তিনদিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে রাজধানী ঢাকার কাকরাইল এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মুফতি মহিবুল্লাহ মিয়াজী। বৃহস্পতিবার রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে উদ্ধার করেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তার অনুসারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত সোমবার দুপুরে বাড্ডার বাসা থেকে বেরিয়ে যান মুফতি মহিবুল্লাহ মিয়াজী। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং তিনি আর বাসায় ফেরেননি। পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলেও দীর্ঘ সময় তার কোনো খোঁজ মেলেনি। ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও নানা আলোচনার জন্ম দেয়, কারণ তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী আন্দোলন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
জানা গেছে, উদ্ধার হওয়ার পর মুফতি মহিবুল্লাহকে প্রাথমিকভাবে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি শারীরিকভাবে কিছুটা দুর্বল হলেও বর্তমানে স্থিতিশীল আছেন। তারা তার দ্রুত আরোগ্য ও মানসিক সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
এদিকে, মুফতি মহিবুল্লাহর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। অনেকে ঘটনাটিকে রহস্যজনক বলে উল্লেখ করে দ্রুত তদন্ত দাবি করেন। বিভিন্ন ইসলামি সংগঠনও বিবৃতি দিয়ে সরকারের কাছে ঘটনার সঠিক তদন্ত ও দায়ীদের চিহ্নিত করার আহ্বান জানায়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং বিস্তারিত তথ্য শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। তবে মুফতি মহিবুল্লাহ কোথায় ছিলেন ও কীভাবে উদ্ধার হয়েছেন, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি।
দেশের ধর্মীয় অঙ্গনে প্রভাবশালী এই আলেমের নিখোঁজ ও পুনরুদ্ধারের ঘটনাটি নতুন করে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের আরও তৎপর হওয়া প্রয়োজন।
স্টাফ রিপোর্টার 






















