্মসূচীর অংশ হিসেবে তিনি ২৭ জুন বারহাট্টা উপজেলার সিংধা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি বাজারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফার লিফলেট বিতরন এবং গনসংযোগ করেন।

এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যার্শী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. আরিফা জেসমিন নাহীন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় কর্মসূচী বাস্তবায়নের আন্দোলনে সামনের সাড়িতে নেতৃত্ব দেয়ায় রাজধানীসহ শহরের রাজপথ থেকে একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে করাবরণ করেছেন। শহরের মোক্তারপাড়াস্থ বাসভবন সরকার দলীয় মিছিলের প্রতিদিন ইট পাটকেল নিক্ষেপসহ হামলার শিকারে পরিনত হওয়াসহ তিনি অসংখ্য মামলার আসামী। তিনি এ আসনে বিএনপির একমাত্র নারী প্রার্থী। জেলা শহরের বিগত দেড়দশক রাজনৈতিক নেতৃত্বের কারনে বিএনপির হয়রানির শিকার নেতাদের মধ্যে ড. আরিফা জেসমিন নাহীন অন্যতম। ব্যাপক হামলা মামলার পরে ও তিনি কোন ধরনের আপোষ করেননি। বিগত সময়ে নেত্রকোনার রাজপথে বিএনপির আন্দোলন কর্মসূচী বাস্তবায়নে তিনি সামনের সাড়িতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। নেত্রকোনা-বারহাট্টা নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে বার বার কারানির্যাতিত ড. আরিফা জেসমিন নাহীনের ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। তিনি বিগত কয়েকটি নির্বাচনে এ আসনে দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। ২৪ জুন তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা কর্মসূচী তুলে ধরে পৌর শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে লিফলেট বিতরন ও জনসংযোগ করেন। ড. আরিফা জেমিন নাহীন মহিলা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক মানবাধিকার সম্পাদক, নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি, নেত্রকোনা জেলা মহিলা দলের সাবেক সভাপতি, সাবেক আহবায়ক, নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের সাবেক সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাড়ি থেকে উচ্ছেদের পর হরতালে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তিনি এ আসনে একক নারী প্রার্থী হিসেবে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।

এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যার্শী জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ডা. মো. দেলোয়ার হোসেন টিটো। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকার অসহায় মানুষকে বিনামুল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় তিনি এলাকার অসহায়দের পাশে থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রেখেছেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে সর্বমহলে পরিছন্ন ইমেজের অধিকারী সাবেক জেলা বিএনপি নেতা ডা. দেলোয়ার হোসেন টিটো এলাকায় ঘন ঘন যাতায়াত শুরু করেছেন। পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে তিনি বারহাট্টায় জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে বিশাল ঈদপূর্নমিলণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর একক প্রার্থী হিসেবে সাবেক জেলা আমীর ও ময়মনসিংহ অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যাপক মাওলানা এনামূল হক নেত্রকোনা সদর ও বারহাট্টা উপজেলাসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়মিত জনসংযোগ করছেন।

এ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের হেভিওয়েট প্রার্থী কেন্দ্রীয় সহকারি মহাসচিব মাওলানা গাজী মুহাম্মদ আব্দুর রহীম রুহী বিগত দেড়দশকে ৭ বার কারাবরণ এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের হামলায় নিজের একটি হাত হারিয়েছেন। মাওলানা গাজী মুহাম্মদ আবদুর রহীম রুহীকে একজন প্রতিবাদী মানুষ হিসেবে সকলেই চেনেন। বিভিন্ন, সামাজিক, মানবিক, ইসলামী কর্মকান্ডে সারা জেলায় তিনি সক্রিয় ভুমিকা পালন করে আসছেন। কোভিড-১৯ চলাকালে প্রশাসনকে সার্বিক সহযোগিতার পাশাপাশি করোনায় নিহতদের লাশ দাফনে গাজী মুহাম্মদ আব্দুর রহীম রুহী এগিয়ে আসে। নেত্রকোনা সদর ও বারহাট্টা উপজেলায় মাওলানা গাজী মুহাম্মদ আব্দুর রহীম রুহীর ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে।

এ আসনে গণঅধিকার পরিষদের মনোনয়ন প্রত্যার্শী ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হাসান আল মামুন ২০১৮ সালের ঐতিহাসিক কোটা সংস্কার আন্দোলনে আহবায়ক, গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) নেত্রকোনা জেলা শাখা, গণঅধিকার পরিষদ নির্বাহী সংসদের সিনিয়র যুগ্ম সাধারন সম্পাদক এবং গণঅধিকার পরিষদ নির্বাহী সংসদের রাজনৈতিক লিয়াজু প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। নেত্রকোনা সদর ও বারহাট্টা উপজেলায় গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা হাসান আল মামুনের পরিছন্ন ইমেজ এবং ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে।

