১০:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ত্রিশালে ছাত্রদলের সাথে টিকিট কালোবাজারিদের সংঘর্ষ, দোকান ভাঙচুর

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • পোষ্টের সময় : ০৪:৫৬:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৫১৪ ভিউ :

 

ময়মনসিংহের ত্রিশালের বালিপাড়া এলাকায় রেলওয়ের টিকিট কালোবাজারিকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ চলাকালে স্টেশনের আশেপাশে ৫-৬টি দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়।

 

বুধবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ত্রিশালের বালিপাড়ায় স্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) আউলিয়ানগর রেল স্টেশনের টিকিট কাউন্টারে ঢাকা যাওয়ার টিকিট কিনতে যান ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা মারুফ হাসান তানভীর। কমিউটারের টিকিট কাউন্টারের মাস্টারের কাছে টিকিট চাইতে গেলে তিনি জানান সিটসহ টিকিটগুলো মামুন মোল্লার কাছে আছে।

 

পরে তানভীর মামুন মোল্লার কাছে গেলে তিনি ৫০ টাকার টিকিটের দাম চান ৩০০ টাকা। অতিরিক্ত দাম চাওয়ায় দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর টিকিট না নিয়েই ছাত্রদল নেতা তানভীর স্টেশন ত্যাগ করেন।

 

এই ঘটনার জেরে পরের দিন বুধবার সন্ধ্যায় তানভীরের ছোট ভাই তানজিলকে স্টেশনে আটক করে নির্যাতন করে মামুন মোল্লার লোকজন। এই খবর জানাজানি হলে ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তানজিলকে উদ্ধারের জন্য স্টেশনে যায়। এ সময় দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ছাত্রদলের কর্মীরা তানজিলকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এই সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের লোকজন স্টেশনের আশেপাশে থাকা ৫-৬টি দোকানপাট ভাঙচুর করে।

 

এ বিষয়ে ছাত্রদল নেতা তানভীর জানান, “আমার ভাইকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে টিকিট কালোবাজারি মামুন মোল্লা নির্যাতন করে। তাকে উদ্ধার করার জন্য আমরা এগিয়ে এলে মামুনের লোকজন রামদা ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের উপর হামলা করে। এতে আমাদের লোকজন বাধা দিলে মামুনসহ তার সন্ত্রাসী বাহিনী দোকানপাট ভাঙচুর করে। কালোবাজারি বন্ধ না হলে কাল থেকে এলাকার মানুষ রুখে দাঁড়াবে।

 

অন্যদিকে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী আলী বলেন, “মামুন মোল্লা টিকিটের ইজারা নিয়ে অবৈধভাবে কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত। সে যাত্রীদের জিম্মি করে ৫-৬ গুণ বেশি ভাড়া নিয়ে সিট বিক্রি করে আসছে। আমরা এর প্রতিবাদ করলেই সে আমাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়। গতকাল এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হলে মামুন মোল্লার লোকজন ধাওয়া দিয়ে আমাদের এলাকার দোকানপাট ভাঙচুর করে।”

 

তবে মামুন মোল্লা সমকালকে জানান, “তারা আমার কাছে চাঁদা চেয়েছিল। চাঁদা না দেওয়ায় তারাই আমাদের উপর হামলা করেছে। তারা নিজেরাই দোকানপাট ভাঙচুর করে আমাদের উপর দায় চাপাচ্ছে।”

 

সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আক্তার হোসেন বলেন, “দুই পক্ষের সংঘর্ষে দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আমাদের টিম ঘটনাস্থলে গেছে। তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে স্টেশন চত্বরে যারা অবৈধভাবে দোকানপাট দখল করেছেন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

ত্রিশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাহিদ পারভেজ জানান, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শ্ন করেছি। কে বা কারা দোকান ভাংচুর করেছে তা তদন্ত করে দেখা হবে। টিকিট কালোবাজারিসহ অন্যান্য বিষয় জড়িত থাকলে সে বিষয়ে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

