০২:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিউইয়র্কে দিদারুলের পরিবারের সাথে ড. ইউনুস

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • পোষ্টের সময় : ০৯:১৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৪০০ ভিউ :

 

নিউইয়র্কে গুলিতে নিহত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস। রবিবার স্থানীয় সময় তিনি দিদারুলের বাসভবনে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা জানান।

 

প্রধান উপদেষ্টা পরিবারকে জানালেন, দিদারুলের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য শুধু বাংলাদেশ নয়, যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষও তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে। তিনি বলেন, গণমাধ্যমে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান দেখেছেন, যা প্রমাণ করে দিদারুল সত্যিই জনগণের পুলিশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।

 

ড. ইউনুস নিহত দিদারুলের বাবা-মা ও স্ত্রী-সন্তানের হাতে একটি সম্মাননা ক্রেস্টও তুলে দেন। তিনি পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, জাতির জন্য জীবন উৎসর্গ করা এমন একজন সাহসী পুলিশ সদস্যের পরিবারের পাশে সরকার ও দেশবাসী সবসময় থাকবে।

 

প্রসঙ্গত, গত ২৮ জুলাই নিউইয়র্কের পার্ক অ্যাভিনিউতে এক বন্দুকধারীর হামলায় দিদারুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। সেদিন এক বন্দুকধারী বহুতল করপোরেট ভবনে প্রবেশ করে নির্বিচারে গুলি ছোড়ে। পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে গেলে তিনি লক্ষ্যবস্তু হন। পরে হামলাকারী নিজেই আত্মহত্যা করে।

 

৪৭ নম্বর প্রিসিঙ্ক্টে কর্মরত দিদারুল দীর্ঘদিন নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টে নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হিসেবে তিনি সম্প্রদায়ের গর্ব ছিলেন। দিদারুলের বাবা মোহাম্মদ আবদুর রব ও মা মিনারা বেগম তাদের সন্তান হারানোর শোক সইতে না পারলেও সন্তানের সাহসিকতায় গর্বিত বলে জানিয়েছেন।

 

দুই সন্তানের জনক দিদারুলের অকাল প্রয়াণে শুধু পরিবার নয়, পুরো প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিও শোকে স্তব্ধ। শেষকৃত্যে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নিয়ে তাকে শ্রদ্ধা জানায়।

 

ড. ইউনুসের এই সাক্ষাৎ পরিবারকে নতুন করে সাহস দিয়েছে। তিনি বলেন, “দিদারুলের নাম ইতিহাসে একজন সাহসী পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে থেকে যাবে, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম অনুপ্রেরণা জোগাবে।”

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বাকৃবির শহীদ শামসুল হক হলে বৃক্ষরোপণ

প্রবাসে মৃত্যুর ২৭ দিন পর তথ্য প্রতিমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় মরদেহ ফিরল দেশে

07 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

নিউইয়র্কে দিদারুলের পরিবারের সাথে ড. ইউনুস

পোষ্টের সময় : ০৯:১৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

নিউইয়র্কে গুলিতে নিহত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস। রবিবার স্থানীয় সময় তিনি দিদারুলের বাসভবনে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা জানান।

 

প্রধান উপদেষ্টা পরিবারকে জানালেন, দিদারুলের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য শুধু বাংলাদেশ নয়, যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষও তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে। তিনি বলেন, গণমাধ্যমে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান দেখেছেন, যা প্রমাণ করে দিদারুল সত্যিই জনগণের পুলিশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।

 

ড. ইউনুস নিহত দিদারুলের বাবা-মা ও স্ত্রী-সন্তানের হাতে একটি সম্মাননা ক্রেস্টও তুলে দেন। তিনি পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, জাতির জন্য জীবন উৎসর্গ করা এমন একজন সাহসী পুলিশ সদস্যের পরিবারের পাশে সরকার ও দেশবাসী সবসময় থাকবে।

 

প্রসঙ্গত, গত ২৮ জুলাই নিউইয়র্কের পার্ক অ্যাভিনিউতে এক বন্দুকধারীর হামলায় দিদারুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। সেদিন এক বন্দুকধারী বহুতল করপোরেট ভবনে প্রবেশ করে নির্বিচারে গুলি ছোড়ে। পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে গেলে তিনি লক্ষ্যবস্তু হন। পরে হামলাকারী নিজেই আত্মহত্যা করে।

 

৪৭ নম্বর প্রিসিঙ্ক্টে কর্মরত দিদারুল দীর্ঘদিন নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টে নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হিসেবে তিনি সম্প্রদায়ের গর্ব ছিলেন। দিদারুলের বাবা মোহাম্মদ আবদুর রব ও মা মিনারা বেগম তাদের সন্তান হারানোর শোক সইতে না পারলেও সন্তানের সাহসিকতায় গর্বিত বলে জানিয়েছেন।

 

দুই সন্তানের জনক দিদারুলের অকাল প্রয়াণে শুধু পরিবার নয়, পুরো প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিও শোকে স্তব্ধ। শেষকৃত্যে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নিয়ে তাকে শ্রদ্ধা জানায়।

 

ড. ইউনুসের এই সাক্ষাৎ পরিবারকে নতুন করে সাহস দিয়েছে। তিনি বলেন, “দিদারুলের নাম ইতিহাসে একজন সাহসী পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে থেকে যাবে, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম অনুপ্রেরণা জোগাবে।”

 

Share this news as a Photo Card