এ আসনে এনসিপির মনোনয়ন প্রত্যার্শী জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য নেত্রকোনার ছেলে মো. ফাহিম রহমান খান পাঠান। এর আগে তিনি জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য ছিলেন। তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও বিভিন্ন সংস্কারমূলক কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন। ২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রতিষ্ঠাকালীন আহবায়ক হন তিনি। এরপর ছাত্র অধিকার পরিষদ ময়মনসিংহ বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন বিভাগীয় সমন্বয়ক ও ছাত্র অধিকার পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেন। নেত্রকোনা জেলা ও ময়মনসিংহ বিভাগে ধর্ষন, সন্ত্রাস বিরোধী, সাধারন শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন আন্দোলন, মোদী বিরোধী আন্দোলন, নারীকে অবমাননার বিরুদ্ধে আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন সংগ্রামে বিভিন্ন সময়ে তিনি নেতৃত্ব দেন। তিনি বিভিন্ন হত্যাকান্ডের বিচারের দাবীতে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করেন। ২০১৭ সাল থেকে তার ‘উজ্জীবন’ নামে সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী একটি সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে। যার মাধ্যমে ২০২২-২০২৪ সালের বন্যা, করোনা, বিভিন্ন দূর্যোগ ও অসহায় মানুষের চিকিৎসা সহযোগিতা করেছে তার সংগঠন । প্রতিমাসে অসংখ্য রক্ক ব্যবস্থা করে দেয়া হয় এই সংগঠন থেকে।

হুইল চেয়ার, ক্র্যাচ, বাজার থেকে শুরু করে অনেক মাদ্রাসা, এতিম খানায় ঈদের কাপড়, সামাজিক কর্মকান্ডে মানুষের পাশে থাকে এই সংগঠন ও প্রতিষ্ঠাতা মো. ফাহিম রহমান খান পাঠান। ২০২০ সাল থেকে ‘নেত্রকোনা ক্যাট এন্ড ডগ সোসাইটি’ সংগঠনের মাধ্যমে তিনি ৫০০ কুকুর বিড়াল সম্পুর্ন বিনামূল্যে এডপশন দিয়েছেন ও নিজ খরচে চিকিৎসা দিয়েছেন। গণঅভূর্থানের পর দেশের জনগনকে এবং মুসলিম মানুষদের দ্বীনের দিকে ধাবিত করার লক্ষ্যে তিনি সামাজিক সংগঠন এডুকেশনাল প্লাটফর্ম স্কলার একাডেমি থেকে বিনামূল্যে কুরআন শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছেন।

এছাড়াও তিনি সকল দরিদ্র শিক্ষার্থীদের এবং বয়োবৃদ্ধ মানুষ যাদের পড়াশোনার আগ্রহ আছে তাদের বিনামূল্যে পড়াতে চান। ছাত্র জীবনে তিনি ২০০৭ থেকে স্কাউটিংয়ের সাথে জড়িত ছিলেন। করেছেন সামাজিক ও মানবিক অসংখ্য কাজ। ২০১০ সালে বয়েজ স্কাউটদের মহাসম্মেলনে ‘জাম্বুরি’ করেন। ২০১৩ সালে রোভার মুটে অংশগ্রহণ করেন। ২০১৭ তিনি ময়মনসিংহ সিটি আইডিয়াথনে সেরা আইডিয়া দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হন। বিগত স্বৈরাচারের আমলে ১৬ বছরে বিভিন্ন সময় তিনি হুমকি ধামকী হয়রানির শিকার হয়ে মানুষের জন্য কাজ চালিয়ে যান। সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামের জন্য বাড়ি ছাড়া, ঘর ছাড়া হয়েছেন অসংখ্যবার। তিনি তৃনমূলের আন্দোলনে জেলায় সর্বোচ্চ নিপীড়িত, নির্যাতিত, হামলা ও জুলুমের শিকার হয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি নেত্রকোনা সদর ও বারহাট্টা উপজেলায় নিয়মিত গণসংযোগ করছেন।

এ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থী এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক প্রীতম সোহাগ। তিনি নেত্রকোনা সদর ও বারহাট্টা উপজেলাবাসীকে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছন। জেলা প্রশাসনের কর্মসূচীসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে তিনি নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। তিনি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের একজন সাবেক মেধাবী ছাত্র। এলাকায় প্রীতম সোহাগ বেশ পরিচিতি লাভ করেছেন।

 

Share this news as a Photo Card