মেধা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও নিজস্ব গবেষণার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার চৌদার গ্রামের সন্তান মাহমুদুল হাসান স্বরন। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক মেন্টর, গবেষণাগার বা বড় ধরনের গবেষণা অর্থায়নের সহায়তা ছাড়াই ‘দ্য ডিজিটাল রোড মেথড’ নামে একটি গবেষণা পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ওপেন-অ্যাক্সেস একাডেমিক প্ল্যাটফর্ম SSRN ও Zenodo-তে তার গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট গবেষণা-ট্র্যাকে তিনি একক স্বাধীন গবেষক হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন।
মাহমুদুল হাসানের গবেষণাপত্রের শিরোনাম ‘The Digital Road Method: A Neutral Analysis of Structural Syntax, Modulo-9 Reduction, and Document Object Architecture in the Quranic Matrix’। গবেষণাটিতে গাণিতিক ও ভাষাতাত্ত্বিক কাঠামো, মডুলো-৯ রিডাকশন এবং ডকুমেন্ট অবজেক্ট আর্কিটেকচারের মাধ্যমে কোরআনের পাঠ্য বিশ্লেষণের একটি পদ্ধতি উপস্থাপন করা হয়েছে।
গবেষকের দাবি, তাঁর উদ্ভাবিত ‘দ্য ডিজিটাল রোড মেথড’ একটি প্রথাবিরোধী গবেষণা পদ্ধতি। এতে কোরআনের পাঠ্যকে ধর্মীয় ব্যাখ্যার পরিবর্তে কাঠামোগত ও তথ্যভিত্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তাঁর গবেষণায় কোরআনের পাঠ্যকে একটি কাঠামোবদ্ধ ‘ইঞ্জিনিয়ার্ড ডাটা ম্যাট্রিক্স’ বা হার্ডকোডেড ডেটাবেস হিসেবে বিশ্লেষণের চেষ্টা করা হয়েছে।
মাহমুদুল হাসান জানান, গবেষণার গাণিতিক ও ভাষাতাত্ত্বিক কাঠামো তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি গুগল জেমিনি ব্যবহার করেছেন তিনি। গবেষণাপত্রের স্বীকৃতি অংশে এ প্রযুক্তিগত সহায়তার বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন। গবেষণার বিভিন্ন বিশ্লেষণ ও কাঠামো তৈরিতে প্রযুক্তির সহায়তা নিলেও গবেষণাটি নিজের উদ্যোগে পরিচালনা করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
তার মতে, সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক গবেষণা-ট্র্যাকে বিশ্বজুড়ে সীমিতসংখ্যক গবেষক কাজ করছেন, যাদের অধিকাংশই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণাগার ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত। এর বাইরে কোনো ল্যাব বা প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক গবেষণা কাঠামো ছাড়াই একক স্বাধীন গবেষক হিসেবে কাজ করার কারণে তাঁর উদ্যোগটি ব্যতিক্রমী।
মাহমুদুল হাসানের শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় কেটেছে ঢাকার ঢাকা সেন্ট্রাল ল কলেজে। মফস্বল থেকে উঠে এসে সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে গবেষণায় যুক্ত হয়েছেন তিনি। নিজের স্মার্টফোন ব্যবহার করেই গবেষণার বিভিন্ন কাজ পরিচালনা করেছেন বলেও জানান তিনি।
গবেষণাটির উন্মুক্ত সোর্স ও প্রকাশিত তথ্য অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মাহমুদুল হাসান। তাঁর গবেষণাপত্রের শিরোনাম দিয়ে গুগলে সার্চ করলে সেটি খুঁজে পাওয়া যায় বলেও দাবি তাঁর।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার চৌদার গ্রামে জন্ম নেওয়া মাহমুদুল হাসানের এ উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে তরুণদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। বড় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা ছাড়াও প্রযুক্তি ও নিজস্ব মেধাকে কাজে লাগিয়ে গবেষণায় যুক্ত হওয়ার তাঁর প্রচেষ্টা নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থী ও তরুণ গবেষকদের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হতে পারে।
তবে গবেষণায় উপস্থাপিত নতুন বৈজ্ঞানিক দাবির গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণে স্বাধীন বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন, সমকক্ষ পর্যালোচনা এবং গবেষণার ফলাফল পুনরুৎপাদনের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ। কোনো গবেষণাপত্র ওপেন-অ্যাক্সেস প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত বা তালিকাভুক্ত হওয়া নিজেই বৈজ্ঞানিক সত্যতার চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। গবেষণার ফল ও পদ্ধতির গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনাই গুরুত্বপূর্ণ।
ময়মনসিংহের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসে নিজস্ব উদ্যোগে আন্তর্জাতিক গবেষণা পরিসরে কাজ উপস্থাপনের চেষ্টা মাহমুদুল হাসানের জন্য যেমন একটি ব্যক্তিগত অর্জন, তেমনি স্থানীয় তরুণদের গবেষণা ও উদ্ভাবনের প্রতি আগ্রহী করে তোলার ক্ষেত্রেও তা ভূমিকা রাখতে পারে।
স্টাফ রিপোর্টার 






















