০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মদনে সেচ পাম্প দিয়ে বোরো জমির পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা, অতিবৃষ্টিতে ডুবল কৃষকের স্বপ্ন 

 

নেত্রকোনার মদনে পাহাড়ি ঢল আর অতি বৃষ্টিতে ডুবল কৃষকের স্বপ্ন। তবে ধান কাটার মৌসুমের শুরুতেই নানাভাবে সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট হয়েছে জলাবদ্ধতা। শিলা বৃষ্টিতেও ক্ষতি হয়ে গেছে কয়েক একর জমি। যুক্ত হয়েছে অকাল বন্যার শঙ্কা। এরই মধ্যে জলাবদ্ধ জমি উদ্ধারে সেচ পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন কৃষকরা।

 

এ ব্যাপারে কৃষকরা জানান, নানা শঙ্কা মাথায় নিয়ে পাকা ও আধা পাকা ধান কাটছেন তাঁরা। হাওরে বিশেষ করে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা থাকায় অনেক স্থানে কম্বাইন হারভেস্টার চালানো যাচ্ছে না। আবার এখনো সব হাওরে ধান পাকেনি। এবার মৌসুমের শুরুতেই বৃষ্টি না হওয়ায় ধান পাকতে সময় নিয়েছে বেশি। নানামুখী সংকটে থাকায় হাওরের কৃষকরা অধিকমূল্য দিয়েও শ্রমিক পাচ্ছেন না। শ্রমিক সংকটে ভুগছেন তারা। এতে অনেক জমি পানির নিচেই পড়ে রয়েছে। আবার কেউ কেউ একবারে জমিতে কোন কাঁচি লাগাতে পারেনি। যে সকল ধান সংগ্রহ করেছিল তাও ধানের মূল্য কম থাকায় বিক্রি করতে পারছেন না। বিক্রির আশায় হাওরে ধান রাখায় ধানে গজ ধরেছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার মদন উপজেলায় বোরো ধানের আবাদ হয়েছে ১৭ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে। তবে এবার অকাল বন্যা, শিলা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ২৩২ হেক্টর জমি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে কৃষকরা বলছেন এর দ্বিগুণ ক্ষতি হয়েছে।

 

মদন উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের দেওসহিলা গ্রামের তলার হাওরের কৃষক জয়কুল ইসলাম জানান, আমি ৫ একর বোরো জমি রোপন করেছিলাম। আমার তিন একরই বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে। দুই একর মাথা ভাসা রয়েছে। আমার জমির সাথে আরও কয়েকশত একর জমি বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা রয়েছে তাই আমরা ১৬টি শ্যালু মেশিন দিয়ে ১৩ দিন যাবত রাত দিন জমি থেকে পানি সরানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি আমরা। দেখি বেড়ি বাঁধের ভিতরের যে জমিগুলো রয়েছে তা কাটতে পারি কি না। তবে ডিজেলের মূল্য বেশি থাকায় এ ব্যাপারে তারা সরকারের সহযোগিতা কামনা করছেন।

 

এদিকে তিয়শ্রী ইউনিয়নের বাঘমারা গ্রামের কৃষক রুকন মিয়া জানান, আমি তিন একর জমি রোপন করেছিলাম। দুই একরেই জলাবদ্ধতার কারণে জমিতে কাঁচি লাগাতে পারলাম না। কিভাবে সামনের দিনগুলো যাবে তা বুঝে উঠতে পারছি না।

 

উপজেলার পৌর সদরের কৃষক আল মাহবোব আলম আল আমিন বলেন, হাওরের কৃষকরা এক দশক ধরে ধান কাটায় অনেকটা যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল। তাই শ্রমিক কম। কিন্তু এবার হাওরে পানি থাকায় শ্রমিকের দরকার পড়েছে। শ্রমিক পাওয়াই এখন বড় সমস্যা। একজন শ্রমিক ১২ শত টাকা দিয়েও পাওয়া যায় না।

 

মদন উপজেলার কৃষি অফিসার মো: মাহমুদুল হাসান জানান, হাওরের নিচু জমি ৭৫ পারসেন কাটা সম্ভব হয়েছে। উঁচু জমি কাটা হয়েছে ৩৩ পারসেন। এবার উপজেলায় ১৭ হাজার ৬৫০ হেক্টর বোরো জমি আবাদ হয়। তবে পাহাড়ী ঢল, অকাল বন্যা, বৃষ্টির পানির জলাবদ্ধতায় ও শিলা বৃষ্টিতে প্রায় ২৩৩ হেক্টর বোরো জমি ক্ষতি হয়েছে। তবে আবহাওয়া ভাল থাকলে বাকি জমি গুলো ভালভাবেই কাটা সম্ভব হবে।

 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার বেদবতী মিস্ত্রী জানান, মগড়া নদীর পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া কিছু জমিতে এখনো জলাবদ্ধতা রয়েছে। তবে আমি শুনেছি দেওসহিলা হাওরে বৃষ্টির পানি শ্যালু মেশিন দিয়ে সড়ানোর চেষ্টা করছে। এখানে আমি কৃষি অফিসারকে পাঠাব। তবে কৃষকদের এ ব্যাপারে কোন সহযোগিতা করা যায় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে কোন নির্দেশনা আসেনি।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

প্রয়োজনে বিমান টিকিট দেব, তবুও দেশে আসুন: হাসিনাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় হিফজ প্রতিযোগিতায় দেশসেরা দুই হাফেজ, নকলায় রাজকীয় সংবর্ধনা

