০৩:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মদনে স্বামীর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগ

 

নেত্রকোনার মদনে স্বামী জহিরুল ইসলামসহ তার ভাইদের বিরুদ্ধে নূরুন্নাহার নামে এক নারী নির্যাতনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মদন থানায়। এদিকে নূরুনাহারকে এক কাজীর মাধ্যমে তালাক নোটিশ দেখিয়ে পরিবার থেকে বাহির করার পয়তারা করছেন বলেও তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোবিন্দশ্রী বড্ডা গ্রামের মৃত ফজলুল করিমের ছেলে জহিরুল ইসলাম । বিগত ১৭ বছর পূর্বে ভালবেসে ভৈরব থেকে ইসলামিক শরিয়াহ মোতাবেক নূরুন্নাহার বিবাহ করে। তাদের সংসার ভালই চলছিল। ১৪ বছরের একটি কন্যা সন্তানও তাদের রয়েছে। এদিকে জহিরুলকে নূরুন্নাহার তার বাবার বাড়ি থেকে ওয়ারিশান বাবদ প্রায় ২৫ লাখ টাকা বাড়ি ,গরু ও জমি করার জন্য এনে দেয়। এই টাকা পেয়েই জহিরুল পাল্টে যায়। এমনকি পরকীয়ায় লিপ্ত হয়। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার ইউনিয়ন পরিষদ এমনকি থানায়ও সালিশ বৈঠক হয়। সালিশ বৈঠকে জহিরুল নিজ অপরাধ স্বীকার করে পূনরায় সংসার চালাতে থাকে। পরে গোপনে জহিরুল ইসলাম মদন পৌরসভার জাহাঙ্গীরপুর পশ্চিমপাড়ার হোসাইন নামে এক মাদ্রাসার শিক্ষক কাজীর মাধ্যমে তিনটি নোটিশ দিয়ে তালাক দিয়েছে বলে এলাকায় প্রচার প্রচারণা চালায়। বিষয়টি জানাজানি হলে ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ইং তারিখে নূরুন্নাহার এ নিয়ে স্বামী জহিরুলের সাথে প্রতিবাদ করে। এতেই জহিরুল ও তার ভাইয়েরা ও ভাই বউ ক্ষিপ্ত হয়ে মারপিট শুরু করে। পরে আহত অবস্থায় তাকে প্রতিবেশীরা মদন হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসার শেষে বাড়িতে গেলে তর কোন বাড়ি নেই,ঘর নেই বলে জোরপূর্বক ঘর থেকে বের হওয়ার জন্য জহিরুলও তার ভাইয়ের চাপ প্রয়োগ করে। অভিযোগে তিনি আরও উল্লেখ করেন তার ভাসুরের নিকট থেকে দীর্ঘদিন হল জমি ক্রয় করা হলেও এখনও দলিল করে দিচ্ছে না। এমনকি দলিলের কথা বললে তাকে মারধর করে এবং বাড়ি থেকে বের করে দিতে চায়। চার বছর যাবত তার স্বামী কোন বরণ পোষণ করে না। তার সন্তানকে পর্যন্ত দেখা শোনা করে না। এ নিয়ে নিরুপায় হয়ে নূরুন্নাহার জহিরুলসহ চার জনের নাম উল্লেখ করে মদন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

 

স্বামী জহিরুল ইসলাম জানান, আমি তাকে তালাক দিয়েছি। এই দেখেন কাগজপত্র। টাকা নিয়ে ঘর করছেন,গরু কিনছেন এমনকি জমি কিনছেন এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, আমি নিজে পরিশ্রম করে এ টাকা আয় করেছি। সে সব মিথ্যা বলছে।

 

মদন পৌর সভার কাজী ও মাদ্রাসার শিক্ষক কাজী হোসাইন আহমেদ জানান, আমি আইন অনুযায়ী কাজ করেছি।

 

মদন থানার ওসি হাসনাত জামান জামান, এই অভিযোগের আগে তাদের নিয়ে একবার থানায় বসা হয়েছি। বিষয়টি মিমাংসা করে ছিলাম। এখন আবার অভিযোগ দিয়েছে মামলা হবে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

প্রয়োজনে বিমান টিকিট দেব, তবুও দেশে আসুন: হাসিনাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় হিফজ প্রতিযোগিতায় দেশসেরা দুই হাফেজ, নকলায় রাজকীয় সংবর্ধনা

