০৭:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মদনে ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলে হয়রানির শিকার গ্রাহকরা

 

নেত্রকোনার মদনে পল্লী বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিলের কারণে প্রায়ই হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকরা। অনেককেই আবার গুনতে হচ্ছে জরিমানা। এদিকে গ্রাহকরা বিলের কাগজ সঙ্গে নিয়ে জরুরি কাজ ফেলে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে অভিযোগ করছেন। কিন্তু এতে কোনো সুফল পাচ্ছেন না তারা।

 

ভুতুড়ে বিল নিয়ে আসা একজন গ্রাহক তিয়শ্রী ইউনিয়নের বৈঠাখালী গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে সানাজুল ইসলাম। তার আবাসিক মিটারে জুলাই মাসের বিল এসেছিল ৬শ টাকা, কিন্তু আগস্ট মাসে বিল এসেছে ১৮ হাজার ৫০০ টাকা। একই গ্রামের ওয়াজেদ মিয়ার ছেলে শমশের আলীর জুলাই মাসের বিল আসে ৫১৩ টাকা, আগস্ট মাসে হয়ে যায় ৭ হাজার ৯৮২ টাকা।

 

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী গ্রাহক শমশের মিয়া, সানাজুল ইসলাম ও গোলাম রসুল খান বলেন, “আমার নামের মিটারে আমি নিয়মিত বিল পরিশোধ করে থাকি। আগস্ট মাসের বিল দেখে হতবাক হয়েছি। এ রকম ভুল তারা কীভাবে করতে পারে? তবে আমরা বাড়ির কাজ কর্ম ফেলে আজ বুধবার উপজেলা অফিসে ডিজিএম স্যারের কাছে এসেছি। এসে স্যারকে পাইনি। অফিসের লোকজন বলছেন এ ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ দেয়ার জন্য।”

 

শুধু শমশের মিয়া, সানাজুল ইসলাম ও গোলাম রসুল খান নন, সম্প্রতি এভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন মদন উপজেলার আরও অনেক সাধারণ গ্রাহক। ফলে পল্লী বিদ্যুতের দায়িত্বশীল কর্মচারীদের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

 

মিটার রিডার কাম মেসেঞ্জার রাদিন বলেন, “ইউনিটে যা ছিল তাই আমি নিয়ে এসেছি। এতে আমার কোনো ভুল ছিল না।”

 

এ বিষয়ে নেত্রকোনার মদন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম মোঃ নাজমূল হক খান বলেন, “ডিজিএম স্যার ছুটিতে আছেন। এ বিষয়টি মূলত স্যারই দেখেন। আমি দেখি কোনো মিটারের ত্রুটি আছে কিনা, কোনো সংযোগে সমস্যা হয়েছে কিনা। যারা এ বিষয়ে অভিযোগ নিয়ে এসেছেন তাদের বলেছি অভিযোগ জমা দিয়ে যেতে। স্যার আসলে বিষয়টি মিটার যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে।”

 

ভুতুড়ে বিল আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, “আসলে যারা রিডিং লিখে আনেন তারা হয়ত কোনো ডিজিট ভুল করে বেশি লিখে ফেলেছেন, সেজন্য বিল বেশি এসেছে। তবে যে কোনো সমস্যা আমাদের জানালে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করব।”

 

নেত্রকোনার মদন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মোঃ রফিকুল ইসলাম মোবাইল ফোনে জানান, “আমি ছুটিতে আছি। তবে এমন অভিযোগ থাকলে তদন্ত করে সংশোধনের ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

 

এ বিষয়ে নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুতের জিএম আকরাম হোসেন বলেন, “বিদ্যুতের মিটারের রিডিং যদি সঠিক থাকে তাহলে আমাদের করার কিছু নেই। আর রিডিংয়ে কোনো সমস্যা থাকলে তা তদন্ত করে দেখা হবে।”

 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার অলিদুজ্জামান বলেন, “এমন অভিযোগ থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

প্রয়োজনে বিমান টিকিট দেব, তবুও দেশে আসুন: হাসিনাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় হিফজ প্রতিযোগিতায় দেশসেরা দুই হাফেজ, নকলায় রাজকীয় সংবর্ধনা

