০২:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সচিবের ব্যাংক লেনদেন তদন্তে দুদকের অভিযান

 

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তথ্য পাচারের এক মামলার আসামি হয়েও সচিব পদে নিয়োগ পাওয়া এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অস্বাভাবিক ব্যাংক লেনদেনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে। এ অভিযানে রাজধানীর তিনটি ব্যাংক শাখা থেকে সংশ্লিষ্ট আর্থিক তথ্য ও নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়।

 

দুদক সূত্র জানায়, অভিযানে ব্র্যাক ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক এবং ডাচ-বাংলা ব্যাংকের নির্দিষ্ট শাখায় হঠাৎ প্রবেশ করে কর্মকর্তারা বিপুল পরিমাণ নথি জব্দ করেন। এর মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবের মালিকানা যাচাই, চেকবই ব্যবহারের তথ্য, লেনদেনের পরিমাণ ও সময়কাল সম্পর্কিত কাগজপত্র। পাশাপাশি, গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্র, ঠিকানা ও চুক্তিপত্রের কপি সংগ্রহ করা হয়েছে।

 

তদন্ত কর্মকর্তাদের দাবি, উক্ত সচিবের নামে ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শতকোটি টাকার আর্থিক লেনদেন হয়েছে, যা স্বাভাবিক আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সন্দেহজনক এ কার্যক্রমের উৎস ও গন্তব্য নিশ্চিত করতে প্রতিটি ব্যাংক শাখাকে চাহিদাপত্র (ডিমান্ড নোটিশ) প্রদান করা হয়েছে। অভিযানের সময় ব্যাংক কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও মৌখিক তথ্য নেওয়া হয়।

 

দুদক বলছে, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করা হবে এবং সেটি কমিশনে দাখিল করা হবে। পরবর্তীতে এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে। এ ঘটনায় আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও আলোচনার ঝড় শুরু হয়েছে।

 

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মামলার আসামি হয়েও উচ্চপদে নিয়োগ পাওয়া একটি বড় ধরনের প্রশাসনিক ত্রুটি। এ ধরনের ঘটনা শুধু দুর্নীতিকে উৎসাহিত করে না, বরং সাধারণ মানুষের আস্থাও নষ্ট করে। তাই অবিলম্বে তদন্ত শেষ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

 

দুদকের এই অভিযানকে অনেকেই ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, প্রমাণ সংগ্রহ থেকে শুরু করে হিসাব যাচাই পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ যথাযথভাবে সম্পন্ন হলে দুর্নীতির শিকড় চিহ্নিত করা সহজ হবে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বাকৃবির শহীদ শামসুল হক হলে বৃক্ষরোপণ

প্রবাসে মৃত্যুর ২৭ দিন পর তথ্য প্রতিমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় মরদেহ ফিরল দেশে

07 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

সচিবের ব্যাংক লেনদেন তদন্তে দুদকের অভিযান

পোষ্টের সময় : ১২:২১:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তথ্য পাচারের এক মামলার আসামি হয়েও সচিব পদে নিয়োগ পাওয়া এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অস্বাভাবিক ব্যাংক লেনদেনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে। এ অভিযানে রাজধানীর তিনটি ব্যাংক শাখা থেকে সংশ্লিষ্ট আর্থিক তথ্য ও নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়।

 

দুদক সূত্র জানায়, অভিযানে ব্র্যাক ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক এবং ডাচ-বাংলা ব্যাংকের নির্দিষ্ট শাখায় হঠাৎ প্রবেশ করে কর্মকর্তারা বিপুল পরিমাণ নথি জব্দ করেন। এর মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবের মালিকানা যাচাই, চেকবই ব্যবহারের তথ্য, লেনদেনের পরিমাণ ও সময়কাল সম্পর্কিত কাগজপত্র। পাশাপাশি, গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্র, ঠিকানা ও চুক্তিপত্রের কপি সংগ্রহ করা হয়েছে।

 

তদন্ত কর্মকর্তাদের দাবি, উক্ত সচিবের নামে ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শতকোটি টাকার আর্থিক লেনদেন হয়েছে, যা স্বাভাবিক আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সন্দেহজনক এ কার্যক্রমের উৎস ও গন্তব্য নিশ্চিত করতে প্রতিটি ব্যাংক শাখাকে চাহিদাপত্র (ডিমান্ড নোটিশ) প্রদান করা হয়েছে। অভিযানের সময় ব্যাংক কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও মৌখিক তথ্য নেওয়া হয়।

 

দুদক বলছে, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করা হবে এবং সেটি কমিশনে দাখিল করা হবে। পরবর্তীতে এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে। এ ঘটনায় আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও আলোচনার ঝড় শুরু হয়েছে।

 

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মামলার আসামি হয়েও উচ্চপদে নিয়োগ পাওয়া একটি বড় ধরনের প্রশাসনিক ত্রুটি। এ ধরনের ঘটনা শুধু দুর্নীতিকে উৎসাহিত করে না, বরং সাধারণ মানুষের আস্থাও নষ্ট করে। তাই অবিলম্বে তদন্ত শেষ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

 

দুদকের এই অভিযানকে অনেকেই ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, প্রমাণ সংগ্রহ থেকে শুরু করে হিসাব যাচাই পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ যথাযথভাবে সম্পন্ন হলে দুর্নীতির শিকড় চিহ্নিত করা সহজ হবে।

 

Share this news as a Photo Card