রমজান মাসের বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত (শুক্রবার রাত) অত্যন্ত বরকতময় ও ফজিলতপূর্ণ রাত। এ রাতে দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক। এমনিতেই রমজানের প্রতিটি রাতই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু শুক্রবারের রাতে ইবাদাতের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে।
আত্মশুদ্ধির মাস পবিত্র মাহে রমজানে ইবাদত করলে সওয়াব বেশি। রমজানে ইবাদত সম্পর্কে আবু হুরাইরাহ (র.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, প্রত্যেক আদম সন্তান ভালো কাজের প্রতিদান দশ থেকে সাত শ গুণ বেশি পাবে। রোজা আল্লাহর জন্য। আল্লাহ নিজেই এর প্রতিদান দেবেন। (মুসলিম, হাদিস : ২৭০৭)
নবি (স.) অন্য এক হাদিসে এরশাদ করেছেন, যে দিনগুলোতে সূর্য উদিত হয়, ওই দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। ওই দিন হজরত আদমকে (আ.) সৃষ্টি করা হয়েছে। ওই দিন তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয় এবং ওই দিনই তাকে জান্নাত থেকে বের করে দেওয়া হয়। আর ওই দিনই কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে। (মুসলিম, হাদিস : ৮৫৪)
তিনি আরও বলেছেন, মহান আল্লাহর কাছে জুমার দিনটি ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল-আজহার দিনের মতো শ্রেষ্ঠ দিন। এ দিনটি আল্লাহর কাছে অতি মর্যাদাসম্পন্ন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১০৮৪)
জুমার দিন দোয়া কবুল হওয়ার প্রসঙ্গে নবি (স.) আরও এরশাদ করেছেন, জুমার দিন দোয়া কবুল হওয়ার একটি সময় আছে, কোনো মুসলিম যদি সেই সময়টা পায়, আর তখন যদি সে নামাজে থাকে, তাহলে তার যেকোনো কল্যাণ কামনা আল্লাহ পূরণ করেন। (বুখারি, হাদিস : ৬৪০০)
সওয়াব বৃদ্ধি: রমজানের শুক্রবারগুলো বিশেষ বরকতময়। রমজানে প্রতি নফল ইবাদতের সওয়াব ফরজের সমান, ফরজ ইবাদত ফরজের সমান, তাই শুক্রবার রাতের ইবাদতের ফজিলত বহুগুণ বেড়ে যায়। জুমার রাত থেকে জুমার দিন পর্যন্ত ইবাদত, কুরআন তিলাওয়াত ও জিকিরে মগ্ন থাকা উত্তম।
দরুদ পাঠের সওয়াব: এ রাতে নবি (স.)-এর প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।
লাইলাতুল কদরের নির্দিষ্ট কোনো তারিখ নেই। অনেকেই মনে করেন ২৭ রমজানই লাইলাতুল কদরের রাত। আসলে এ ধারণাটি সঠিক নয়। রাসুলুল্লাহ (স.) কখনো বলেননি যে, ২৭ রমজানের রাত কদরের রাত। রাসূল (সা.) বলেন, শবে কদরকে নির্দিষ্ট না করার কারণ হচ্ছে যাতে বান্দা কেবল একটি রাত জাগরণ ও কিয়াম করেই যেন ক্ষ্যান্ত না হয়ে যায় এবং সেই রাতের ফজিলতের উপর নির্ভর করে অন্য রাতের ইবাদত ত্যাগ করে না বসে।

ডেস্ক রিপোর্ট 


























