নেত্রকোনার মদনে মসজিদের জমি নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শনিবার রাতে এক পক্ষের গেনেদা আক্তার ও অপর পক্ষের রুমান মিয়া মদন থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন— শাহেদ, জাকারিয়া, গেনেদা, আমিরুল, মানিক ও রাজন। তাঁরা সবাই মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর আগে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) উপজেলার গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের পদমশ্রী গ্রামের মনিকা পশ্চিমপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের পদমশ্রী গ্রামের মনিকা পশ্চিমপাড়ার শাহেদ মিয়ার স্ত্রী গেনেদা আক্তার গ্রাম্য মসজিদের জমি ইজারা ডাকের মাধ্যমে জমা রাখেন। ওই জমির ডাকে প্রতিপক্ষ শাহান তালুকদারও অংশ নিয়েছিলেন। তবে গেনেদা আক্তার ও তাঁর পরিবার সর্বোচ্চ ডাক দিয়ে জমিটি পান। এতে ক্ষিপ্ত হন শাহান তালুকদার।
এরই জেরে শুক্রবার গেনেদার ছোট ছেলে শাহাবুলকে বাড়ির পাশের একটি মুদি দোকানে পেয়ে শাহান তালুকদার ও তাঁর দলবল অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে তাঁরা গেনেদার বাড়িতে গিয়ে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেন। এ সময় উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে অন্তত ছয়জন আহত হন।
এ বিষয়ে প্রতিপক্ষের আসাদুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “গেনেদা আক্তার খুবই খারাপ প্রকৃতির লোক। তাঁরা নিজেরা হাত-পা কেটে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করে। থানায় দেওয়া তাদের অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাদের পক্ষ থেকে রুমান মিয়া থানায় সঠিক বিচার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।”
অন্যদিকে গেনেদা আক্তার বলেন, “তারা এলাকার প্রভাবশালী, তাদের ভয়ে কেউ কথা বলতে পারে না। আমরা খুবই গরিব মানুষ। মসজিদের জমি কেন আমরা বেশি মূল্যে জমা রেখেছি—এই আক্রোশে তারা প্রথমে আমার ছোট ছেলে শাহাবুলকে মারধর করে এবং পরে বাড়িতে এসে হামলা-ভাঙচুর চালায়। এতে আমাদের চারজন আহত হয়েছি। আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।”
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন করিম জানান, এ ঘটনায় দুটি পৃথক লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি 



