প্রয়োজনে বিমান টিকিট দেব, তবুও দেশে আসুন: হাসিনাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় হিফজ প্রতিযোগিতায় দেশসেরা দুই হাফেজ, নকলায় রাজকীয় সংবর্ধনা

06 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ত্রিশালে ছাত্রদলের সাথে টিকিট কালোবাজারিদের সংঘর্ষ, দোকান ভাঙচুর

পোষ্টের সময় : ০৪:৫৬:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫

 

ময়মনসিংহের ত্রিশালের বালিপাড়া এলাকায় রেলওয়ের টিকিট কালোবাজারিকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ চলাকালে স্টেশনের আশেপাশে ৫-৬টি দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়।

 

বুধবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ত্রিশালের বালিপাড়ায় স্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) আউলিয়ানগর রেল স্টেশনের টিকিট কাউন্টারে ঢাকা যাওয়ার টিকিট কিনতে যান ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা মারুফ হাসান তানভীর। কমিউটারের টিকিট কাউন্টারের মাস্টারের কাছে টিকিট চাইতে গেলে তিনি জানান সিটসহ টিকিটগুলো মামুন মোল্লার কাছে আছে।

 

পরে তানভীর মামুন মোল্লার কাছে গেলে তিনি ৫০ টাকার টিকিটের দাম চান ৩০০ টাকা। অতিরিক্ত দাম চাওয়ায় দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর টিকিট না নিয়েই ছাত্রদল নেতা তানভীর স্টেশন ত্যাগ করেন।

 

এই ঘটনার জেরে পরের দিন বুধবার সন্ধ্যায় তানভীরের ছোট ভাই তানজিলকে স্টেশনে আটক করে নির্যাতন করে মামুন মোল্লার লোকজন। এই খবর জানাজানি হলে ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তানজিলকে উদ্ধারের জন্য স্টেশনে যায়। এ সময় দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ছাত্রদলের কর্মীরা তানজিলকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এই সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের লোকজন স্টেশনের আশেপাশে থাকা ৫-৬টি দোকানপাট ভাঙচুর করে।

 

এ বিষয়ে ছাত্রদল নেতা তানভীর জানান, “আমার ভাইকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে টিকিট কালোবাজারি মামুন মোল্লা নির্যাতন করে। তাকে উদ্ধার করার জন্য আমরা এগিয়ে এলে মামুনের লোকজন রামদা ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের উপর হামলা করে। এতে আমাদের লোকজন বাধা দিলে মামুনসহ তার সন্ত্রাসী বাহিনী দোকানপাট ভাঙচুর করে। কালোবাজারি বন্ধ না হলে কাল থেকে এলাকার মানুষ রুখে দাঁড়াবে।

 

অন্যদিকে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী আলী বলেন, “মামুন মোল্লা টিকিটের ইজারা নিয়ে অবৈধভাবে কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত। সে যাত্রীদের জিম্মি করে ৫-৬ গুণ বেশি ভাড়া নিয়ে সিট বিক্রি করে আসছে। আমরা এর প্রতিবাদ করলেই সে আমাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়। গতকাল এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হলে মামুন মোল্লার লোকজন ধাওয়া দিয়ে আমাদের এলাকার দোকানপাট ভাঙচুর করে।”

 

তবে মামুন মোল্লা সমকালকে জানান, “তারা আমার কাছে চাঁদা চেয়েছিল। চাঁদা না দেওয়ায় তারাই আমাদের উপর হামলা করেছে। তারা নিজেরাই দোকানপাট ভাঙচুর করে আমাদের উপর দায় চাপাচ্ছে।”

 

সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আক্তার হোসেন বলেন, “দুই পক্ষের সংঘর্ষে দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আমাদের টিম ঘটনাস্থলে গেছে। তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে স্টেশন চত্বরে যারা অবৈধভাবে দোকানপাট দখল করেছেন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

ত্রিশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাহিদ পারভেজ জানান, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শ্ন করেছি। কে বা কারা দোকান ভাংচুর করেছে তা তদন্ত করে দেখা হবে। টিকিট কালোবাজারিসহ অন্যান্য বিষয় জড়িত থাকলে সে বিষয়ে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

 

Share this news as a Photo Card