০৯:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই গ্রামের সংঘর্ষ, আহত ২০

 

ময়মনসিংহের নান্দাইলে বিদেশ পাঠানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মাইকে ঘোষণা করে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের পাঁচরুখি বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এতে দুই গ্রামের ২০ জন আহত হয়েছে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।

 

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের লংগারপাড় এলাকার শামছুল ইসলামের পুত্র রবিন মিয়া কে গত ৪ মাস আগে সৌদি আরবে পাঠান পাঁচরুখি গ্রামের বাচ্চু মিয়া। প্রবাসে গিয়ে সুবিধা না পেয়ে বাড়িতে জানালে তার পরিবার স্থানীয় সোহেল ভেন্ডারের দ্বারস্থ হলে তিনি এ বিষয়ে ফয়সালার আশ্বাস দেন। এক পর্যায়ে বাচ্চু মিয়ার সঙ্গে কথা হলে গতকাল শনিবার সালিশ দরবারের আয়োজন করে। কিন্তু সালিশের দরবারের আগেই স্থানীয় ইউপি সদস্য মাসহুদ পারভেজ ও সোহেল ভেন্ডারের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠি সোঁটা নিয়ে বাচ্চু মিয়ার বাড়িতে হামলা করে। এতে বাড়িঘর ও দোকান পাট ভাঙচুর করা হয়৷ এঘটনায় দু’পক্ষের ২০ জনের মতো আহত হন।

 

রবিবার সকালে দিকে আবারও পাঁচরুখি ও শেরপুর দুই গ্রামের মধ্যে মাইকিং করে সংঘর্ষের ঘোষণা দেন। দুপক্ষের শত শত লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও লাটি সোঁটা নিয়ে পাঁচরুখি বাজার ও শেরপুর দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে অবস্থান নেন। এতে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনে। এক পর্যায়ে সেনাবাহিনীর লাটি চার্জ করলে উত্তেজিত জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল মারে।

 

বাচ্চু মিয়া বলেন- আমি যাকে বিদেশ পাঠিয়েছি তার কোনো অভিযোগ নেই। সোহেল ভেন্ডার আমার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছিল। দেয়নি দেখে সোহেল ভেন্ডার ও মাসহুদ পারভেজ আমার বাড়িঘর ও দোকানে হামলা ও লুটপার করে। বাড়িতে থাকা নারীদের কেউ মারধর করেছে।

 

সোহেল ভেন্ডার বলেন – আমি এলাকায় সালিশ দরবার করি। বাচ্চু এক ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়ে সুবিধা দিচ্ছে না বলে অভিযোগ পেয়ে ফয়সালা করতে গিয়েছিলাম পরে তারা আমাকে মারধর করেছে। এতে আমার এলাকার লোকজন তার বাড়িতে হামলা করেছে।

 

নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল আমিন বলেন- খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

 

সেনাবাহিনীর দায়িত্বরত ওয়ারেন্ট অফিসার মো. মোর্শেদ বলেন- আমরা ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে এক পক্ষ কে শান্ত করে অন্য পক্ষকে শান্ত করতে গেলে লোকজন দৌড়াদৌড়ি শুরু করে, অনেকেই মাটিতে পড়ে যায় । সেখানে কোনও লাঠিচার্জ করা হয়নি, উত্তেজিত জনতা ভাবছে লাঠিচার্জ করা হয়েছে এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারাও ইটপাটকেল মারা শুরু করে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

প্রয়োজনে বিমান টিকিট দেব, তবুও দেশে আসুন: হাসিনাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় হিফজ প্রতিযোগিতায় দেশসেরা দুই হাফেজ, নকলায় রাজকীয় সংবর্ধনা

06 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই গ্রামের সংঘর্ষ, আহত ২০

পোষ্টের সময় : ০৬:৫৪:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

 

ময়মনসিংহের নান্দাইলে বিদেশ পাঠানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মাইকে ঘোষণা করে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের পাঁচরুখি বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এতে দুই গ্রামের ২০ জন আহত হয়েছে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।

 

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের লংগারপাড় এলাকার শামছুল ইসলামের পুত্র রবিন মিয়া কে গত ৪ মাস আগে সৌদি আরবে পাঠান পাঁচরুখি গ্রামের বাচ্চু মিয়া। প্রবাসে গিয়ে সুবিধা না পেয়ে বাড়িতে জানালে তার পরিবার স্থানীয় সোহেল ভেন্ডারের দ্বারস্থ হলে তিনি এ বিষয়ে ফয়সালার আশ্বাস দেন। এক পর্যায়ে বাচ্চু মিয়ার সঙ্গে কথা হলে গতকাল শনিবার সালিশ দরবারের আয়োজন করে। কিন্তু সালিশের দরবারের আগেই স্থানীয় ইউপি সদস্য মাসহুদ পারভেজ ও সোহেল ভেন্ডারের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠি সোঁটা নিয়ে বাচ্চু মিয়ার বাড়িতে হামলা করে। এতে বাড়িঘর ও দোকান পাট ভাঙচুর করা হয়৷ এঘটনায় দু’পক্ষের ২০ জনের মতো আহত হন।

 

রবিবার সকালে দিকে আবারও পাঁচরুখি ও শেরপুর দুই গ্রামের মধ্যে মাইকিং করে সংঘর্ষের ঘোষণা দেন। দুপক্ষের শত শত লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও লাটি সোঁটা নিয়ে পাঁচরুখি বাজার ও শেরপুর দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে অবস্থান নেন। এতে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনে। এক পর্যায়ে সেনাবাহিনীর লাটি চার্জ করলে উত্তেজিত জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল মারে।

 

বাচ্চু মিয়া বলেন- আমি যাকে বিদেশ পাঠিয়েছি তার কোনো অভিযোগ নেই। সোহেল ভেন্ডার আমার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছিল। দেয়নি দেখে সোহেল ভেন্ডার ও মাসহুদ পারভেজ আমার বাড়িঘর ও দোকানে হামলা ও লুটপার করে। বাড়িতে থাকা নারীদের কেউ মারধর করেছে।

 

সোহেল ভেন্ডার বলেন – আমি এলাকায় সালিশ দরবার করি। বাচ্চু এক ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়ে সুবিধা দিচ্ছে না বলে অভিযোগ পেয়ে ফয়সালা করতে গিয়েছিলাম পরে তারা আমাকে মারধর করেছে। এতে আমার এলাকার লোকজন তার বাড়িতে হামলা করেছে।

 

নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল আমিন বলেন- খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

 

সেনাবাহিনীর দায়িত্বরত ওয়ারেন্ট অফিসার মো. মোর্শেদ বলেন- আমরা ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে এক পক্ষ কে শান্ত করে অন্য পক্ষকে শান্ত করতে গেলে লোকজন দৌড়াদৌড়ি শুরু করে, অনেকেই মাটিতে পড়ে যায় । সেখানে কোনও লাঠিচার্জ করা হয়নি, উত্তেজিত জনতা ভাবছে লাঠিচার্জ করা হয়েছে এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারাও ইটপাটকেল মারা শুরু করে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

 

Share this news as a Photo Card