বুয়েনস আয়ার্স, রিও ডি জেনেইরো কিংবা গ্লাসগো নয়, হাজারো কিলোমিটার দূরের বাংলাদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ফুটবল উন্মাদনাই জায়গা করে নিল বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার প্রেসিডেন্টর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ব্রাজিল সমর্থকদের উল্লাসের একটি ভিডিও নিজের ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেছেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাতে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল ও স্কটল্যান্ডের ম্যাচ চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা সম্মেলন কেন্দ্রে খেলা উপভোগ করতে জড়ো হন হাজারো শিক্ষার্থী ও ফুটবলপ্রেমী। ব্রাজিলের গোল হতেই মুহূর্তেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে পুরো মিলনায়তন। হলুদ জার্সি, ব্রাজিলের পতাকা আর সমস্বরে উদযাপনে মুখর হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। সেই মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুবাধে ফিফা প্রেসিডেন্টের নজরেও পড়ে। পরে তিনি সেটি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন।
বাংলাদেশে ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে উচ্ছ্বাস, বিশেষ করে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের আবেগ, নতুন কিছু নয়। তবে এবার সেই পরিচিত উন্মাদনাকে ছাড়িয়ে দেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের ফুটবলপ্রেম পৌঁছে গেছে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি দীর্ঘদিন ধরেই খেলাধুলাবান্ধব পরিবেশ ও সক্রিয় ক্রীড়া সংস্কৃতির জন্য পরিচিত। বিশ্বকাপ কিংবা স্থানীয় খেলা সব ক্ষেত্রেই ক্যাম্পাসে তৈরি হয় আলাদা এক উৎসবমুখর আবহ। এবারের বিশ্বকাপেও ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের ম্যাচ ঘিরে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
এর আগেও ড্যাফোডিলের ফুটবল উন্মাদনা আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় এসেছে। ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার এক ভিডিওতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন এবং তার অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের প্রতি ম্যাচের উচ্ছ্বাসের একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মাধ্যম ও সাংবাদিকদের মধ্যে, যার মধ্যে রয়েছে ফক্স সকার, ইএসপিএন, মার্কা, টিওয়াইসি স্পোর্টস, দিয়ারিও ওলে এবং সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো।
ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ড্যাফোডিলের ব্রাজিল সমর্থকদের ভিডিও শেয়ার করে লেখেন, আপনি পৃথিবীর যেখানেই থাকুন না কেন, আমাদের এই সুন্দর খেলাটি আমাদের সবাইকে এক সুতোয় বেঁধে দেয়। ফুটবল বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী সৌরভ বলেন, ফুটবল আমাদের কাছে শুধু একটি খেলা নয়, এটি আবেগ, পরিচয় এবং ভালোবাসার আরেক নাম। আমরা বিশ্বকাপে খেলতে না পারলেও আমাদের উচ্ছ্বাস ও সমর্থন আজ বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল মঞ্চ পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে। ফিফা সভাপতির মতো একজন ব্যক্তিত্বের নজরে আসা বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য গর্বের বিষয়।
সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ইভন বলেন, নেইমারের লাইক থেকে শুরু করে আজ ফিফা সভাপতির পোস্ট এসবই প্রমাণ করে বাংলাদেশের ফুটবল সংস্কৃতি কতটা প্রাণবন্ত। ফুটবলই আজ বিশ্বদরবারে বাংলাদেশ ও ড্যাফোডিলকে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে। আমরা চাই, একদিন বিশ্বের সেরা ফুটবলাররাও বাংলাদেশের সমর্থকদের এই ভালোবাসার কথা জানুক।
ফিফা সভাপতির ইনস্টাগ্রামে ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীদের উল্লাসের ভিডিও স্থান পাওয়াকে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য একটি গর্বের মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন। তাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের এই আবেগ, ভালোবাসা ও সমর্থনের গল্প আরও বড় পরিসরে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
























