নেত্রকোনার মদনে মোটরসাইকেল চুরির সংবাদ প্রকাশের জেরে দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি নিজাম উদ্দিনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বহিষ্কৃত এক যুবদল নেতার বিষয়ে অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মদন পৌর সদরের নতুন বাজারে এ হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ওই রাতেই মদন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
অভিযুক্ত হামলাকারী শামসুল হক চ্যাম্পিয়ন চানগাঁও ঠাকুরবাড়ির মৃত আব্দুস সোবানের ছেলে। হামলার শিকার সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন তালুকদার দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার মদন উপজেলা প্রতিনিধি এবং মদন উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি এক জানাজার নামাজ থেকে অভিযুক্ত শামসুল হক চ্যাম্পিয়নের একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে। চুরির সাথে এক বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা জড়িত থাকায় বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে কয়েকটি নিউজে শামসুল হকের দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি উল্লেখ করায় তিনি ক্ষিপ্ত হন।
শনিবার সন্ধ্যায় শামসুল হক ফোনে সাংবাদিক নিজাম তালুকদারকে নতুন বাজারে দেখা করতে বলেন। নিজাম উদ্দিন সেখানে উপস্থিত হওয়া মাত্রই শামসুল হক তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে ‘তুই আমার বিরুদ্ধে চাল চুরির নিউজ করাইছোস, এখন আবার আমার নামে উল্টাপাল্টা নিউজ করাইছিস’ বলে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে আক্রমণ চালান। পরবর্তীতে উপস্থিত স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে নিজাম উদ্দিনকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। এ ঘটনার পর রাতেই নিজাম উদ্দিন নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি দায়ের করেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন বলেন, “শামসুল হক চ্যাম্পিয়ন এর আগে চাল চোরাকারবারের দায়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং সে সময় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তখন থেকেই তিনি আমার ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন। শনিবার সন্ধ্যায় দেখা করার কথা বলে ডেকে এনে তিনি অতর্কিত আমার ওপর হামলা চালান।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শামসুল হক চ্যাম্পিয়ন জানান, “আমি এই বিষয়ে কিছু জানি না। কোনো সাংবাদিকের সাথে আমার কোনো ঝামেলা হয়নি।”
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দীন করিম জানান, “এ ঘটনায় মদন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি 



