06 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

মদনে স্বামীর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগ

পোষ্টের সময় : ০২:৩১:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

 

নেত্রকোনার মদনে স্বামী জহিরুল ইসলামসহ তার ভাইদের বিরুদ্ধে নূরুন্নাহার নামে এক নারী নির্যাতনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মদন থানায়। এদিকে নূরুনাহারকে এক কাজীর মাধ্যমে তালাক নোটিশ দেখিয়ে পরিবার থেকে বাহির করার পয়তারা করছেন বলেও তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোবিন্দশ্রী বড্ডা গ্রামের মৃত ফজলুল করিমের ছেলে জহিরুল ইসলাম । বিগত ১৭ বছর পূর্বে ভালবেসে ভৈরব থেকে ইসলামিক শরিয়াহ মোতাবেক নূরুন্নাহার বিবাহ করে। তাদের সংসার ভালই চলছিল। ১৪ বছরের একটি কন্যা সন্তানও তাদের রয়েছে। এদিকে জহিরুলকে নূরুন্নাহার তার বাবার বাড়ি থেকে ওয়ারিশান বাবদ প্রায় ২৫ লাখ টাকা বাড়ি ,গরু ও জমি করার জন্য এনে দেয়। এই টাকা পেয়েই জহিরুল পাল্টে যায়। এমনকি পরকীয়ায় লিপ্ত হয়। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার ইউনিয়ন পরিষদ এমনকি থানায়ও সালিশ বৈঠক হয়। সালিশ বৈঠকে জহিরুল নিজ অপরাধ স্বীকার করে পূনরায় সংসার চালাতে থাকে। পরে গোপনে জহিরুল ইসলাম মদন পৌরসভার জাহাঙ্গীরপুর পশ্চিমপাড়ার হোসাইন নামে এক মাদ্রাসার শিক্ষক কাজীর মাধ্যমে তিনটি নোটিশ দিয়ে তালাক দিয়েছে বলে এলাকায় প্রচার প্রচারণা চালায়। বিষয়টি জানাজানি হলে ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ইং তারিখে নূরুন্নাহার এ নিয়ে স্বামী জহিরুলের সাথে প্রতিবাদ করে। এতেই জহিরুল ও তার ভাইয়েরা ও ভাই বউ ক্ষিপ্ত হয়ে মারপিট শুরু করে। পরে আহত অবস্থায় তাকে প্রতিবেশীরা মদন হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসার শেষে বাড়িতে গেলে তর কোন বাড়ি নেই,ঘর নেই বলে জোরপূর্বক ঘর থেকে বের হওয়ার জন্য জহিরুলও তার ভাইয়ের চাপ প্রয়োগ করে। অভিযোগে তিনি আরও উল্লেখ করেন তার ভাসুরের নিকট থেকে দীর্ঘদিন হল জমি ক্রয় করা হলেও এখনও দলিল করে দিচ্ছে না। এমনকি দলিলের কথা বললে তাকে মারধর করে এবং বাড়ি থেকে বের করে দিতে চায়। চার বছর যাবত তার স্বামী কোন বরণ পোষণ করে না। তার সন্তানকে পর্যন্ত দেখা শোনা করে না। এ নিয়ে নিরুপায় হয়ে নূরুন্নাহার জহিরুলসহ চার জনের নাম উল্লেখ করে মদন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

 

স্বামী জহিরুল ইসলাম জানান, আমি তাকে তালাক দিয়েছি। এই দেখেন কাগজপত্র। টাকা নিয়ে ঘর করছেন,গরু কিনছেন এমনকি জমি কিনছেন এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, আমি নিজে পরিশ্রম করে এ টাকা আয় করেছি। সে সব মিথ্যা বলছে।

 

মদন পৌর সভার কাজী ও মাদ্রাসার শিক্ষক কাজী হোসাইন আহমেদ জানান, আমি আইন অনুযায়ী কাজ করেছি।

 

মদন থানার ওসি হাসনাত জামান জামান, এই অভিযোগের আগে তাদের নিয়ে একবার থানায় বসা হয়েছি। বিষয়টি মিমাংসা করে ছিলাম। এখন আবার অভিযোগ দিয়েছে মামলা হবে।

 

Share this news as a Photo Card