06 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

মদনে সেচ পাম্প দিয়ে বোরো জমির পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা, অতিবৃষ্টিতে ডুবল কৃষকের স্বপ্ন 

পোষ্টের সময় : ০৪:৫৩:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

 

নেত্রকোনার মদনে পাহাড়ি ঢল আর অতি বৃষ্টিতে ডুবল কৃষকের স্বপ্ন। তবে ধান কাটার মৌসুমের শুরুতেই নানাভাবে সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট হয়েছে জলাবদ্ধতা। শিলা বৃষ্টিতেও ক্ষতি হয়ে গেছে কয়েক একর জমি। যুক্ত হয়েছে অকাল বন্যার শঙ্কা। এরই মধ্যে জলাবদ্ধ জমি উদ্ধারে সেচ পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন কৃষকরা।

 

এ ব্যাপারে কৃষকরা জানান, নানা শঙ্কা মাথায় নিয়ে পাকা ও আধা পাকা ধান কাটছেন তাঁরা। হাওরে বিশেষ করে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা থাকায় অনেক স্থানে কম্বাইন হারভেস্টার চালানো যাচ্ছে না। আবার এখনো সব হাওরে ধান পাকেনি। এবার মৌসুমের শুরুতেই বৃষ্টি না হওয়ায় ধান পাকতে সময় নিয়েছে বেশি। নানামুখী সংকটে থাকায় হাওরের কৃষকরা অধিকমূল্য দিয়েও শ্রমিক পাচ্ছেন না। শ্রমিক সংকটে ভুগছেন তারা। এতে অনেক জমি পানির নিচেই পড়ে রয়েছে। আবার কেউ কেউ একবারে জমিতে কোন কাঁচি লাগাতে পারেনি। যে সকল ধান সংগ্রহ করেছিল তাও ধানের মূল্য কম থাকায় বিক্রি করতে পারছেন না। বিক্রির আশায় হাওরে ধান রাখায় ধানে গজ ধরেছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার মদন উপজেলায় বোরো ধানের আবাদ হয়েছে ১৭ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে। তবে এবার অকাল বন্যা, শিলা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ২৩২ হেক্টর জমি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে কৃষকরা বলছেন এর দ্বিগুণ ক্ষতি হয়েছে।

 

মদন উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের দেওসহিলা গ্রামের তলার হাওরের কৃষক জয়কুল ইসলাম জানান, আমি ৫ একর বোরো জমি রোপন করেছিলাম। আমার তিন একরই বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে। দুই একর মাথা ভাসা রয়েছে। আমার জমির সাথে আরও কয়েকশত একর জমি বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা রয়েছে তাই আমরা ১৬টি শ্যালু মেশিন দিয়ে ১৩ দিন যাবত রাত দিন জমি থেকে পানি সরানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি আমরা। দেখি বেড়ি বাঁধের ভিতরের যে জমিগুলো রয়েছে তা কাটতে পারি কি না। তবে ডিজেলের মূল্য বেশি থাকায় এ ব্যাপারে তারা সরকারের সহযোগিতা কামনা করছেন।

 

এদিকে তিয়শ্রী ইউনিয়নের বাঘমারা গ্রামের কৃষক রুকন মিয়া জানান, আমি তিন একর জমি রোপন করেছিলাম। দুই একরেই জলাবদ্ধতার কারণে জমিতে কাঁচি লাগাতে পারলাম না। কিভাবে সামনের দিনগুলো যাবে তা বুঝে উঠতে পারছি না।

 

উপজেলার পৌর সদরের কৃষক আল মাহবোব আলম আল আমিন বলেন, হাওরের কৃষকরা এক দশক ধরে ধান কাটায় অনেকটা যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল। তাই শ্রমিক কম। কিন্তু এবার হাওরে পানি থাকায় শ্রমিকের দরকার পড়েছে। শ্রমিক পাওয়াই এখন বড় সমস্যা। একজন শ্রমিক ১২ শত টাকা দিয়েও পাওয়া যায় না।

 

মদন উপজেলার কৃষি অফিসার মো: মাহমুদুল হাসান জানান, হাওরের নিচু জমি ৭৫ পারসেন কাটা সম্ভব হয়েছে। উঁচু জমি কাটা হয়েছে ৩৩ পারসেন। এবার উপজেলায় ১৭ হাজার ৬৫০ হেক্টর বোরো জমি আবাদ হয়। তবে পাহাড়ী ঢল, অকাল বন্যা, বৃষ্টির পানির জলাবদ্ধতায় ও শিলা বৃষ্টিতে প্রায় ২৩৩ হেক্টর বোরো জমি ক্ষতি হয়েছে। তবে আবহাওয়া ভাল থাকলে বাকি জমি গুলো ভালভাবেই কাটা সম্ভব হবে।

 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার বেদবতী মিস্ত্রী জানান, মগড়া নদীর পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া কিছু জমিতে এখনো জলাবদ্ধতা রয়েছে। তবে আমি শুনেছি দেওসহিলা হাওরে বৃষ্টির পানি শ্যালু মেশিন দিয়ে সড়ানোর চেষ্টা করছে। এখানে আমি কৃষি অফিসারকে পাঠাব। তবে কৃষকদের এ ব্যাপারে কোন সহযোগিতা করা যায় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে কোন নির্দেশনা আসেনি।

 

Share this news as a Photo Card