বাংলাদেশের টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং বিদ্যুৎ খাতে বৈপ্লবিক রূপান্তরের লক্ষ্যে রুফটপ সোলার (ছাদ সৌরবিদ্যুৎ) প্রযুক্তিকে দ্রুত জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণার জোর দাবি উঠেছে ময়মনসিংহে। নাগরিক সমাজ ও কমিউনিটি প্রতিনিধিরা বলছেন, অব্যবহৃত ছাদই হতে পারে দেশের জ্বালানি সংকট উত্তরণের বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন কার্যালয় প্রাঙ্গণে অন্যচিত্র ফাউন্ডেশন, প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-ময়মনসিংহ (FED-Mymensingh), ক্লিন, বিডাব্লিউজিইডি এবং স্থানীয় কমিউনিটি প্ল্যাটফর্মসমূহের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল মোবিলাইজেশন কর্মসূচিতে বক্তারা এসব দাবি তুলে ধরেন।
সমাবেশে স্থানীয় সাংবাদিক, যুব প্রতিনিধি, নারী নেত্রী ও পরিবেশ আন্দোলনের কর্মীরা অংশ নিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির পক্ষে সংহতি প্রকাশ করেন।
প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-ময়মনসিংহ (FED-Mymensingh)-এর নেতৃবৃন্দ বক্তব্যে বলেন, দেশের বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যয়বহুল ও আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যা বর্তমানে জাতীয় অর্থনীতির ওপর বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তাদের ভাষ্য, রুফটপ সোলার একটি পরিচ্ছন্ন, সহজলভ্য ও তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল সমাধান হওয়া সত্ত্বেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না। এটি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি নয়, বরং সাধারণ মানুষের জন্য “জ্বালানি গণতন্ত্র” প্রতিষ্ঠার সুযোগ।
বক্তারা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, স্কুল, হাসপাতাল ও গ্রামীণ বাজারের বিশাল অব্যবহৃত ছাদকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনতে পারলে স্থানীয় পর্যায় থেকেই জ্বালানি বিপ্লবের সূচনা সম্ভব।
সমাবেশে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশের গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে বিপুল পরিমাণ ছাদ অব্যবহৃত পড়ে আছে। সেখানে পরিকল্পিতভাবে সৌর প্যানেল স্থাপন করলে জাতীয় গ্রিডের ওপর লোড-শেডিংয়ের চাপ কমবে এবং আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির নির্ভরতা হ্রাস পাবে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষাও নিশ্চিত হবে।
এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ টেকনিশিয়ান ও উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থানের নতুন বাজার সৃষ্টি হবে। নারী ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য কমিউনিটি ভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা একটি সাশ্রয়ী ও ন্যায্য জ্বালানি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে বলেও মত দেন বক্তারা।
কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনের কাছে পাঁচ দফা দাবি পেশ করেন। দাবিগুলো হলো– ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি কর্পোরেশন পর্যন্ত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে রুফটপ সোলার সম্প্রসারণে সুনির্দিষ্ট নীতিগত ও আর্থিক বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে, প্রতিটি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ভবনের ছাদে বাধ্যতামূলকভাবে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে, সাধারণ মানুষের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে, জ্বালানি রূপান্তর প্রক্রিয়ায় নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং জীবাশ্ম জ্বালানি ভিত্তিক পরিবেশবিধ্বংসী মেগা প্রকল্পের পরিবর্তে স্থানীয়ভাবে বাস্তবায়নযোগ্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির রোডম্যাপ গ্রহণ করতে হবে।
বক্তারা সতর্ক করে বলেন, স্থানীয় সরকারকে সম্পৃক্ত না করে কেন্দ্রীয়ভাবে নেওয়া পরিকল্পনা টেকসই হবে না। এখনই রুফটপ সোলারকে জাতীয় অগ্রাধিকার না দিলে দেশ পুনরায় ব্যয়বহুল ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর জ্বালানি সংকটে নিমজ্জিত হতে পারে।
সমাবেশ থেকে দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন শুরু করার আহ্বান জানানো হয়।
শাহ্ নাফিউল্লাহ সৈকত 





