06 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

মদনে ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলে হয়রানির শিকার গ্রাহকরা

পোষ্টের সময় : ০২:৩৯:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫

 

নেত্রকোনার মদনে পল্লী বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিলের কারণে প্রায়ই হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকরা। অনেককেই আবার গুনতে হচ্ছে জরিমানা। এদিকে গ্রাহকরা বিলের কাগজ সঙ্গে নিয়ে জরুরি কাজ ফেলে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে অভিযোগ করছেন। কিন্তু এতে কোনো সুফল পাচ্ছেন না তারা।

 

ভুতুড়ে বিল নিয়ে আসা একজন গ্রাহক তিয়শ্রী ইউনিয়নের বৈঠাখালী গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে সানাজুল ইসলাম। তার আবাসিক মিটারে জুলাই মাসের বিল এসেছিল ৬শ টাকা, কিন্তু আগস্ট মাসে বিল এসেছে ১৮ হাজার ৫০০ টাকা। একই গ্রামের ওয়াজেদ মিয়ার ছেলে শমশের আলীর জুলাই মাসের বিল আসে ৫১৩ টাকা, আগস্ট মাসে হয়ে যায় ৭ হাজার ৯৮২ টাকা।

 

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী গ্রাহক শমশের মিয়া, সানাজুল ইসলাম ও গোলাম রসুল খান বলেন, “আমার নামের মিটারে আমি নিয়মিত বিল পরিশোধ করে থাকি। আগস্ট মাসের বিল দেখে হতবাক হয়েছি। এ রকম ভুল তারা কীভাবে করতে পারে? তবে আমরা বাড়ির কাজ কর্ম ফেলে আজ বুধবার উপজেলা অফিসে ডিজিএম স্যারের কাছে এসেছি। এসে স্যারকে পাইনি। অফিসের লোকজন বলছেন এ ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ দেয়ার জন্য।”

 

শুধু শমশের মিয়া, সানাজুল ইসলাম ও গোলাম রসুল খান নন, সম্প্রতি এভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন মদন উপজেলার আরও অনেক সাধারণ গ্রাহক। ফলে পল্লী বিদ্যুতের দায়িত্বশীল কর্মচারীদের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

 

মিটার রিডার কাম মেসেঞ্জার রাদিন বলেন, “ইউনিটে যা ছিল তাই আমি নিয়ে এসেছি। এতে আমার কোনো ভুল ছিল না।”

 

এ বিষয়ে নেত্রকোনার মদন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম মোঃ নাজমূল হক খান বলেন, “ডিজিএম স্যার ছুটিতে আছেন। এ বিষয়টি মূলত স্যারই দেখেন। আমি দেখি কোনো মিটারের ত্রুটি আছে কিনা, কোনো সংযোগে সমস্যা হয়েছে কিনা। যারা এ বিষয়ে অভিযোগ নিয়ে এসেছেন তাদের বলেছি অভিযোগ জমা দিয়ে যেতে। স্যার আসলে বিষয়টি মিটার যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে।”

 

ভুতুড়ে বিল আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, “আসলে যারা রিডিং লিখে আনেন তারা হয়ত কোনো ডিজিট ভুল করে বেশি লিখে ফেলেছেন, সেজন্য বিল বেশি এসেছে। তবে যে কোনো সমস্যা আমাদের জানালে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করব।”

 

নেত্রকোনার মদন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মোঃ রফিকুল ইসলাম মোবাইল ফোনে জানান, “আমি ছুটিতে আছি। তবে এমন অভিযোগ থাকলে তদন্ত করে সংশোধনের ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

 

এ বিষয়ে নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুতের জিএম আকরাম হোসেন বলেন, “বিদ্যুতের মিটারের রিডিং যদি সঠিক থাকে তাহলে আমাদের করার কিছু নেই। আর রিডিংয়ে কোনো সমস্যা থাকলে তা তদন্ত করে দেখা হবে।”

 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার অলিদুজ্জামান বলেন, “এমন অভিযোগ থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

 

Share this news as a Photo Card