পুরান ঢাকায় দর্জি বিশ্বজিৎ দাস হত্যাকাণ্ডের ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও চূড়ান্ত বিচার সম্পন্ন হয়নি। উচ্চ আদালতে মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার। বিশ্বজিতের বড় ভাই উত্তম দাস বলছেন, প্রকাশ্য দিবালোকে হওয়া একটি নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার এত বছরেও শেষ না হওয়াটা তাদের জন্য অসহনীয় কষ্টের।
২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর বাহাদুর শাহ পার্কের সামনে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় বিশ্বজিৎকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। সে সময় তিনি নিজের দোকান থেকে বের হয়ে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পরবর্তীতে মামলা দায়ের করা হয় এবং তদন্ত শেষে ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
২০১৩ সালে বিচারিক আদালতের রায়ে আটজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে হাইকোর্টে আপিলে সেই রায় আংশিক পরিবর্তন হয়—কয়েকজনের সাজা কমে এবং কেউ কেউ খালাসও পান। বর্তমানে মামলাটি আপিল বিভাগের শুনানিতে রয়েছে।
নিহত বিশ্বজিতের বাবা অনন্ত দাস এখনো ছেলের বিচার দেখার আশায় দিন কাটাচ্ছেন। তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে মামলাটি আদালতে আটকে থাকলেও এখনো তিনি শেষ রায়ের অপেক্ষায় আছেন। তাঁর ভাষায়, “ছেলের বিচার দেখার আশাতেই এখনো বেঁচে আছি।”
পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও আইনি দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক আসামি জামিনে মুক্ত হয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এতে তারা আরও নিরাপত্তাহীনতা ও মানসিক চাপে ভুগছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আলোচিত এ মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। অপরদিকে নতুন করে মামলাগুলোকে সক্রিয়ভাবে বিচারের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে।
দীর্ঘ ১৩ বছরেও বিচার শেষ না হওয়ায় বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ড আজও ন্যায়বিচারের এক বেদনাবিধুর প্রতীক হয়ে রয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার 





















